AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Toxic Movie: যৌনতা, রক্ত, যশের ‘টক্সিক’, সত্যিই কি বক্স অফিসে ঝড় তোলার মতো ছবি?

Toxic Box Office: সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে শুধুই মনে থাকছে, পর্দা জুড়ে সেই রক্ত মাখানো ফ্রেম কিংবা যৌনতা ভরা নায়ক-নায়িকার প্রেম! কিন্তু এসব উপাদানে কি সত্য়িই বক্স অফিসে ঝড় উঠছে, নাকি শুধুই পিআর স্টান্ট! সত্য়িই কি বক্স অফিসে ঝড় তোলার মতো ছবি টক্সিক? যৌনতা ও অ্য়াকশনের কাছে কি চিত্রনাট্য হেরে যাবে?

Toxic Movie: যৌনতা, রক্ত, যশের 'টক্সিক', সত্যিই কি বক্স অফিসে ঝড় তোলার মতো ছবি?
| Updated on: Aug 28, 2026 | 12:42 PM
Share

আলফা মেল! হ্য়াঁ, রণবীর কাপুরের অ্যানিম্যাল ছবির পর থেকে এই শব্দের সঙ্গে এখন প্রায় পরিচিত সবাই। সঙ্গে যোগ হয়েছে টক্সিক পুরুষত্ব। পেশিবহুল চেহারা, অগোছালো সাজ, ডাকাবুকো, প্রাণ হারানোর ভয় ছাড়া অলটাইম অ্য়াকশনের জন্য় তৈরি। রক্ত, ব্যথা, এসব তো একেবারেই সেই পুরুষের হাতের ময়লা। কয়েক বছর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এই টক্সিক ঝড় ইতিমধ্য়েই বাজার কাঁপাচ্ছে। সেই দক্ষিণী সিনে পরিচালক সন্দীপের বলিউড এন্ট্রি রণবীরের অ্যানিম্যাল। তারপর কয়েক মাস আগেই বলিউড দেখেছে আদিত্য ধর ও রণবীর সিংয়ের অ্য়াকশন প্যাকড ধুরন্ধর। মোটামুটি গত কয়েক বছরের বলিউড বক্স অফিস দেখলে ধরা পড়ে টক্সিক ট্রেন্ডই হিট হওয়ার ফমূর্লা। কিন্তু অতিরিক্ত যৌনতা, অতিরিক্ত অ্য়াকশন, রক্তকে সামনে রেখে, সিনেমার মূল ভিত্তি গল্প কিন্তু এই প্রতিটি ছবির ক্ষেত্রে হারিয়ে যাচ্ছে। সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে শুধুই মনে থাকছে, পর্দা জুড়ে সেই রক্ত মাখানো ফ্রেম কিংবা যৌনতা ভরা নায়ক-নায়িকার প্রেম! কিন্তু এসব উপাদানে কি সত্য়িই বক্স অফিসে ঝড় উঠছে, নাকি শুধুই পিআর স্টান্ট! সত্য়িই কি বক্স অফিসে ঝড় তোলার মতো ছবি টক্সিক? যৌনতা ও অ্য়াকশনের কাছে কি চিত্রনাট্য হেরে যাবে?

টক্সিক কেমন সিনেমা তা নিয়ে কিছু বলার আগে, এই ছবি নিয়ে নতুন খবরটা ছুঁয়ে দেখা যাক। ২৬ অগাস্ট মুক্তি পায় যশের টক্সিক। ছবি মুক্তির পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যায় সিনেমা হলে যশ অনুরাগীদের উচ্ছ্বাসের দৃশ্য। ফিল্ম ক্রিটিকরা মনে করছেন, ইদানিং ছবি হিট করানোর নেপথ্য়ে এই উচ্ছ্বাস ভিডিয়ো কিন্তু অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। যশের টক্সিকের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু এরই মাঝে হঠাৎই নানা ইউটিউবারদের নেগেটিভ রিভিউয়ের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই, নড়েচড়ে বসল টক্সিক টিম। বেছে বেছে ইউটিউবারদের সনাক্ত করে, নেগেটিভ রিভিউ মুছে দেওয়ার নির্দেশ নাকি দিয়েছে এই ছবির টিম। অন্তত, অভিযোগ তেমনই। ছবি যদি ভালো হয়, তাহলে এমন পদক্ষেপের কী দরকার প্রশ্ন ঘুরছে সোশাল মিডিয়ায়।

কেমন ছবি ‘টক্সিক’?

যশের কাহিনির বিন্যাস নিয়ে যথাসম্ভব কম বলাই শ্রেয়, কারণ ট্রেলারই অনেক কিছু স্পষ্ট করে দিয়েছে। ছবিতে রায়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন যশ, যে চরিত্রটি সংঘাত ও হিংস্রতার সঙ্গে বেশ সাবলীল। শৈশব থেকে তাকে আগলে রাখা বোন গঙ্গা (নয়নতারা) তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তার লক্ষ্য গোটা বিশ্ব শাসন করে ‘সিকন্দার’ হয়ে ওঠা।

রায়ার অন্ধকার জগতে একে একে প্রবেশ ঘটে সালভাদোর (ড্যারেল ডি’সিলভা), তার প্রেমিকা (হুমা কুরেশি) এবং তার ভাইয়ের (অক্ষয় ওবেরয়)। সালভাদোরের অন্যতম আস্থাভাজন প্রতিনিধি রায়া। এর মধ্যেই উঠে আসে সালভাদোরের কন্যা রেবেকার (তারা সুতারিয়া) প্রসঙ্গ, যার সঙ্গে রায়ার বিয়ে দিতে চায় সে। তবে গল্পের আসল মোড় ঘোরে সার্কাস পরিচালনাকারী ‘জলপরী’ নাদিয়ার (কিয়ারা আদভানি) আগমনে। রায়া ও নাদিয়ার মধ্যে তীব্র প্রেম গড়ে ওঠে, আর তার পরই হাজির হয় সেই চেনা ‘অধরা প্রেম’ এবং তার সঙ্গে যুক্ত সব নাটকীয়তা।

এর বেশি বললে স্পয়লারের ঝুঁকি থেকে যায়। তবে দর্শকরা ট্রেলারে যশের যে দ্বিতীয় অবতারের ঝলক দেখেছেন, তা-ই ছবির মূল আকর্ষণ। প্রথমার্ধ কিছুটা দীর্ঘ মনে হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে যশের এই চরিত্রটিই গল্পকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

ছবিটির মূল চালিকাশক্তি অবশ্যই যশ। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি ঢেকে রাখা কঠিন এবং ‘টক্সিক’ নির্মাতারা তাঁর এই জনপ্রিয় ভাবমূর্তির সদ্ব্যবহার করেছেন। তিনি এখানে এমন এক বেপরোয়া পুরুষ, যার নীতি-নৈতিকতার বালাই নেই এবং মৃত্যুকে যে খেলাচ্ছলে তুচ্ছ করতে পারে।

সিগারেট ধরানোর প্রতিটি দৃশ্যে তিনি অনবদ্য—উড়ন্ত স্ফুলিঙ্গ, জামার হাতায় আগুন আর স্লো-মোশনের ক্যারিশমা দর্শকদের নজর কাড়তে বাধ্য। নায়ককে চরম ‘ম্যাচো’ অবতারে উপস্থাপন করতে পরিচালক গীতু মোহনদাস তাঁকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন।

তবে রায়ার চরিত্রের আরেকটি দিকও আছে। নিজের অপরাধবোধ তাকে ভেতরে ভেতরে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়—যেন ম্যাকবেথের মতো এক চেতনা, যেখানে সে বোঝে তার হিংস্রতার পরিণতি একদিন তাকে গ্রাস করবে। এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জায়গাটিতে যশ তাঁর অভিনয়ের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর দ্বিতীয় ভূমিকাটিও ঠিক ততটাই ভয়ংকর ও প্রতাপশালী।

কিয়ারা আদভানিও শোকে ব্যাকুল এক নারীর চরিত্রে যথেষ্ট নজর কেড়েছেন। নদিয়ার অতীত ইতিহাস বিশদে দেখানো না হলেও, তার চরিত্রের জটিলতা তুলে ধরতে তিনি সংযত ও সূক্ষ্ম অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন।

অন্যদিকে নয়নতারা, তারা সুতারিয়া, হুমা কুরেশি এবং অক্ষয় ওবেরয়ের স্ক্রিন টাইম কিছুটা সীমিত হলেও সবাই নিজের জায়গায় সফল। বিশেষ করে অ্যাকশন অবতারে নয়নতারাকে দেখতে চমৎকার লাগে, যদিও চিত্রনাট্যে তাঁর জন্য আরও কিছু সুযোগ থাকলে ভালো হতো।

টক্সিক’ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার একটি বড় কারণ এর নির্মাণশৈলী। একজন নারী পরিচালকের কাছ থেকে নারীদের উপস্থাপন ও দৃষ্টিভঙ্গিতে যে সংবেদনশীলতা আশা করা যায়, এই ছবিতে তা কিছুটা অনুপস্থিত। পুরো ছবিটি মূলত ‘মেল গেইজ’ বা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই নির্মিত। নারী চরিত্রগুলোকে অধিকাংশ সময়ই কেবল আকর্ষণীয় অনুষঙ্গ বা প্রধান পুরুষ চরিত্রের পরিপূরক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

নির্মাতা হিসেবে গীতু মোহনদাস তাঁর দর্শকদের চাহিদা বোঝেন, কিন্তু সব মিলিয়ে ছবিটিকে গীতু মোহনদাসের চেয়ে ‘যশের ছবি’ বলেই বেশি মনে হয়।

একই কথা প্রযোজ্য ছবিতে দেখানো রক্তারক্তি ও হিংস্রতার ক্ষেত্রেও। কাটা মাথা, শাওয়ারে ঝুলন্ত লাশ কিংবা শুভেচ্ছা হিসেবে কেটে রাখা হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো দৃশ্যগুলো কোনো সূক্ষ্মতার ধার ধারে না। স্কেল বিশাল হলেও কিছু সিজিআই (CGI) দৃশ্য কৃত্রিম ঠেকে, যা সংঘাতের তীব্রতাকে খানিকটা কমিয়ে দেয়।

ছবির সংলাপগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রতিটি বাক্যই প্রেক্ষাগৃহে সিটি বা করতালি আদায় করতে পারে। বলা বাহুল্য, সেই কৌশল কাজও করেছে; সিনেমা হলের দর্শক এই দৃশ্যগুলোতে মেতে উঠেছেন। তবুও প্রশ্ন ওঠে, শুধু অ্য়াকশন ভরা ফ্রেম কি একটি ছবির চালিকা শক্তি হতে পারে? গল্প বলে কি কিছুই থাকবে না!

Follow Us