পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণ! কীভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন সোনু নিগম?
এই পুরো ঘটনায় গায়কের পাশে ছিলেন পাকিস্তানি আয়োজক ফারকান টি সিদ্দিকি (Furqan T. Siddiqui)। দুর্ভাগ্যবশত, ফারকান গত বছরের মার্চ মাসে প্রয়াত হয়েছেন। সোনু জানালেন, সেই রাতের পর থেকে তাঁদের মধ্যে এক আত্মিক টান তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

২০০৪ সালের ১০ এপ্রিল। করাচির আকাশ-বাতাসে তখন বারুদের গন্ধ। মঞ্চে ওঠার কয়েক ঘণ্টা আগেই অনুষ্ঠানস্থলের অদূরেই ঘটে গিয়েছে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। রক্ত আর কান্নার শব্দে চারপাশ যখন থমথমে, ঠিক তখনই মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক ভারতীয় গায়ক। সামনে হাজার হাজার উৎকণ্ঠায় ভরা মুখ। ভয় ছিল, সংশয় ছিল, কিন্তু সব ছাপিয়ে সেদিন জয়ী হয়েছিল গান। সোনু নিগম সম্প্রতি সেই অভিশপ্ত রাতের স্মৃতি হাতড়ে এক আবেগঘন ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
ঘটনাটি দু’দশক আগের হলেও সোনুর স্মৃতিতে তা আজও টাটকা। একটি পুরনো ভিডিয়ো রিল শেয়ার করেছেন গায়কের এক পাকিস্তানি ভক্ত। সেই রিল শেয়ার করেই শিল্পী মনে করিয়ে দিলেন, কীভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। বিস্ফোরণের পর কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল পুরো এলাকা। পাকিস্তানের রেঞ্জার্সরা তাঁকে নিরাপত্তা দিচ্ছিলেন। সোনু দেখেন, প্রিয় গায়কের জন্য হাজার হাজার মানুষ তখনও অপেক্ষা করে আছেন। সেই দৃশ্য দেখেই সাহস ফিরে পেয়েছিলেন তিনি। মঞ্চে উঠেই দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, “এই সন্ধ্যায় আমি আপনাদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করব। আপনাদের তাড়া নেই তো?” সেই চরম আতঙ্কের মাঝেও সোনু মঞ্চে উঠে একের পর এক গেয়েছিলেন ‘কাল হো না হো’, ‘ম্যায় হুঁ না’ বা ‘বীর জারা’র মতো জনপ্রিয় সব গান। ‘সুরজ হুয়া মধ্যম’ যখন তিনি গাইছিলেন তখন করাচির শ্রোতারা ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলে গিয়েছিলেন তাঁদের চারপাশের অস্থিরময় পরিবেশের কথা।
View this post on Instagram
এই পুরো ঘটনায় গায়কের পাশে ছিলেন পাকিস্তানি আয়োজক ফারকান টি সিদ্দিকি (Furqan T. Siddiqui)। দুর্ভাগ্যবশত, ফারকান গত বছরের মার্চ মাসে প্রয়াত হয়েছেন। সোনু জানালেন, সেই রাতের পর থেকে তাঁদের মধ্যে এক আত্মিক টান তৈরি হয়ে গিয়েছিল। প্রতি বছর ১০ এপ্রিল এলেই একে অপরকে মেসেজ পাঠাতেন তাঁরা। সোনুর ভাষায়, “সেই দিন থেকে আমরা একে অপরের ভাই হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা মৃত্যুর মুখ থেকে একসঙ্গে বেঁচে ফিরেছি।” সোনু বলেছেন, “আক্রমণ তো ওখানেই হয়েছিল, কিন্তু আমাকে বাঁচিয়েছিলেন এক পাকিস্তানিই।”
