AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

রাত ৩টে বাজলেই কি হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাচ্ছে? রইল সমাধানের সহজ ৪টি উপায়

যাঁদের জীবন স্বাভাবিক ছন্দে চলে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি এতই ধীর গতিতে হয় যে ঘুম ভাঙে না। কিন্তু আপনি যদি প্রচণ্ড মানসিক চাপে বা স্ট্রেসের মধ্যে থাকেন, তবে এই কর্টিসলের মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। আর ঠিক তখনই আপনার মস্তিষ্ক পুরোপুরি সতর্ক হয়ে যায়, শুরু হয় দুশ্চিন্তা আর অহেতুক চিন্তার আনাগোনা। ফলে একবার ঘুম ভাঙলে আর ঘুম আসতে চায় না।

রাত ৩টে বাজলেই কি হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাচ্ছে? রইল সমাধানের সহজ ৪টি উপায়
| Edited By: | Updated on: Mar 06, 2026 | 7:27 PM
Share

মাঝরাত, চারপাশ নিস্তব্ধ। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক রাত ৩টে। হঠাৎই আপনার ঘুমটা ভেঙে গেল। দড়ফড় করে উঠে বসলেন বা বিছানায় শুয়ে ছটফট করতে থাকলেন, কিন্তু কিছুতেই আর দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ৩টেয় ঘুম ভাঙা নিয়ে অনেক গা ছমছমে বা অলৌকিক গল্প চালু আছে। তবে ভয় পাবেন না, এর পিছনে কোনও ভূতপ্রেত নয়, বরং লুকিয়ে আছে বিজ্ঞান!

কেন ঠিক এই সময়েই ঘুম ভেঙে যায়?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডক্টর ক্রিস্টোফার জে অ্যালেন সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এই রহস্যের সমাধান করেছেন। তাঁর মতে, আমাদের শরীর সকালের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে রাত ২টো থেকে ৪টের মধ্যে ‘কর্টিসল’ (Cortisol) নামক একটি হরমোন নিঃসরণ শুরু করে। এটি আসলে শরীরকে সারাদিনের জন্য তৈরি করার একটি প্রাকৃতিক সংকেত।

তবে যাঁদের জীবন স্বাভাবিক ছন্দে চলে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি এতই ধীর গতিতে হয় যে ঘুম ভাঙে না। কিন্তু আপনি যদি প্রচণ্ড মানসিক চাপে বা স্ট্রেসের মধ্যে থাকেন, তবে এই কর্টিসলের মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। আর ঠিক তখনই আপনার মস্তিষ্ক পুরোপুরি সতর্ক হয়ে যায়, শুরু হয় দুশ্চিন্তা আর অহেতুক চিন্তার আনাগোনা। ফলে একবার ঘুম ভাঙলে আর ঘুম আসতে চায় না।

কীভাবে এই সমস্যা থেকে বাঁচবেন?

বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ না করে এই সহজ টোটকাগুলো মেনে দেখতে পারেন:

ঘুম ভাঙলেই অবলীলায় বালিশের তলা থেকে ফোনটা বার করে স্ক্রল করতে শুরু করেন অনেকে। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। ফোনের নীল আলো ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ তৈরিতে বাধা দেয়। তাই মাঝরাতে ফোন ধরা একদমই উচিত নয়।

যদি শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজনও হয়, চেষ্টা করুন খুব মৃদু আলো ব্যবহার করতে। চড়া আলো চোখের মণির মাধ্যমে মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায় যে সকাল হয়ে গিয়েছে। অন্ধকার বা আবছা আলো শরীরকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে।

ডক্টর অ্যালেন একটি চমৎকার টোটকা দিয়েছেন। নাক দিয়ে ৪ গুনতে গুনতে শ্বাস নিন, আর মুখ দিয়ে ৬ গুনতে গুনতে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এই ছোট্ট ব্যায়ামটি আপনার স্নায়ুকে শান্ত করবে ফলে আপনি আবার ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন।

‘পাবমেড সেন্ট্রাল’-এর গবেষণা বলছে, হালকা গান বা ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক মনকে শান্ত করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। তবে তা যেন আপনার পছন্দের হয়। মৃদু স্বরে কোনও রিল্যাক্সিং মিউজিক চালিয়ে দিলে মন শান্ত হবে এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন।

সুতরাং, মাঝরাতে ঘুম ভাঙা মানেই ভয়ের কিছু নেই। একটু নিয়ম মেনে চললেই আবার শান্তির ঘুম ঘুমনো সম্ভব।