Papiya Adhikari: ‘মিঠুনদার সঙ্গে কথা বলব’, ফেডারেশনের ভোটের মধ্যেই কেন বললেন পাপিয়া?
Tollywood Federation Election: টলিপাড়ায় ফেডারেশনের ভোট নিয়ে নিজের মতামত জানালেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি, সকলের কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিঠুন চক্রবর্তী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিশেষ কমিটি গঠনের আর্জি জানালেন তিনি।

টলিপাড়ায় এখন ভোটের হাওয়া। রাজ্যের পালাবদলের পর টলিউডে অবসান হয়েছে স্বরূপ বিশ্বাস জমানার। এবার নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে টলিপাড়ার কলাকুশলীদের কাজের সুরক্ষা নিয়ে মুখ খুললেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তাঁর কথায় উঠে এল নির্বাচন, নমিনেশন এবং মিঠুন চক্রবর্তীর প্রসঙ্গ।
কী বলেছেন তিনি?
এর আগে পুরনো ব্যবস্থা ভেঙে নতুন কনফেডারেশন (EIMPCC) গড়ার কথা বলেছিলেন পাপিয়া। ভোটের মাঝে এই বিষয়ে কথা উঠলে গতকাল পাপিয়া বলেন এই বিষয়ে মিঠুন চক্রবর্তীকে তিনি ঠিকমত বোঝাতে পারেননি। তার উত্তরে মিঠুন বলেন, তিনি কি বাচ্চা যে কিছু বুঝতে পারবেন না? তাহলে কি দুজনের মধ্যে কোনও যোগাযোগের অভাব হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে পাপিয়া পরিষ্কার জানান, “আমি কথা বলে নেব মিঠুনদার সঙ্গে।” পাপিয়া জানান, তিনি কনফেডারেশন নামের একটি সংগঠন তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এই কনফেডারেশন বহু আগে তৈরি করেছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল এবং জর্জ বেকার। তাঁকে সেটি চালু করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত হয়, সকলে কাজ করবেন, তাই অন্য কোনও সংগঠনের প্রয়োজন নেই।
টলিপাড়ায় ভোট করানোর ক্ষেত্রে মিঠুন চক্রবর্তীর ভূমিকার প্রশংসা করলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ত্রুটি নিয়ে কথা বলেছেন পাপিয়া। তাঁর কথায়, “মিঠুনদা সামনে দাঁড়িয়ে ইলেকশান তো করিয়ে দিল, কিন্তু ভোট করার প্রসেসটায় কিছু গোলমাল আছে, সেটা জেনে বুঝেই করা হচ্ছে কারণ ভোট দরকার ছিল।” নমিনেশন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নমিনেশন বা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মিঠুন দা এখানের কিছু মানুষকে চেনেন না, তারা যদি আবার কোনও পুরনো অত্যাচার শুরু করেন তাহলে টালিগঞ্জের বিধায়ক হিসাবে আমাকেই তাদের উত্তর দিতে হবে, তাই আমি এই সময় বেশ সতর্ক থাকব।” সবার কাজের অধিকার সুনিশ্চিত করতে তাঁর প্রস্তাব, “মিঠুনদার কাছে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আমি অনুরোধ করব একটা কমিটি অন্তত করতে হবে সবাই যাতে কাজ পায় সেটা দেখার জন্য।”
আগের ফেডারেশনের কাজের তীব্র সমালোচনা শোনা গিয়েছে পাপিয়ার গলায়। তিনি একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। পাপিয়া বলেন, “বাইরে থেকে এসে দৃশ্যম ৩-এর প্রোডিউসার আমাকে নিজে বলেছেন আমরা এখানে শুটিং করতে এসেছিলাম কলকাতায় খুব একটা সুবিধা পায়নি।”
পাপিয়া তাঁদের জানান, আগে যাঁরা প্রাক্তন ফেডারেশনে ছিলেন, তাঁরা সিনেমার ‘সি’-ও বুঝতেন না। সেই কারণেই টলিউডে সিনেমার সংখ্যা মাত্র ২০টিতে এসে ঠেকেছে। বাধ্য হয়ে এখানকার নায়কদের নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস খুলতে হয়েছে। পাপিয়ার কথায়, “নায়কদের তো মানুষ দেখতে চায় তাই ওদের ধন্যবাদ জানাই যে ওঁরা এর মধ্যেও কাজ করে গিয়েছেন।”
তবে কাজ থেকে কারও নাম বাদ যাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন মিঠুন। পাপিয়া জানান, মিঠুন চক্রবর্তী তাঁকে কথা দিয়েছেন। নির্বাচনের পরেই সকলকে নিয়ে তিনি বসবেন এবং কারও নাম বাদ যাবে না। মিঠুন চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে সকলে যদি কাজ পান, তবে সেটিই সবচেয়ে ভালো দিক বলে মনে করেন পাপিয়া। নমিনেশনের বিষয়টি আগামী দিনে কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।
