প্রাণ বেরিয়েছিল বেলা ১.২০তে, দু’বছর পর অভিষেকের মৃত্যুবার্ষিকীতে যা ঘটল, শরীরে কাঁটা দিল তাঁর স্ত্রী সংযুক্তার শরীরে
Sanjukta Chattopadhyay: মৃত স্বামীর স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রীর সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায় এবং কন্যা ডল। দু'বছর হল অভিষেক মারা গিয়েছেন। রবিবার (২৪ মার্চ, ২০২৪) ছিল তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এ দিনটা কীভাবে কাটালেন সংযুক্তা এবং তাঁর কন্যা ডল? মুম্বই থেকে ফোনে কথা বললেন TV9 বাংলার সঙ্গে।

২৪ মার্চ। ২০২২ সাল। হঠাৎই দুপুরবেলা খবর আসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের। যে অভিষেক নব্বইয়ের দশকে দাপিয়ে অভিনয় করেছিলেন সিনেমার পর্দায়। যে অভিষেককে ব্রেক দিয়েছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক তরুণ মজুমদার। সেই অভিষেক হঠাৎই চলে যান না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬। এটা তো চলে যাওয়ার বয়স না সত্যি! তারপর থেকে তাঁর স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রীর সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায় এবং কন্যা ডল। দু’বছর হল অভিষেক মারা গিয়েছেন। রবিবার (২৪ মার্চ, ২০২৪) ছিল তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এ দিনটা কীভাবে কাটালেন সংযুক্তা এবং তাঁর কন্যা ডল? মুম্বই থেকে ফোনে কথা বললেন TV9 বাংলার সঙ্গে।
দীর্ঘদিন মুম্বইয়ে কাটিয়েছেন সংযুক্তা। সেখানে কর্মরত ছিলেন। কর্পোরেট সেক্টরে উচ্চপদে চাকরি করেন সংযুক্তা। মুম্বই শহরটা তাঁর খুবই চেনা। তিনি আবার সাঁইবাবার ভক্ত। স্বামীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে সিড়ডিতে গিয়েছিলেন সাইবাবার মন্দিরে। সেখানে যাওয়ার সময় এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে অভিনেতা পত্নীর সঙ্গে। সংযুক্তা বলেছেন, “আপনারা এ কথা জানেন যে, আমি মনে করি না আমার স্বামী গত হয়েছে। অভিষেক আমাকে এবং আমাদের কন্যা ডলকে ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে গিয়েছেন শারীরিকভাবে। তিনি দেহত্যাগ করেছেন ঠিকই, কিন্তু আমরা প্রতি মুহূর্তে তাঁর উপস্থিতি টের পাই আমাদের জীবনে। জানেন কি আশ্চর্য কথা, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরবেলা ঠিক ০১.২০ মিনিটে অভিষেক শেষবারের জন্য পৃথিবীর বুকে নিঃশ্বাস নিয়েছিলেন। তারপরই ওর প্রাণটা বেরিয়ে যায়। আর আজকে আমি সিড়ডিতে পৌঁছেছি ঠিক ১.২০তেই। আশ্চর্য না? আমার সারা শরীরে কাঁটা দিচ্ছে সেই সেই…”
সংযুক্তা জানিয়েছিলেন, মুম্বই থেকে তাঁদের সিড়ডি পৌঁছানোর কথা ছিল সন্ধ্যা ৬টার সময়। কিন্তু রাস্তা অদ্ভুতভাবে ফাঁকা ছিল, যেটা সাধারণত হয় না। দুপুর ০১.২০ নাগাদ তাঁরা সিড়ডি পৌঁছে যান।
২৫ মার্চ, সোমবার আবার দোল। এই দিনটাও সিড়ডিচেই কাটাচ্ছেন সংযুক্তারা। তারপর ফিরবেন মুম্বইয়ে। এখন বেশ কিছু দিন মুম্বইতেই থাকছেন তাঁরা। অভিষেক চাইতেন তাঁর কন্যার ডল বলিউডে নয়, বলিউডের অভিনেত্রী হওয়ার চেষ্টা করুক। ডলেরও তাই ইচ্ছে। যদিও সংযুক্তা বলেছেন, “পুরোটাই সময়ের ব্যাপার। এখন আপাতত মন দিয়ে পড়াশোনাটা শেষ করুক। তারপর পরের কথা পরে দেখা যাবে।”
কলকাতার এক আন্তর্জাতিক স্কুলে পড়ে ডল। সে বেশ মেধাবী। অসময়ে বাবাকে হারিয়ে অনেক অল্প বয়সেই অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছে সে। মাকে ভাল রাখার দায়িত্ব এখন তাঁরই।
