শাহরুখ-সলমন কখনই বন্ধু নয়! কেন এমন কথা বলেছিলেন সেলিম খান?
ছেলের এই বিবাদ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছিলেন সেলিম খান। তিনি বলেছিলেন যে, দু’জন বড় তারকার মধ্যে সৌজন্য থাকতে পারে, কিন্তু গভীর বন্ধুত্ব হওয়া কঠিন। তাঁর কথায়, “সবাই বলছে ওদের ১৮ বছরের বন্ধুত্ব ভেঙে গিয়েছে। কিসের বন্ধুত্ব? দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে সৌজন্য থাকতে পারে- হ্যালো, কেমন আছো, কী করছ- এই পর্যন্তই।

বলিউড মানেই কঠিন প্রতিযোগিতার লড়াই। এক পক্ষ অপর পক্ষকে টক্কর দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই চলতেই থাকে। আর যখন লড়াইটা হয় ইন্ডাস্ট্রির দুই ‘টাইটান’ শাহরুখ খান এবং সলমন খানের মধ্যে, তখন তা নিছক বিবাদ থাকে না, হয়ে ওঠে জাতীয় চর্চার বিষয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর একে অপরের মুখ দেখেননি তাঁরা। কিন্তু কেন এই দূরত্ব? সলমন খানের বাবা, কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার সেলিম খান একবার এই সম্পর্ক নিয়ে এমন এক সত্য তুলে ধরেছিলেন, যা আজও ভোলেননি অনেকেই। তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন ছিল-“প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে কি আদোতেও বন্ধুত্ব হওয়া সম্ভব?”
ঘটনাটি ২০০৮ সালের ১৬ জুলাইয়ের। ক্যাটরিনা কাইফের জন্মদিনের পার্টিতে মুম্বইয়ের এক রেস্তোরাঁয় চাঁদের হাট বসেছিল। সেখানেই বিবাদে জড়ান দুই খান। শোনা যায়, সলমন তাঁর ছবি ‘ম্যায় অর মিসেস খান’-এ শাহরুখের ক্যামিও করতে রাজি না হওয়া নিয়ে খোঁচা দিয়েছিলেন। পালটা শাহরুখও নাকি সলমনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে, হাতাহাতির উপক্রম হয়। সেই রাত থেকেই শুরু হয় বলিউডের এক দীর্ঘ ‘শীতল যুদ্ধ’।
ছেলের এই বিবাদ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছিলেন সেলিম খান। তিনি বলেছিলেন যে, দু’জন বড় তারকার মধ্যে সৌজন্য থাকতে পারে, কিন্তু গভীর বন্ধুত্ব হওয়া কঠিন। তাঁর কথায়, “সবাই বলছে ওদের ১৮ বছরের বন্ধুত্ব ভেঙে গিয়েছে। কিসের বন্ধুত্ব? দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে সৌজন্য থাকতে পারে- হ্যালো, কেমন আছো, কী করছ- এই পর্যন্তই। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কি ভালোবাসা বা গভীর বন্ধুত্ব থাকা সম্ভব?” তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, পেশাগত প্রতিযোগিতার জায়গায় ব্যক্তিগত আবেগ অনেক সময় গৌণ হয়ে যায়।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০১৩ সালে বিধায়ক বাবা সিদ্দিকির ইফতার পার্টিতে দেখা হয় দু’জনের। সেখানেই সেলিম খানের পাশে বসেছিলেন শাহরুখ। সলমন এগিয়ে আসতেই উঠে দাঁড়ান কিং খান। সবার সামনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন তাঁরা। সেই একটি আলিঙ্গনেই শেষ হয় দীর্ঘদিনের স্তব্ধতা। এরপর থেকে তাঁদের সমীকরণ আমূল বদলে গিয়েছে। ‘জিরো’ বা ‘পাঠান’-এর মতো ছবিতে একে অপরের জন্য পর্দায় হাজির হয়েছেন তাঁরা।
তবে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা সবথেকে বেশি বোঝা গিয়েছিল ২০২১ সালে, যখন শাহরুখের ছেলে আরিয়ান খান মাদক মামলায় গ্রেফতার হন। সেই কঠিন সময়ে আরিয়ান যখন জেলে, তখন লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে মন্নতে সবার আগে ছুটে গিয়েছিলেন সলমন খান। এমনকি সেলিম খানও শাহরুখের পাশে দাঁড়াতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। যে সেলিম খান একসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলেছিলেন, সময়ের সঙ্গে সেই লড়াই বোধহয় এক গভীর পারিবারিক বন্ধনে পরিণত হয়েছে। পর্দার ‘করণ-অর্জুন’ বাস্তবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিবাদ থাকলেও বিপদে তাঁরা একে অপরের ছায়াসঙ্গী।
