AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

গাড়ির উল্টো দিকে বসলেই বমি? জেনে নিন কেন এমন হয় আর বাঁচার উপায়ই বা কী

মস্তিষ্ক সবসময় চায় যেদিকে যাওয়া হচ্ছে, চোখ আর কান যেন সেই একই সংকেত পাঠায়। আপনি যখন যাতায়াতের পথের উল্টো দিকে মুখ করে বসেন, তখন আপনার চোখ দেখে যে রাস্তা বা দৃশ্যগুলো আপনার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু আপনার শরীরের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষা করার যন্ত্রগুলো (অন্তকর্ণ) অনুভব করে যে আপনি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

গাড়ির উল্টো দিকে বসলেই বমি? জেনে নিন কেন এমন হয় আর বাঁচার উপায়ই বা কী
| Updated on: Mar 27, 2026 | 3:55 PM
Share

বাস, ট্রেন বা গাড়ির জানালার ধারের সিট মানেই তো ভ্রমণের বাড়তি আনন্দ। কিন্তু সেই সিটটি যদি যাতায়াতের পথের উল্টো দিকে মুখ করে হয়, তবে অনেকের কাছেই সেই যাত্রা বিভীষিকায় পরিণত হয়। সোজা মুখে বসে যাঁদের তেমন সমস্যা হয় না, উল্টো দিকে বসলেই তাঁদের মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব কেন শুরু হয়? কেন এমনটা হয় এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। এর পিছনেও রয়েছে বিজ্ঞান।

কেন উল্টো দিকে বসলেই বাড়ে বিপদ?

মস্তিষ্ক সবসময় চায় যেদিকে যাওয়া হচ্ছে, চোখ আর কান যেন সেই একই সংকেত পাঠায়। আপনি যখন যাতায়াতের পথের উল্টো দিকে মুখ করে বসেন, তখন আপনার চোখ দেখে যে রাস্তা বা দৃশ্যগুলো আপনার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু আপনার শরীরের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষা করার যন্ত্রগুলো (অন্তকর্ণ) অনুভব করে যে আপনি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

এই যে উল্টো সংকেতের লড়াই—চোখ বলছে ‘পেছনের দিকে সরছি’ আর কান বলছে ‘সামনের দিকে যাচ্ছি’—এই বিভ্রান্তিই মোশন সিকনেসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। অনেকের মস্তিষ্ক এই তথ্যের অমিল সহ্য করতে পারে না, আর তার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয় প্রচণ্ড মাথাব্যথা আর বমি।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গতির অভিমুখে অর্থাৎ সোজা মুখ করে বসলে, মস্তিষ্ক আগে থেকেই অনুমান করতে পারে কখন গাড়িটি বাঁক নেবে বা কখন গতি বাড়বে। কিন্তু উল্টো দিকে বসলে মস্তিষ্ক এই আগাম আভাস পায় না। ফলে প্রতিটি ঝাঁকুনি বা মোড় ঘোরার সময় শরীর অপ্রস্তুত থাকে, যা স্নায়ুর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে পাহাড়ি রাস্তায় উল্টো দিকে মুখ করে বসলে এই সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

উল্টো সিটে বসতে হলে যা করবেন

পরিস্থিতির চাপে যদি উল্টো দিকের সিটেই বসতে হয়, তবে কিছু কৌশল মেনে চললে কষ্ট কিছুটা কমানো সম্ভব:

চোখ বন্ধ রাখুন: যদি দেখেন জানালার বাইরের দৃশ্য দেখে বেশি খারাপ লাগছে, তবে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঝিমিয়ে নিন। এতে চোখ থেকে মস্তিষ্কে ভুল সংকেত যাওয়া বন্ধ হবে। মাথা স্থির রাখুন: সিটের হেলান বা পিলোর সাহায্যে মাথা যতটা সম্ভব স্থির রাখার চেষ্টা করুন। মাথা যত কম নড়বে, কানের ভেতরের ভারসাম্য তত কম বিঘ্নিত হবে। মাঝখানের সিট বেছে নিন: ট্রেনের ক্ষেত্রে কামরার একদম মাঝখানের দিকে বসার চেষ্টা করুন, সেখানে ঝাঁকুনি তুলনামূলক কম অনুভূত হয়। গল্প বা গানে মন দিন: অন্য কোনও দিকে মনোযোগ ঘুরিয়ে দিন। কারোর সঙ্গে কথা বলুন বা প্রিয় কোনও গান শুনুন। তবে ভুলেও মোবাইল বা বইয়ের দিকে তাকাবেন না, তাতে হিতে বিপরীত হবে।

Follow Us