Fuel Emergency : বন্ধ হতে পারে অফিস, স্কুল! বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার পথে হেঁটে ফুয়েল এমার্জেন্সি ভারতেও?
Fuel Emergency in India : ইতিমধ্যেই ফুয়েল এমার্জেন্সির পথে হেঁটেছে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভূটান, ভিয়েতনাম নিউজ়িল্যান্ড। ফুয়েল এমার্জেন্সির পদক্ষেপ হিসেবে এই দেশগুলি ওয়ার্ক ফ্রম হোম, অনলাইনে পড়াশোনার উপর জোর দিয়েছে। কোথাও আবার সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভারতে কী কী পদক্ষেপ করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার?

নয়াদিল্লি : যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই। বাড়ছে উদ্বেগ। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এলপিজি সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বাকি দেশগুলির মতো ভারতেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। গ্য়াসের দাম বেড়েছে। দেশের অভ্যন্তরে তেল কতটা মজুত রয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। যদিও, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি ও তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু, তারপরেও উদ্বেগ কমছে না। এই আবহে একটা শব্দ বারাবার উঠে আসছে। ফুয়েল এমার্জেন্সি। জল্পনা চলছে যে কেন্দ্রীয় সরকার ফুয়েল এমার্জেন্সি চালু করতে পারে। ইতিমধ্যে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ এই পথে হেঁটেছে। এবার যদি সত্যিই জ্বালানি নিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার, তাহলে কী হতে পারে? ফুয়েল এমার্জেন্সি-তে কী করতে পারে সরকার?
ফুয়েল এমার্জেন্সি বা জ্বালানি জরুরি অবস্থা
যখন কোনও দেশে হঠাৎ করে জ্বালানির (যেমন পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস) ঘাটতি দেখা দেয়, সেইসময় এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। মূলত জ্বালানি কমে গেলে ও চাহিদা অনুযায়ী জোগান ব্যাহত হলেই জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেয়। আর জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিলে ফুয়েল এমার্জেন্সি ঘোষণা করে দেশ। তবে, এর আগে ভারতে ফুয়েল এমার্জেন্সি নিয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
কী কী কারণে ফুয়েল এমার্জেন্সি দেখা দিতে পারে?
যুদ্ধ ও সংঘর্ষ
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট বা ঘাটতি তৈরি হতে পারে। যেমন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। যার প্রভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বিভিন্ন দেশে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার কারণে তেল পরিশোধন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাপ্লাই চেইন সমস্যা
বন্দর, জাহাজ বা পরিবহন ব্যবস্থায় সমস্যা হলে জ্বালানি পৌঁছাতে দেরি হয়।
অতিরিক্ত চাহিদা
শিল্প উৎপাদন বেড়ে গেলে জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত
রাজনৈতিক কারণে কোনও নিষেধাজ্ঞা বা রপ্তানি-আমদানি নিয়ন্ত্রণের কারণে সংকট তৈরি হতে পারে।
ইতিমধ্যেই ফুয়েল এমার্জেন্সির পথে হেঁটেছে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভূটান, ভিয়েতনাম নিউজ়িল্যান্ড। ফুয়েল এমার্জেন্সির পদক্ষেপ হিসেবে এই দেশগুলি ওয়ার্ক ফ্রম হোম, অনলাইনে পড়াশোনার উপর জোর দিয়েছে। যেমন বাংলাদেশে খরচ কমাতে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি ভাষার স্কুল ও কোচিং সেন্টার বন্ধ করে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। সাধারণ গৃহস্থের বাড়িতে ৫ ঘন্টার লোডশেডিং ও পোশাক রফতানি খাতের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভিয়েতনামে সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় আবার জনগণের জন্য চালু করা হয়েছে জাতীয় জ্বালানি পাস।
ভারতে কী কী পদক্ষেপ করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার?
- জরুরি পরিষেবায় শুল্ক আরোপ
- গণ পরিবাহন ও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ
- বিদ্যুৎ ব্যবহারের সীমায় লাগাম
- পরিকল্পিত লোডশেডিং
- অফিসে কাজের সময় কমানো
- ওয়ার্ক ফ্রম হোমে জোর
- এলপিজি-র ব্যবহারে লাগাম
- স্কুলে অনলাইনে পড়াশোনায় জোর
- বিলাসিতার জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস
- গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ আনা হবে
ফুয়েল এমার্জেন্সির সঙ্গেই এনার্জি লকডাউন শব্দটাও উঠে আসছে আলোচনায়। দু’টো শব্দ আলাদা হলেও কার্যকরণ একই। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, এনার্জি লকডাউনের সম্ভাবনা নেই। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “ভারতে লকডাউন হওয়ার জল্পনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি স্পষ্ট করে বলছি, এমন কোনও প্রস্তাব পরিকল্পনা করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। এই সময়ে আমাদের শান্ত থাকা, দায়িত্বশীল থাকা এবং একজোট থাকা গুরুত্বপূর্ণ।” এবার সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সব মহল।
