Govt of India: করের টাকায় নয়, ‘সেলফ-ফাইন্যান্সিং’ মডেলে খোলনলচে বদলাচ্ছে দিল্লির ৭টি সরকারি আবাসনের
Delhi: এই কলোনিগুলির অনেক কোয়ার্টার অত্যন্ত পুরনো। বসবাসের জন্য একেবারে বিপজ্জনক হয়েও দাঁড়ায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, প্রায় ৪০ শতাংশ কোয়ার্টারকেই বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বাসস্থানের ক্ষেত্রেও ২০ হাজারেরও বেশি বাড়ির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।

দিল্লি: ‘সেলফ-ফাইন্যান্সিং’ বা নিজস্ব অর্থায়ন মডেলে বড় চমক ভারত সরকারের। দিল্লির ৭টি পুরনো সরকারি আবাসন কলোনির পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে এই মডেলের হাত ধরেই। পুরো প্রকল্পে সরকারি রাজকোষ বা সাধারণ মানুষের করের এক পয়সাও খরচ করা হবে না। প্রায় ৫৩৭ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে দিল্লির ৭টি এলাকার মধ্যে রয়েছে সরোজিনী নগর, নেতাজি নগর, নওরোজি নগর, কস্তুরবা নগর, ত্যাগরাজ নগর, শ্রীনিবাসপুরী, মহম্মদপুর।
এই কলোনিগুলির অনেক কোয়ার্টার অত্যন্ত পুরনো। বসবাসের জন্য একেবারে বিপজ্জনক হয়েও দাঁড়ায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, প্রায় ৪০ শতাংশ কোয়ার্টারকেই বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বাসস্থানের ক্ষেত্রেও ২০ হাজারেরও বেশি বাড়ির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।
এখন পুরনো ও কম উচ্চতার (লো-রাইজ) ভবনগুলি ভেঙে সেখানে তৈরি হচ্ছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাযুক্ত বহুতল। উন্নত পরিকাঠামো এবং আধুনিক নাগরিক পরিষেবাসহ এই প্রকল্পটিতে ২১,০০০-এরও বেশি নতুন ফ্ল্যাট তৈরি করা হচ্ছে। জেনারেল পুল রেসিডেন্সিয়াল অ্যাকোমোডেশন (GPRA) পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২,৭২২টি নতুন ফ্ল্যাটের উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে তিনি সরোজিনী নগর, নেতাজি নগর, কস্তুরবা নগর এবং শ্রীনিবাসপুরীতে আরও ৬,৬৩২টি ফ্ল্যাটের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন বলে জানা যাচ্ছে।
কীভাবে কাজ করছে এই অভিনব আর্থিক মডেল?
এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণই হল এর স্বনির্ভরতা। করদাতাদের টাকার উপর নির্ভর করার বদলে সরকার মোট জমির একটি খুব ছোট অংশ মাত্র ১২.৯ শতাংশ বা ৬৯.৪১ একর বাণিজ্যিক এবং আবাসিক ব্যবহারের জন্য মনিটাইজ করবে। এই সীমিত পরিমাণ জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার বা ‘মনিটাইজেশন’ থেকেই প্রায় ৩৫,১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। পুরো পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ৩২,৮০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই আয় থেকেই পুরো প্রকল্পের খরচ অনায়াসে উঠে আসবে।
এর ফলে সরকারি বাজেটের ওপর যেমন কোনও চাপ পড়বে না, তেমনই খরচ বাদ দিয়েও সরকারের ঘরে ২,৩০০ কোটি টাকারও বেশি উদ্বৃত্ত জমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এককথায়, সরকারি পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী মডেল বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
