Abhishek Banerjee Delhi Trip: কুণাল তাঁর বিরুদ্ধে বলেছেন শুনেই দিল্লিতে মুখ খুললেন অভিষেক
Abhishek Banerjee On Kunal Ghosh: সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, চাটার্ড বিমান পর্ব নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই বিতর্কের উৎসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রতপন্থীরা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের তদন্ত দাবি করেছেন। এক্ষেত্রে বলে রাখা প্রয়োজন, ইতিমধ্যেই গত ১২ জুন তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবি জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস।

কলকাতা: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকের জন্য দিল্লি গিয়েছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ‘বাহন’ কী ছিল? অর্থাৎ কীসে দিল্লি গিয়েছেন অভিষেক? তা নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়। কেবল ঋতব্রতই নন, এই নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষও। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের টাকায় অভিষেক চার্টার্ড ফ্লাইটে গেলে তিনি সমর্থন করেন না। আর এই নিয়েই বিস্তর চর্চা। দিল্লিতেও এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় অভিষেককে।
জবাবে অভিষেক বললেন, “যাঁরা বলছেন, আমি কীসে আসছি, কীসে যাচ্ছি, কোথা থেকে নামছি, তাঁরা যদি লিখিত দিয়ে দেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইকোনমিক ক্লাসে যাবেন। আমার পাশে কেউ বসে, এটা আমার সঙ্গে অনেকবার হয়েছে। আমার লিগ্যাল ওপিনিয়ন নিয়ে এটা করা। কুণাল ঘোষ আমার সহকর্মী, উনি যদি আমার বিরুদ্ধে বলেন, আমি ওনার বিরুদ্ধে বলব না।”
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, চাটার্ড বিমান পর্ব নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই বিতর্কের উৎসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রতপন্থীরা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের তদন্ত দাবি করেছেন। এক্ষেত্রে বলে রাখা প্রয়োজন, ইতিমধ্যেই গত ১২ জুন তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবি জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। যদিও সেই চিঠি গৃহীত হয়নি। কারণ অরূপের অবস্থান নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ধন্দ তৈরি হতেই তাঁকে সরিয়ে গত ৫ জুনই কোষাধ্যক্ষ করা হয় শুভাশিস চক্রবর্তীকে। এই পরিস্থিতি ঋতব্রতরা ফের এই অ্যাকাউন্টের তদন্ত দাবি জানিয়েছেন। আর সেক্ষেত্রে বলতে গিয়ে ঋতব্রত বলেন, “এই যে টাকা…ধরুন এই যে চার্টার্ড ফ্লাইট …হয়তো এই টাকা থেকেই খরচ হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিধায়করা বিধাননগরে অভিযোগ দায়ের করেছি।” অর্থাৎ উঠে আসে অভিষেকের দিল্লি-যাত্রা প্রসঙ্গ।
আর তার উত্তর দিতে গিয়েই কুণাল বলেন, “যাত্রীবাহী সাধারণ বিমান, চার্টার্ড ফ্লাইট কিংবা বিশেষ বিমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়েছেন কি না আমি বলতে পারব না। এই বিষয়ে কথা বলার কেউ নই। কিন্তু, পার্টির খরচা করে কেউ যদি বিমান ভাড়া করে গিয়ে থাকে, তাহলে আমি সেটা কোনওমতে সমর্থন করছি না।”
সেক্ষেত্রে কুণালের বক্তব্য ‘অভিষেক-পন্থী’সুলভ নয়। সাম্প্রতিক অতীতেই দেখা গিয়েছে, কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই মতান্তরে জড়িয়েছিলেন কুণাল-অভিষেক। নেপথ্যে অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়! তাঁকে নিয়ে কুণালের সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্তব্য নিয়ে আপত্তি ছিল অভিষেকের। আর তা নিয়েই মতান্তর। এবার সেই অধ্যায়ে যোগ যুক্ত হল চাটার্ড বিমান প্রসঙ্গ।
