Vande Mataram: মাঝ পথে ‘বন্দে মাতরম’ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন সনিয়া গান্ধী? বিজেপি অভিযোগ তুলতেই কী সাফাই কংগ্রেসের?
Sonia Gandhi Vande Mataram Controversy: কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশের দাবি, সোনিয়া গান্ধী ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধা দেননি। বরং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের জন্য একটি চেয়ার আনার কথা বলছিলেন। বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল বলেও দাবি করেছেন তিনি।

নয়া দিল্লি: স্বাধীনতা দিবস (Independence Day) উপলক্ষে দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে (Delhi Congress Office) জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। আর সেই অনুষ্ঠানেই ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির অভিযোগ, অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) ও রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। এমনকী, গান থামানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে দাবি বিজেপির (BJP)। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য (Amit Malviya)। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছে কংগ্রেস (Congress)। দলের নেতা জয়রাম রমেশ বিজেপির অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
কী সাফাই কংগ্রেসের?
কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশের দাবি, সোনিয়া গান্ধী ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধা দেননি। বরং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের জন্য একটি চেয়ার আনার কথা বলছিলেন। বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল বলেও দাবি করেছেন তিনি। কংগ্রেসের বক্তব্য, অনুষ্ঠানে নতুন আইনের নিয়ম মেনেই সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়েছে। কেউ গান থামানোর চেষ্টা করেননি। দলের আরেক নেতা পবন খেরা-ও দাবি করেছেন, কংগ্রেস সদর দফতরের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ চলাকালীন কোনও ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়নি।
অমিত মালব্যর পোস্ট
এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন অমিত মালব্য। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বন্দেমাতরমের মাঝে সনিয়া গান্ধী হাত দিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে কিছু বলছেন। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, স্বাধীনতা দিবসে প্রথমবার কংগ্রেস সদর দফতরে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়। অভিযোগ, ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম স্তবকগুলি গাওয়ার পর সনিয়া গান্ধী দৃশ্যত উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পুরো গান পরিবেশন না করে তা থামিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। রাহুল গান্ধীকেও গানটি শেষ করার ইঙ্গিত দিতে দেখা যায়। তবে তাঁদের জানানো হয়, গানটি সম্পূর্ণ পরিবেশন করতে দেওয়া হবে।
বার্তাটি স্পষ্ট। নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে ‘বন্দে মাতরম’-কে সম্মান জানানো এখন বাধ্যতামূলক। ইচ্ছাকৃতভাবে এর পরিবেশনে বাধা দেওয়া বা বিঘ্ন ঘটালে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাওয়া হয়।
বন্দে মাতরম-এর নতুন আইন কী?
চলতি বাদল অধিবেশনে সংসদে প্রিভেনশনস অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনর (সংশোধনী) বিল,২০২৬ পাশ হয়েছে। ২৯ জুলাই রাজ্যসভা এবং ৩০ জুলাই লোকসভায় বিলটি অনুমোদিত হয়। পরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতিও মেলে। নতুন আইনে ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা রক্ষায় অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় গানের অপমান করা বা তার পরিবেশনে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কেন সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে এত আলোচনা?
‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্র নতুন প্রোটোকলও জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুলে এতদিন প্রচলিত প্রথম দুই স্তবকের পরিবর্তে ছয়টি স্তবক অর্থাৎ সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ গানটির সময় প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। এবার লালকেল্লায় জাতীয় সঙ্গীতের আগে পরিবেশিত হয়েছে বন্দে মাতরম।
