AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Richest Candidate in Election: লোকসভা ভোটে সবথেকে ধনী প্রার্থী, তবু সারল্যে ভরা প্রচার পল্লবী ডেম্পোর

Lok Sabha Election: ৪৯ বছর বয়সি পল্লবী ডেম্পো দেশের সবথেকে ধনী লোকসভা ভোটের প্রার্থী। তাঁর স্বামী ডেম্পো গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাস। স্বামী ও তাঁর মিলিয়ে ডেম্পোর মোট সম্পত্তি ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তাছাড়া পল্লবীই হলেন গোয়া থেকে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রথম কোনও মহিলা প্রার্থী।

Richest Candidate in Election: লোকসভা ভোটে সবথেকে ধনী প্রার্থী, তবু সারল্যে ভরা প্রচার পল্লবী ডেম্পোর
ভোটের প্রচারে পল্লবী ডেম্পোImage Credit: TV9 Bangla
| Updated on: May 01, 2024 | 11:28 PM
Share

কিরন ডি তারে

পানাজি: দক্ষিণ গোয়ার কুয়েপেম তালুকার একটি ছোট্ট গ্রাম গুড়ি পরোদা। লোকসভা ভোটের কোটিপতি বিজেপি প্রার্থী পল্লবী ডেম্পোর সারল্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন সেই গ্রামের আম জনতা। টয়োটা ইনোভায় চেপে স্থানীয় পঞ্চায়েতের হল ঘরে পৌঁছান ডেম্পো। তিনি ছিলেন গাড়ির পিছনের সিটে। পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা অনেক কাগজপত্র। ভোটের প্রচার সভার ফাঁকেই নিজের অফিসের কাজকর্ম সেরে নিচ্ছেন তিনি। আর তাঁর মহিলা সেক্রেটারি বসে ছিলেন সামনের সিটে। ড্রাইভারের পাশের আসনে।

পরনে হলুদ শাড়ি। কালো ব্লাউজ। গলায় একটা লম্বা মঙ্গলসূত্র। কপালে কুমকুম। চুলে সাদা ফুলের মালা। দু’হাতে একটা করে সোনালি চুড়ি। শাড়ির আঁচল কাঁধের পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে রাখা। একেবারে গোয়ান হিন্দু সংস্কৃতি যেমন হয়। ৪৯ বছর বয়সি পল্লবী ডেম্পো দেশের সবথেকে ধনী লোকসভা ভোটের প্রার্থী। তাঁর স্বামী ডেম্পো গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাস। স্বামী ও তাঁর মিলিয়ে ডেম্পোর মোট সম্পত্তি ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তাছাড়া পল্লবীই হলেন গোয়া থেকে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রথম কোনও মহিলা প্রার্থী।

গোয়ার অন্যতম সম্ভ্রান্ত শিল্পপতি পরিবার হল ডেম্পোরা। তাদের শিপিং থেকে শুরু করে মিডিয়া, ফুটবল, শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ রয়েছে তাদের। পাশাপাশি বিভিন্ন চ্যারিটির কাজও করে ডেম্পো গ্রুপ। সেই ডেম্পো পরিবারে পল্লবীর ঝুলিতে রয়েছে বিসনেস ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রি। পুনের মহারাষ্ট্র ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে বিসনেস ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। মিডিয়া, রিয়েল এস্টেট, শিক্ষা ও ডেম্পোদের চ্যারিটির বিভিন্ন কাজকর্মের দেখভাল করেতন পল্লবী।

‘দিল্লিতে কণ্ঠস্বর’

প্রচার সভায় পল্লবী ডেম্পো তাঁর বক্তব্য শুরু করলেন একেবারে খাঁটি কোঙ্কনি ভাষায়। পল্লবী রাজনীতিতে নবাগত। তবে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের বিষয়ে ভালই তথ্য রয়েছে তাঁর কাছে। তাঁর এলাকায় কোন সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি, তাও যথেষ্ট বোঝেন। এখানে ২৪ শতাংশ ভোটার রয়েছেন, যাঁরা ক্যাথলিক। পল্লবী বললেন, ‘আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে, আমরা কখনোই ধর্মের ভিত্তিতে পড়ুয়াদের মধ্যে বৈষম্য বা ভাগাভাগি করি না। আমরা দরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদেরও আর্থিক সাহায্য করি।’

প্রচার সভায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট বেশি। সেই মহিলাদের মন জেতারও চেষ্টা দেখা গেল বিজেপি প্রার্থীর গলায়। বললেন, ‘আমি বিজেপির প্রথম মহিলা প্রার্থী। আপনারাই আমাকে বলুন, এমন কোনও কাজ কি আছে, যা পুরুষরা করতে পারে, কিন্তু মহিলারা পারে না?’ তিনি যখন এই প্রশ্ন করছেন, তখন সামনে বসে থাকা ভিড়ের মধ্যে শুধুই করতালি। খুব লম্বা-চওড়া বক্তব্য নয়। খুব বেশি হয় মিনিট পাঁচেকের বক্তব্য রাখেন পল্লবী। তার মধ্য়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। ভোটারদের কাছে বার্তা দেন, ফের একবার মোদীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য। নিজের সম্পর্কে বললেন শুধু একটাই কথা, ‘আমি শুধু একটাই কথা বলতে পারি, আমি দিল্লিতে আপনাদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠব।’

প্রার্থী বাছাইয়ে চমক

দক্ষিণ গোয়া লোকসভা আসনের জন্য পল্লবী ডেম্পোকে বেছে নেওয়া বিজেপির অনেক কর্মীকে অবাক করেছে। প্রাক্তন সাংসদ নরেন্দ্র সাওয়াইকর, প্রাক্তন বিধায়ক চন্দ্রকান্ত কুভালেকারের মতো রাজনীতিকদের বদলে ভোট ময়দানে নামানো হয়েছে তাঁকে। উল্লেখ্য, অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল পল্লবী ও শ্রীনিবাসকে। ইঙ্গিত সেখান থেকেই মিলেছিল যে তাঁদের দু’জনের মধ্যে থেকে কাউকে ভোটের প্রার্থী করা হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত অবশ্য বলেছেন, দক্ষিণ গোয়া আসনের জন্য পল্লবী ডেম্পোকে বেছে নেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘বিরোধীরা বলে তিনি বহিরাগত। কিন্তু তিনি এই মাটিরই মেয়ে। তিনি দক্ষিণ গোয়াতেই বড় হয়েছেন। তিনি জিতলে দক্ষিণ গোয়ার মানুষ একজন শিক্ষিত ও নম্র জনপ্রতিনিধি পাবে।’

ভোট রাজনীতির চড়াই-উতরাই

দক্ষিণ গোয়া লোকসভা আসন বিজেপির জন্য বরাবরই একটি চ্যালেঞ্জের আসন। ২০০৯ সালে এবং ২০১৪ সালে মাত্র দু’বার এই লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছে বিজেপি। ১৯৬২ সাল থেকে কংগ্রেস ১০ বার এই দক্ষিণ গোয়া থেকে সাংসদ পেয়েছে। এবারের ভোটে কংগ্রেসের টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন নৌসেনার প্রাক্তন অফিসার ক্যাপ্টেন ভিরিয়াটো ফার্নান্ডেজ। আম আদমি পার্টিও তাঁকে সমর্থন দিচ্ছে সেখানে।

মারগাও, পোন্ডা, কুয়েপেম, কানাকোনার মতো অঞ্চলগুলি মূলত হিন্দু অধ্যুষিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডেম্পোর জয়ের সম্ভাবনা অনেকটা নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ভোটারদের উপর। পল্লবী ডেম্পো সারস্বত সম্প্রদায়ের একজন। ফলে শ্রীনিবাসদের সঙ্গে যোগ থাকা প্রভাবশালী গৌড়পদাচার্য মঠের থেকেও সমর্থন পেতে পারেন তিনি। উল্লেখ্য, সারস্বত সম্প্রদায় এই মঠকে ভীষণভাবে মেনে চলে। দক্ষিণ গোয়ায় সবথেকে বেশি জায়গা জুড়ে রয়েছে এই সারস্বত সম্প্রদায়ই।

এক বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা যেমন বলেই দিয়েছেন, “তারা অবশ্যই পল্লবী ডেম্পোকে সমর্থনের জন্য বার্তা দিতে পারেন। আমরা আমাদের ক্যাথলিক বিধায়কদের স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি, পল্লবীর জন্য ভোট ময়দানে ঘাম ঝরিয়ে দিতে হবে। পল্লবীর জয়ের উপরেই নির্ভর করছে, নেতারা দলে কতটা জায়গা পাবেন।”

তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয় হল, ডেম্পোর সমর্থনে প্রচারে বেরিয়েছেন নাগাল্যান্ডের প্রথম মহিলা রাজ্যসভার সাংসদ এস ফাঙ্গনন কোনিয়াক। ডেম্পোর সঙ্গে ভোটের প্রচারসভায় গিয়েছিলেন তিনি। ক্যাথলিক ভোটারদের কাছে টানতে ডেম্পোও ভোটারদের সঙ্গে ফাঙ্গননের পরিচয় করিয়ে দেন। রাজ্যসভার একজন ক্যাথলিক সদস্য হিসেবে।

Follow Us