Rahul Gandhi: ‘সমকক্ষ হিসাবে কথা বলুন, চাকর হিসাবে নয়’, ইন্ডিয়া জোট ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি করলে কেমন হত, বললেন রাহুল
Rahul Gandhi on India-US Trade Deal: রাহুল আরও বলেন, "ট্রাম্পকে আমরা বলতাম যে আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইলে সমকক্ষ হিসাবে আচরণ করুন। পাকিস্তানের সমকক্ষ হিসাবে আমাদের সঙ্গে ব্যবহার করবেন না। যদি পাকিস্তানের সেনা প্রধানের সঙ্গে ব্রেকফাস্টের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে আমাদেরও কিছু বলার থাকবে।"

নয়া দিল্লি: সংসদে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। ভারত-আমেরিকা চুক্তি নিয়ে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই বার্তা দিলেন কংগ্রেস সাংসদ। বললেন, বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেন ভারতকে সমকক্ষ বলে গণ্য করে, চাকর হিসাবে নয়।
বাজেট অধিবেশনে ভারত-আমেরিকা চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী। মার্শাল আর্ট, জুজুৎসুর উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন বাণিজ্য চুক্তিতে কার হাতে ক্ষমতা থাকা উচিত। রাহুলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত ঠিক করতে দিয়েছে।
এ দিন কংগ্রেস সাংসদ কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, “সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যুদ্ধের যুগ শেষ। কিন্তু আমরা অস্থিরতার সময়ে প্রবেশ করছি। ইউক্রেনে যুদ্ধ হচ্ছে, ভারত অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়েছে। আমেরিকার সুপার পাওয়ার-কে চ্যালেঞ্জ করছে চিন। আমাদের ক্ষমতা হল আমাদের জনসংখ্যা। এটা সবথেকে বড় শক্তি। সবাই এআই নিয়ে কথা বলছে। ডেটা হল সম্পদ। এআই-র জন্য পেট্রোল হল ডেটা। ভারতের দ্বিতীয় ক্ষমতা হল খাদ্য। আমাদের কৃষকরা, শ্রমিকরা খাদ্য উৎপাদন করছে। আধুনিক দেশ চালাতে তৃতীয় শক্তি হল এনার্জি বা শক্তি। ডলারকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সোনা-রুপোর দাম বাড়ছে। সবাই দেখছে, কিন্তু বাজেটে এটার কোনও উল্লেখ নেই।”
এরপরই তিনি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গে আসেন। তিনি বলেন, “চিন ও আমেরিকার মধ্যে সবথেকে বড় সম্পদ হল ভারতীয় ডেটা। আমেরিকা সুপার পাওয়ার থাকতে চাইলে, নিজেদের ডলার রক্ষা করতে চাইলে ভারতীয় ডেটার দরকার। আমেরিকা, ইউরোপের ডেটা মিলিয়েও চিনের ডেটার সমান হবে না। আমাদের কাছে সেই ক্ষমতা আছে। ভারতের জনসংখ্যা দুর্বলতা নয়, সবথেকে বড় শক্তি। কিন্তু ইন্ডিয়া জোট যদি এই চুক্তি করত, তাহলে প্রথমেই আমরা ভারতীয় ডেটার কথা বলতাম। আমরা বলতাম যে আপনার ডলার রক্ষা করতে গেলে, তার প্রধান সম্পদই ভারতের হাতে রয়েছে। দ্বিতীয় কথা বলতাম যে এই ডেটা পেতে চাইলে আমরা বলতাম যে যদি ভারতীয় ডেটা পেতে চাইলে আমাদের সঙ্গে সমান হিসাবে আচরণ করুন, কথা বলুন, আপনাদের চাকর হিসাবে নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটা বুঝে নিন যে আমাদের এনার্জি সিকিউরিটি আমাদেরই। আমরা তা যেভাবে সম্ভব রক্ষা করব। তৃতীয় কথা বলতাম যে আপনি (ট্রাম্প) যেমন নিজেদের কৃষকদের রক্ষা করবেন, তেমনই আমরাও আমাদের কৃষকদের রক্ষা করব।”
রাহুল আরও বলেন, “ট্রাম্পকে আমরা বলতাম যে আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইলে সমকক্ষ হিসাবে আচরণ করুন। পাকিস্তানের সমকক্ষ হিসাবে আমাদের সঙ্গে ব্যবহার করবেন না। যদি পাকিস্তানের সেনা প্রধানের সঙ্গে ব্রেকফাস্টের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে আমাদেরও কিছু বলার থাকবে।”
ভারত-আমেরিকার চুক্তিতে কী কী খামতি রয়েছে, তার উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, “প্রথম, আমাদের ডিজিটাল ট্রেড রুলসের উপরে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়, ডেটা লোকালাইজেশন নিয়ে কোনও চুক্তি হয়নি। তৃতীয়, আমেরিকার জন্য ফ্রি ডেটা ফ্লো-র ব্য়বস্থা করা হয়েছে। চতুর্থ, ডিজিটাল ট্যাক্সে সীমা এবং পঞ্চমত, সোর্স কোড প্রকাশ করার কোনও প্রয়োজন নেই। ২০ বছর ধরে ফ্রি-তে ট্যাক্স হলিডের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।”
ট্যারিফ বা শুল্ক নিয়ে রাহুল বলেন, “প্রথমে গড়ে ৩ শতাংশ শুল্ক ছিল। এখন সেটা বেড়ে ১৮ শতাংশ হয়েছে। আমেরিকার থেকে ভারতে আমদানি ৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৪৬ বিলিয়ন ডলার করা হবে। আমেরিকা তো আমাদের এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী মোদী বোঝেন যে আমাদের সবথেকে বড় শক্তি হল মানবশক্তি। বাংলাদেশে সুতো আমদানিতে শুল্ক শূন্য করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে আমাদের শুল্ক ১৮ শতাংশ। আমেরিকা ঠিক করে দেবে আমরা কাদের কাছ থেকে তেল কিনব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন না। ওরা নজর রাখবে। যাদের আমেরিকার পছন্দ নয়, ভারত এমন কারোর কাছ থেকে তেল কিনলে, ওরা আমাদের শাস্তি দেবে। মকাই, সোয়াবিন, লাল কাপাস নিয়ে আমেরিকার জন্য দরজা খুলে দিয়েছেন। কোনও প্রধানমন্ত্রী এটা করেননি এবং করবেন না। আমেরিকাকে আমাদের অস্ত্র আমাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে দিলেন? ভূ-রাজনীতি চলছে, আমাদের ডেটাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
