তৃণমূল ভেঙে NCPI তৈরি হল! এবার কি ভাঙছে NCPI-ও?
NCPI-NDA Rift: এনসিপিআই তো এনডিএ-কেই সমর্থন করছে! নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মুর্শিদাবাদের সাংসদ বলেন, "কে সমর্থন করছে, কে সমর্থন করছে না, আমরা বলতে পারব না। আমরা সমর্থন করছি না। আমরা এনসিপিআই-তে আছি, এনসিপিআই-তে থাকব। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব।"

নয়া দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এনসিপিআই(NCPI)-র তিন মুসলিম সাংসদ। তারপরও কি তাঁদের মন গলল না? এনসিপিআই-র তিন মুসলিম সাংসদকে নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে যোগ দিলেও, এনডিএ-র সঙ্গে নেই তারা, ফের একবার স্পষ্ট করে দিলেন এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের (Abu Taher)। এনসিপিআই-তে থাকলেও, ধর্মীয় স্বার্থে আঘাত লাগলে প্রতিবাদ হবে বলে জানান তিনি।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবু তাহের বলেন, “এনডিএ যদি বিজেপিতে মিশে যায়, আমরা যেতে পারব না। আমরা বিজেপি করব না। যেহেতু এনসিপিআই আলাদাভাবে গঠন করা হয়েছে, আমরা এনসিপিআই-তে রয়েছি। যদি সেখানেও আমাদের ধর্মীয় কোনও বিষয় থাকে, যদি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার, তাহলে সেখানেও আমরা বিরোধিতা করব। কোনওমতেই সমর্থন করব না।”
এনডিএ-তে নেই, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে কেন গিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে আবু তাহের বলেন, “আমরা এনসিপিআই। এনডিএ-র বিষয়ে তো নেই। এনসিপিআই সাংসদদের ডাকা হয়েছিল। এনসিপিআই-র হয়ে আমরা গিয়েছিলাম, এনসিপিআই-র হয়ে বক্তব্য রেখেছি। আমাদের অন্য বক্তব্য নেই।”
কিন্তু এনসিপিআই তো এনডিএ-কেই সমর্থন করছে! নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মুর্শিদাবাদের সাংসদ বলেন, “কে সমর্থন করছে, কে সমর্থন করছে না, আমরা বলতে পারব না। আমরা সমর্থন করছি না। আমরা এনসিপিআই-তে আছি, এনসিপিআই-তে থাকব। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যদি একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা তাঁর প্রতিবাদ করব।”
এদিকে, এনসিপিআই-র আরেক সাংসদ তথা দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধের প্রসঙ্গ কার্যত এড়িয়েই বলেন, “এনডিএ তো পরিবারের মতো, যা আরও বড় হচ্ছে। এই শক্তির ভারটাকে ধরে রাখতে হবে। সেটা আগেও আমাকে বলেছিলেন, আজও বললেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী মোদী) আজ বলেছেন যে আমি যে সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী রয়েছি, ততদিনে ব্রিটেনে আটবার প্রধানমন্ত্রী বদলে গিয়েছে। দেশের মানুষ স্থিতিশীলতা চায়।”
অন্যদিকে, এনসিপিআই-র এই বিরোধ থেকে দূরত্ব রাখছে বিজেপি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এটা আমার সিলেবাসের বিষয় নয়। এনসিপিআই একটা দল। তৃণমূল নির্মূল হয়ে যাওয়ার পর ২০ জন সাংসদ মিলে এই দল তৈরি করেছেন। সেখানে কেউ বিরোধী হয়ে গেলে, তা দেখার বিষয় এনসিপিআই-র, বিজেপির নয়। আমি শুধু বলতে পারি যে দেশে তুঘলকের শাসন নেই। এটা বাবরের সরকার নয়, এটা শিবাজি মহারাজের সরকার। তাই এটা নিয়ে ভাবুন, বুঝুন আর এই চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে যা রাজনীতি করার করুন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, এনসিপিআই-র এই তিন সাংসদ জল মাপছেন। তারা যে আসন থেকে সাংসদ, তা এখনও মুসলিম অধ্যুষিত। তাই বিজেপির প্রতি ছুৎমার্গ এখনও রয়ে গিয়েছে।
