Physically harassed: শিক্ষকের হাতে ‘ধর্ষিতা’, পুলিশ হওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করল কিশোরী
Physically harassed: এই ঘটনার পর পিসির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছে কিশোরী। পিসির দুই মেয়েও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিশোরীর পিসেমশাই বলেন, "আমরা চাই না আত্মীয়-স্বজন ও অন্যরা রোজ এসে তাকে নিয়ে আলোচনা করুক।"

গান্ধীনগর: স্কুলের অনুষ্ঠানে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ নিয়ে ক্লাস টেনের ছাত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করেছিল সকলে। কয়েকদিন পর সেই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য হুমকিও দেন অভিযুক্ত শিক্ষক। হুমকিতে ভয় না পেয়ে ওই ছাত্রী পুলিশে অভিযোগ জানায়। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি গুজরাটের সবরকাঁথার।
অভিযোগ, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বছর তেত্রিশের অভিযুক্ত শিক্ষক। নিজের জন্মদিন পালনের কথা বলে ছাত্রীকে হোটেলে নিয়ে যান। নির্যাতনের কথা কাউকে বললে বোর্ডের পরীক্ষায় ছাত্রীকে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কিশোরীর বোর্ডের পরীক্ষা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্যাতিতা কিশোরী পড়াশোনায় কতটা মন বসাতে পারবে, তা নিয়ে চিন্তায় ছিল পরিবার। কিন্তু, কিশোরীর মনের জোর দেখে সবাই অবাক হয়ে যান।
যৌথ পরিবারে বেড়ে উঠেছে ওই কিশোরী। তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। এই ঘটনার পর পিসির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছে কিশোরী। পিসির দুই মেয়েও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিশোরীর পিসেমশাই বলেন, “আমরা চাই না আত্মীয়-স্বজন ও অন্যরা রোজ এসে তাকে নিয়ে আলোচনা করুক।” পিসির দুই মেয়ে সবসময় ওই কিশোরীর সঙ্গে থাকছে এবং সাহস জোগাচ্ছে। পিসেমশাই বলেন, “পড়াশোনায় তার উৎসাহ এবং মনোযোগ দেখে আমরা গর্বিত। যেকোনও পরিস্থিতিতে আমরা তার সঙ্গে রয়েছি।”
ওই কিশোরীর বাবা-মা কৃষিজমিতে কাজ করেন। সে জানিয়েছে, “আমি সবসময় পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। বিজ্ঞান ও অঙ্ক আমার প্রিয় বিষয়। আমার বোর্ডের রেজাল্ট দেখার পরই ভাবব কী নিয়ে পড়াশোনা করব।”
বছর পনেরোর ওই কিশোরী গত ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে স্কুলে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ নিয়ে বক্তব্য রেখেছিল। তার সেই বক্তব্য সকলের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। এবার তার সাহস ও পড়াশোনার প্রতি জেদ দেখে অভিভূত স্কুলের প্রিন্সিপালও।

