Cough Syrup: আর কেনা যাবে না কাশির ওষুধ, মানতে হবে এই নিয়ম, বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
Cough Syrup Sale Rules India: সম্প্রতি দেশে ভেজাল কাশির সিরাপ খেয়ে বহু শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় ভেজাল সিরাপ খেয়ে অন্তত ২২ জন শিশুর মৃত্যু হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র।

নয়া দিল্লি: কাশির সিরাপ (Cough Syrup) বিক্রিতে এবার কড়াকড়ি কেন্দ্রের। পেসক্রিপশন (Pescription) ছাড়া আর কেনা যাবে না কোনও সিরাপ। বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের। ওষুধ বিক্রির নিয়মে সংশোধন এনে কাশির সিরাপকে ‘সিডিউল K’ (Schedule K) তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতদিন এই তালিকাভুক্ত ওষুধগুলি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন (Cough Syrup Presciption) ছাড়াই কেনা যেত। তবে কাশির লজেন্স, ট্যাবলেট বা পিল এখনও এই তালিকায় থাকছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই বিষয়ে খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত নেওয়ার পর অবশেষে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সম্প্রতি দেশে ভেজাল কাশির সিরাপ খেয়ে বহু শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় ভেজাল সিরাপ খেয়ে অন্তত ২২ জন শিশুর মৃত্যু হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র।গত বছরের নভেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ড্রাগ কনসালটেটিভ কমিটির (DCC) বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা মত দেন যে কাশির সিরাপ বিক্রিতে আর শিথিলতা রাখা যাবে না। পেসক্রিপশন ছাড়া যে ওষুধগুলো বিক্রি করা হয়, সেই তালিকা থেকে কাশির সিরাপকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী পরিবর্তন হবে?
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে আর ইচ্ছামতো কাশির সিরাপ কেনা যাবে না। সাধারণ কাশির সিরাপ থেকে শুরু করে সব ধরনের সিরাপ কেনার ক্ষেত্রে পেসক্রিপশন দেখাতে হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকি কমবে।
ভেজাল সিরাপে মৃত্যুর নজির
মধ্যপ্রদেশে যে সিরাপ খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল, সেই সিরাপটি তামিলনাড়ুর এক সংস্থার তৈরি। পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই সিরাপে ৪৮.৬ শতাংশ ডাইইথিলিন গ্লাইকোল (DEG) নামে বিষাক্ত রাসায়নিক ছিল। অথচ ওষুধে এই উপাদানের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা মাত্র ০.১ শতাংশ। তবে এটাই প্রথম ঘটনা নয়। ভারত ছাড়া অন্যান্য দেশেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
- ২০২৫ সালে কাশির সিরাপ খেয়ে দুই রাজ্যে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- ২০২২ সালে WHO সতর্কবার্তা জারি করে জানায়, ভারতের তৈরি ভেজাল সিরাপ খেয়ে গাম্বিয়াতে ৭০ জন এবং উজবেকিস্তানে ১৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
- ২০২০ সালে রামনগরে দূষিত কাশির সিরাপ খেয়ে ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়।
- ১৯৯৮ সালে গুরুগাঁওয়ের ঘটনায় ৩৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়।
