Explained: ‘চিনা আগ্রাসন’ রুখতে ভারতের হাতে বিগ গান! কী?
শত্রুর দিকে একবার গোলা ছুঁড়ে মাত্র দেড় মিনিটে সেখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যায় এই কামানকে। ৪ বাই ৪ মাপের ট্রাকে চাপিয়ে নিমেষে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে। ফলে এই কামানের নির্দিষ্ট অবস্থান বোঝা শত্রুর পক্ষে কার্যত অসম্ভব। এই কারণে কোনও যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের লড়াই হলে সেখানেও ATAGS ও তার হালকা সংস্করণ, ALTGS- দুটিই সমান কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে।

ভারতীয় সেনা হাতে পেল বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ও হালকা কামান। ‘১৫৫ এমএম’ মাউন্টেড গান ‘এট্যাগস’ (ATAGS)। যা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ বদলাতে দিতে পারে। রাজস্থানের ধু ধু মরুভুমি হোক বা সিয়াচেনের বরফে ঢাকা জমি। শত্রু শিবিরকে ঝাঁঝরা করে দেবে সেনার নতুন ‘বিগ গান’।
শুধু নামে নয়, আক্ষরিক অর্থেই ‘বিগ গান’। DRDO-র নতুন Advanced Towed Artillery Gun বা ‘এট্যাগস’। ৪৫ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুকে ফালাফালা করে দেবে। ৯০ সেকেন্ডে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়। DRDO তৈরি করছে আরও হালকা – Advanced Light Towed Artilery Gun System বা ALTGS। তার গোলা ছোঁড়ার ক্ষমতা হতে পারে ৮৫ কিলোমিটার। ওজন হবে ১৫ টনেরও কম। সেনার বিমান বা হেলিকপ্টারে চাপিয়ে লাদাখ বা সিয়াচেনে পৌঁছে দেওয়া যাবে । চলতি বছরই ATAGS আর্টিলারি গানের মহড়া শুরু করছে সেনা। এই ক্যাটাগরিতে ইজরায়েলি ‘অ্যাথোস’-এর চেয়েও বেশি কার্যকর হবে ১৫৫ মিলিমিটার বাই ৫২ ক্যালিবারের এই দেশি আর্টিলারি গান। বিদেশি সংস্থার চেয়ে অর্ধেক দামে বানাচ্ছে ভারতীয় সংস্থা। টাটা-কল্যাণী গ্ৰুপকে ৩০৭টি ‘এট্যাগস’ নির্মাণের বরাত দিয়েছে সেনা। খরচ হবে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২৭-এর ফেব্রয়ারির মধ্যে এই লং রেঞ্জ আর্টিলারি গান-সহ সেনার প্রথম রেজিমেন্ট তৈরি হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক। পরে ধাপে ধাপে তার চেয়েও হালকা ও সহজে বহনযোগ্য ALTGS তৈরি শুরু হবে বলে খবর DRDO সূত্রে। তালিকায় রয়েছে mounted gun system বা mgs-ও।

কেন ‘এট্যাগস’ কামানের উপর বাজি ধরছেন বিশেষজ্ঞরা?
- DRDO-র ডিজাইন থেকে উৎপাদন শুরুতে ১০ বছর
- অটোমেশনের মাধ্যম্যে ৪৮ কিমি দূরে আঘাত
- ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যে স্থান পরিবর্তনে সক্ষম
- মাত্র ৮০ সেকেন্ডে আবার রি-লোড করা যায়
- পাহাড়ি এলাকায় সহজেই সরানো যায়
- ইজরায়েলি অ্যাথোস বা ফ্রান্সের সিজারের চেয়েও বেশি কার্যকরী
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কামানের ‘শ্যুট অ্যান্ড স্কুট’ টেকনোলোজি একে ন্যাটো অনুমোদিত অন্যান্য কামানের চেয়ে আলাদা করে জাত চেনায়। শত্রুর দিকে একবার গোলা ছুঁড়ে মাত্র দেড় মিনিটে সেখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যায় এই কামানকে। ৪ বাই ৪ মাপের ট্রাকে চাপিয়ে নিমেষে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে। ফলে এই কামানের নির্দিষ্ট অবস্থান বোঝা শত্রুর পক্ষে কার্যত অসম্ভব। এই কারণে কোনও যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের লড়াই হলে সেখানেও ATAGS ও তার হালকা সংস্করণ, ALTGS- দুটিই সমান কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে। ওজনে আর পাঁচটা কামানের চেয়ে হালকা হওয়ায় ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোব মাস্টার একসঙ্গে দুটি মাউন্টেন গান বয়ে উড়ে যেতে পারে লাদাখে, কাশ্মীরে বা LAC-তে। হাই অ্যালটিটিউড যুদ্ধক্ষেত্রে, দ্রুত রি-এনফোর্সমেন্টের জন্য আদর্শ এই বিগ গান। হিমালয়ের সরু বরফে ঢাকা এবড়োখেবড়ো রাস্তাতেও ছোট ট্রাকে চাপিয়ে এই কামান উঁচু পাহাড় চূড়ায় তুলে নিয়ে যাওয়া যাবে। ঠিক যে জায়গাটায় বফর্স কামানে খামতি রয়ে গেছিল। কার্গিল যুদ্ধের সময় Bofors FH77B howitzer কামানকে সর্বত্র তুলে নিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না সেনার পক্ষে। ALTGS তৈরিই হচ্ছে ভারত-চিন সীমান্তে LAC-র প্রতিকূল পার্বত্য, বরফে ঢাকা এলাকার কথা মাথায় রেখে। mounted gun system বা mgs–র আরেকটা বড় সুবিধা, সেনাবাহিনীর যে সদস্যরা এই কামান পরিচালনা করবেন, তাদের জন্য বিশেষ বুলেটপ্রুফ আর্মার প্যানেলিং ক্যাব থাকবে। যেটি ব্লাস্ট-প্রুফ। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর গোলাগুলি সরাসরি সেনার গায়ে এসে লাগার সম্ভাবনা আরও কম। প্রতি মিনিটে ৬ বার গোলা ছুঁড়তে পারবে এই হাউৎজার। ধাপে ধাপে ভারতীয় সেনা এই ধরণের ৭০০টি কামান পেতে চলেছে। আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে ATAGS-এর মতো তার হালকা ভার্সনের ক্ষেত্রেও দেশীয় সংস্থার সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধবে DRDO।
