AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

I-PAC: ‘উর্দি পরে রাজীব কুমার কীভাবে এমন কাজ করতে পারেন?’, I-PAC মামলার শুনানিতে বিস্ফোরক ED-র আইনজীবী তুষার মেহেতা

I-PAC Case in Supreme Court: শুরুতেই সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতা একেবারে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ডিজি রাজীব কুমার ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন, যাঁরা সেদিন উপস্থিত ছিলেন। তুষার মেহেতার বক্তব্য, একজন উচ্চপদস্থ  পুলিশ আধিকারিক কীভাবে উর্দি পরে সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তল্লাশির মাঝে ঢুকেছিলেন?

I-PAC: 'উর্দি পরে রাজীব কুমার কীভাবে এমন কাজ করতে পারেন?', I-PAC মামলার শুনানিতে বিস্ফোরক ED-র আইনজীবী তুষার মেহেতা
সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানিImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jan 15, 2026 | 1:10 PM
Share

নয়া দিল্লি: I-PAC এর ইডি-র মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা, ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। কেবল মুখ্যমন্ত্রী নয়, সিপি, ডিজি-র বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। সওয়াল জবাবের শুরুতেই ইডি-র তরফে আদালতে আবেদন জানানো হয়, যখনই তদন্ত চলছে, মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করছেন। এ ক্ষেত্রে আগের একাধিক ঘটনা উল্লেখ করে ইডি।

শুরুতেই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা একেবারে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ডিজি রাজীব কুমার ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন, যাঁরা সেদিন উপস্থিত ছিলেন। তুষার মেহেতার বক্তব্য, একজন উচ্চপদস্থ  পুলিশ আধিকারিক কীভাবে উর্দি পরে সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তল্লাশির মাঝে ঢুকেছিলেন? ফাইল যখন খতিয়ে দেখছিল ইডি, তিনি কীভাবে সেটা সেখান থেকে নিয়ে আসেন?

স্থানীয় থানায় প্রথমে ইডি গিয়েছিল, সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। তারপরও তল্লাশির মাঝে কেন সেখানে পুলিশের বিশাল বাহিনী উপস্থিত হয়? সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার বক্তব্য, রাজীব কুমার-সহ ওই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা হোক। গত শুক্রবার হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন এজলাসে হট্টগোলের প্রসঙ্গও এদিন সুপ্রিম কোর্টে উল্লেখ করেন তুষার মেহেতা। তুষার মেহেতার বক্তব্য, আইনমন্ত্রী সেদিন পাঁচশো লোককে নিয়ে গিয়েছিলেন। সওয়াল জবাবের মাঝেই স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। পরে শুনানি মুলতুবি হয়ে যায়। আদালত কি যন্তর মন্তরে পরিণত হয়েছে? হাইকোর্টের শুনানি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন তুষার মেহেতা।  ইডি-র বক্তব্য, তদন্তের মাঝে এইভাবে হস্তক্ষেপ, এটা একটা প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে। যখনই কারোর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে, তখনই হইহট্টগোল করে, গোটা বিষয়টাই ভন্ডুল করে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে তৎকালীন সিপি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তল্লাশির সময়ে মুখ্যমন্ত্রী  ধরনায় বসেছিলেন, সে সময়ে সিপিও ধরনায় বসেছিলেন, সেটা কীভাবে হতে পারে, প্রশ্ন তোলেন তুষার মেহেতা।

তুষার মেহেতার আরও বক্তব্য: কেবল ইডি তল্লাশি করলেই নয়, এমন দৃষ্টান্ত হয়েছে, সিবিআই যখন তদন্ত করছিল, সিবিআই আধিকারিকদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়েছিল। তাহলে তদন্তকারীদের মনোবল কোথায় গিয়ে পৌঁছয়? তদন্তকারীরা জুডিশিয়াল অর্ডার পেয়েই তল্লাশি যাচ্ছেন, তারপরও কেন এই ধরনের ঘটনা? সুপ্রিম কোর্টের সামনে একগুচ্ছ প্রশ্ন রাখেন তুষার মেহেতার।

তুষার মেহেতা: ইডি কয়লা দুর্নীতির তদন্ত করছিল। এই তদন্তের মধ্যে দিয়ে জানা গিয়েছে, ২০ কোটি টাকা কলকাতা থেকে গোয়া গিয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বেনিফিসিয়ারি হিসেবে প্রতীক জৈনের নাম উঠে আসে। তদন্ত শুরু হয়। সুনির্দিষ্ট নির্দেশনামা নিয়ে ইডি আধিকারিকরা তদন্তে আসে।

তুষার মেহেতা:  এই তদন্তের মাঝেই এই ধরনের ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ মনে করবে, যে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যে কোনও সময় যে  কারোর বাড়িতে ঢুকে পড়তে পারেন। পরে ধরনায় বসে পড়তে পারেন। তুষার মেহেতার বক্তব্য, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানান তিনি। গোটা বিষয়টির বিরোধিতা করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। তুষার মেহেতার বক্তব্য, কেবল কয়লা দুর্নীতি, ও সেই সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখে বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছিল। তাতে কারোর কোনও ব্যক্তিগত তথ্য ছিল না।

এরপর রাজ্যের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন বলেন, ২০২৪ এর ফেব্রুয়ারি মাসে কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে শেষ পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এখন ২০২৬ সালে নির্বাচনের ঠিক আগে হঠাৎ কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত শুরু হল কেন?

সিব্বলের বক্তব্য: পশ্চিমবঙ্গে সামনে নির্বাচন রয়েছে। I-PAC-এর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশলী সংস্থা হিসাবে চুক্তি রয়েছে। I-PAC এর কাছে নির্বাচনের সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। নির্বাচন কীভাবে লড়াই করা হবে সেই সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এটা একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি।

সিব্বলের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন পার্টির ডকুমেন্টস নিতে। কেন ইডি দু বছর অপেক্ষা করল এই তদন্তের? এবং এমন একটি জায়গায় তদন্ত শুরু করল, যা পার্টি অফিসের অংশ? যেখানে পার্টির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সব তথ্য, নথি নিয়ে এসেছেন, এই কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। পঞ্চনামা খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে।

সিব্বলের আরও বক্তব্য, প্রতীক জৈনের ল্যাপটপ, আইফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তাতেই পার্টির সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুধু এই ল্যাপটপ এবং ফোন নিয়েছেন। অন্য কোনও তথ্য প্রমাণ নষ্ট করা হয়নি। এতে ইডি স্বাক্ষর করেছে। তাঁদের পঞ্চনামায় উল্লেখ আছে।

তখন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রা প্রশ্ন করেন, “ইডি তো বলেছে তারা পার্টি সংক্রান্ত কোনও তথ্য বাজেয়াপ্ত করেনি।” তখন সিব্বলের উত্তর, “ওরা কপি করতেও পারে।”

তখন তুষার মেহেতা বলেন, ” নির্বাচনের সঙ্গে তদন্তের কোন সম্পর্ক নেই।”

সিব্বল তখন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, অপরাধমূলক অনুপ্রবেশের অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ তাঁদের পঞ্চনমা অন্য কথা বলছে।” তাঁর বক্তব্য, যদি এসব ঘটে থাকে তাহলে রাজ্যের প্রশাসনের এ বিষয়ে তদন্ত করার এক্তিয়ার আছে। মেহেতা তখন বলেন, প্রেস কনফারেন্স করে ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।

এরপর পুলিশ আধিকারিকদের তরফে সওয়াল করতে ওঠেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ভি। অভিষেক মনু সিঙ্ভি:  এই মামলার আইনি বৈধতা নেই। কেন হাইকোর্টে পিটিশন ফাইল করার পর ফের সুপ্রিম কোর্টে আবার একটা পিটিশন ফাইল করা হল। একই ধরনের আবেদন। এরপর হাইকোর্টে গিয়ে বলা হল, সুপ্রিম কোর্টে মামলা ফাইল করা হয়েছে, হাইকোর্টে যেন শুনানি করা না হয়। 

তিনি আবারও উল্লেখ করেন, পিটিশনে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা পঞ্চনামায় উল্লেখ করা হয়নি। বিস্ফোরক একটি তথ্য দেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ভি।

অভিষেক মনু সিঙ্ভি: সকাল সাড়ে ছ’টাতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। সকালে সাড়ে ১১টায় ই-মেল করে জানানো হয়েছে তদন্তের কথা। নিজেদের কর্মকাণ্ড লুকানোর জন্য এটা করা হয়েছে। তল্লাশির মাঝে পুলিশ ফোর্স নিয়ে আইনজীবীর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী একজন জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রাপক। তিনি যখন কোথাও যান, তখন পুলিশ আধিকারিকদের সেখানে ছুটে যেতেই হয়। সেই কাজই তারা করেছে।

সওয়ালের সময় বিচারপতি মিশ্রা বলেন, “আজ যা হাইকোর্টে হয়েছে, তা কাল অন্য কোন কোর্টে হতে পারে। এই ঘটনা ঘটা উচিত হয়নি।”

ইডি-র তরফে সওয়াল করেন এস ভি রাজু।

এস ভি রাজু: কেন রাজ্য প্রশাসনকে এই ঘটনা তদন্ত করতে দেওয়া যাবে না? তার কারণ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ। তিনি নিজেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পুলিশ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখবে না। চুরি, ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ অফিসার সশস্ত্র ছিলেন।

কেন এই বিষয়টি হাইকোর্টে শুনানি করা হল না? এস ভি রাজুর কাছে জানতে চাইল আদালত।

এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতি।