Aishe Ghosh Exclusive Interview: ‘ট্রেন-বাস বন্ধ করে মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই থামানো যাবে না’, দিল্লির আন্দোলনের আগে বার্তা ঐশীর
Aishe Ghosh Latest News: আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এভাবেই প্রতিবাদে মানুষের অংশগ্রহণ আটকানোর চেষ্টা হচ্ছে। কেন আন্দোলনের আগেই এই কড়াকড়ি? বাধা পেরিয়ে কতটা সফল হবে প্রতিবাদ? দিল্লিতে এই প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঐশী। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, 'বাধা দিয়ে মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই থামানো যাবে না।'

নয়া দিল্লি : জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে ও যন্তর মন্তরে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে দিল্লিতে (Delhi Protest)। ১০ অক্টোবর আন্দোলন কর্মসূচি রয়েছে যন্তর-মন্তরে। তবে, তার আগেই ট্রেন-বাসে বিধিনিষেধ, জমায়েত ঘিরে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এভাবেই প্রতিবাদে মানুষের অংশগ্রহণ আটকানোর চেষ্টা হচ্ছে। কেন আন্দোলনের আগেই এই কড়াকড়ি? বাধা পেরিয়ে কতটা সফল হবে প্রতিবাদ? দিল্লিতে এই প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঐশী। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘বাধা দিয়ে মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই থামানো যাবে না।’
সাক্ষাৎকারে কী বললেন ঐশী ঘোষ?
প্রশ্ন: এত বড় প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। অথচ আন্দোলনের আগেই ট্রেন-বাসে বিধিনিষেধ, জমায়েতের অনুমতি নিয়েও বাধা। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন সফল করবেন কীভাবে?
ঐশী ঘোষ: দিল্লিতে সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজ, ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজ ইতিমধ্যেই রয়েছেন। তাঁদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ট্রেন বা বাস বন্ধ করে, যাতায়াতে বাধা দিয়ে মানুষকে আটকানোর চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু এইভাবে আন্দোলন থামানো যাবে না। দিল্লির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, সমস্ত বাধা উপেক্ষা করেই প্রতিবাদে সামিল হতে হবে।
প্রশ্ন: যন্তর মন্তরের আন্দোলন থেকে একাধিক মুখ জাতীয় স্তরে পরিচিতি পেয়েছেন। এই আন্দোলন কি শুধুই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে, নাকি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধেও?
ঐশী ঘোষ: নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তার নিরপেক্ষভাবে কাজ করা উচিত। কিন্তু আমাদের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না, বরং বিজেপির স্বার্থ রক্ষা করছেন। বিজেপিও তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। কমিশনের কোনও ভুল না থাকলে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। তাই এই লড়াই শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার যে অভিযোগ উঠছে, তার বিরুদ্ধেও।
প্রশ্ন: বিজেপির নেতারা বলছেন, বাংলায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে নিজেদের প্রচারের আলোয় আনতেই আপনারা দিল্লিতে আন্দোলন করছেন। এই অভিযোগের জবাব কী?
ঐশী ঘোষ: আন্দোলনকারীদের কখনও ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলা হচ্ছে, কখনও বলা হচ্ছে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই কোনও ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লড়াই নয়। দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার রক্ষা করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য। এই ধরনের মন্তব্য করে আন্দোলনকে থামানো যাবে না।
প্রশ্ন: এই আন্দোলনে জেন জি বা নতুন প্রজন্মের তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। এটা কি বিজেপি-বিরোধী মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ?
ঐশী ঘোষ: বিজেপি ক্ষমতায় থেকেও তরুণদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এটাই আমাদের অভিযোগ। যে তরুণরা উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল, তারা আজ অনিশ্চয়তার মুখে। শিক্ষা, কাজ এবং ভালোভাবে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতেই তরুণরা পথে নামছেন। এটা শুধু কোনও একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াইও।
প্রশ্ন: বিজেপি-বিরোধী সব ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আন্দোলনে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এই ঐক্য কি ভুল বার্তা দেবে না?*
ঐশী ঘোষ: আমাদের মতে, এই মুহূর্তে আরএসএস ও বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। দেশে ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। যাঁরা সততার সঙ্গে এই লড়াইয়ে সামিল হতে চান, তাঁদের সকলকেই আহ্বান জানানো হচ্ছে।
প্রশ্ন: তাহলে আগামীকালের আন্দোলনের মূল বার্তা কী? প্রশাসনিক বাধা কি আন্দোলনকারীদের পিছিয়ে দেবে?
এই আন্দোলন কোনও ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য নয়। ভোটাধিকার, নাগরিক অধিকার এবং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষাই এর লক্ষ্য। যাতায়াতে বাধা বা রাজনৈতিক আক্রমণ দিয়ে মানুষের প্রতিবাদ থামানো যাবে না।
