
নয়াদিল্লি: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাম পিটিশনে বিরক্তি প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে বললেন, আগাম পিটিশন ভুল বার্তা দেবে। একইসঙ্গে আইনজীবী তথা তৃণমূলের সদ্য জয়ী রাজ্যসভার সাংসদ গুরুস্বামীকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আগাম পিটিশনের মাধ্যমে বার্তা যাচ্ছে, আপনারা সিস্টেমে ভরসা রাখতে পারছেন না।” পিটিশন ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যও গুরুস্বামীকে বার্তা দেন প্রধান বিচারপতি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও বৈধ ভোটার বাদ যাবে না।
এসআইআর সংক্রান্ত মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। তারই মধ্যে সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। গতকাল মেনকা গুরুস্বামী বলেছিলেন, “ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। নথিও রেকর্ড করা হয়নি। তাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন, এখন তাঁদের নথি নেওয়া হচ্ছে না।” রাজ্যের এই নতুন আবেদন নিয়েই এদিন শুনানিতে CJI বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ১০ লক্ষ কাজ হয়ে গিয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের কোনও প্রশ্নের মুখে ফেলবেন না, আমি কড়াভাবে বলছি।” এর পরই ‘সুপ্রিম’ ভরসা দিয়ে তিনি বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন। যাঁরা জেনুইন, তাঁদের যুক্ত করা হবে।”
রাজ্যের নতুন আবেদনে বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এই পিটিশন প্রিম্যাচিওর।” পিটিশন প্রত্যাহার করে নিতে গুরুস্বামীকে বার্তা দেন। সিজেআই বলেন, ভোটের আগে এই কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এদিন অবশ্য বলে, “আমরা প্রয়োজনে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে অবমাননার নোটিস দিতে পারি। যে পরিস্থিতি এসেছে, তাতে আমরা সব পক্ষকে সন্দেহের আওতায় রাখছি।”
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা অমীমাংসিতের তালিকা খতিয়ে দেখছে। এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, “রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনকে সবরকমভাবে জুডিশিয়াল অফিসারদের সাহায্য করতে হবে। যখন জুডিশিয়াল অফিসারদের লগ-ইন আইডি লাগবে, তখনই ইসিআইকে তার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।”
অমীমাংসিতদের তথ্য় খতিয়ে দেখা শুরু হলেও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের কেন করা হচ্ছে না, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে এদিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করতে হবে। এদিন সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ট্রাইবুনাল থাকবে। তাতে অনেক বিচারপতি থাকবেন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করবে ECI।