AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Indian Army: মাইনাস ৪২ ডিগ্রিও অচল করতে পারবে না সেনা যান, কীভাবে সম্ভব হবে?

Indian Army XWG diesel: শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, নতুন XWG ডিজেল ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের কাছেও উপকারী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হিমালয় সংলগ্ন এবং দেশের অন্যান্য তীব্র শীতপ্রবণ অঞ্চলে চলাচলকারী যানবাহন, জরুরি পরিষেবা এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতির নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এই প্রযুক্তি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

Indian Army: মাইনাস ৪২ ডিগ্রিও অচল করতে পারবে না সেনা যান, কীভাবে সম্ভব হবে?
কী বলছেন সেনাপ্রধান?
| Edited By: | Updated on: Jul 31, 2026 | 11:29 PM
Share

নয়াদিল্লি: হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বললেও যেন কম বলা হয়। মাইনাস ৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রা। যেখানে গাড়ির ডিজেলও ঘন হয়ে যায়। অচল হয়ে যান সেনা যান। আর সেই সমস্যা এবার মিটছে। চরম শীতে সেনাবাহিনীর অপারেশন আরও শক্তিশালী করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিশেষ ডিজেল এল সেনার হাতে। চরম শীতপ্রধান ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনীর যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এক্সট্রিম ওয়েদার গ্রেড (XWG) ডিজেল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ। এই বিশেষ জ্বালানি মাইনাস ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও কার্যকর থাকবে। ফলে লাদাখ, সিয়াচেন-সহ দেশের সবচেয়ে দুর্গম ও তুষারাবৃত সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর অপারেশন আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর হবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং দেশের বিভিন্ন অয়েল মার্কেটিং কোম্পানির (OMCs) যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ ডিজেল। সেনাবাহিনীর দাবি, এটি সম্পূর্ণ দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তির ফল, যা সীমান্তে কর্মরত সেনাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

বর্তমানে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সাধারণ ডিজেল ঘন হয়ে যায়। ফলে ফুয়েল ফিল্টার বন্ধ হয়ে ইঞ্জিন চালু রাখতে সমস্যা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই লাদাখ ও সিয়াচেনের মতো এলাকায় এটি সেনাবাহিনীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন XWG ডিজেল সেই সমস্যার কার্যকর সমাধান দেবে। এই জ্বালানি চরম ঠান্ডাতেও তরল অবস্থায় থেকে ইঞ্জিনে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ করবে, ফলে যানবাহন চালু রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নতুন এই জ্বালানি BS-VI নির্গমন মান এবং IS ১৪৬০:২০২৫ মানদণ্ড অনুসারে তৈরি। ফলে সেনাবাহিনীর বর্তমান যানবাহনের ইঞ্জিনে কোনও পরিবর্তন বা অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত সংশোধন ছাড়াই এটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে দ্রুত ও সহজে নতুন জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তর সম্ভব হবে।

কী বললেন সেনাপ্রধান?

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ বলেন, “এটি শুধু একটি নতুন জ্বালানি নয়, বরং চরম আবহাওয়ায় সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী দেশীয় উদ্ভাবন। এই প্রযুক্তি আমাদের সীমান্তে সেনাদের গতিশীলতা, যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং মিশনের সাফল্য আরও নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি কঠিন শীতকালে যানবাহন সচল রাখতে আগে যে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হতো, তার প্রয়োজনও অনেকটাই কমে যাবে।”

তিনি আরও জানান, মাত্র এক বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি সফলভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা দেশীয় গবেষণা ও শিল্পের সক্ষমতার উজ্জ্বল উদাহরণ। এই সাফল্যের জন্য সেনাবাহিনীর গবেষক দল এবং অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উন্নত ও বিশেষায়িত জ্বালানি তৈরির ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান।

শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, নতুন XWG ডিজেল ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের কাছেও উপকারী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হিমালয় সংলগ্ন এবং দেশের অন্যান্য তীব্র শীতপ্রবণ অঞ্চলে চলাচলকারী যানবাহন, জরুরি পরিষেবা এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতির নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এই প্রযুক্তি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর মতে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বিশেষ জ্বালানি শুধু আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যেরই প্রতিফলন নয়, বরং দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, সামরিক প্রস্তুতি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

Follow Us