Jaish terror suspect: নিজের ‘পরিচয়’ লুকোতে জিমে ‘ভালো ছেলে’ সেজে থাকত হামিম, কী করত?
Hamim Mondal Burdwan gym: জিমের মালিক রজনীশ নাসারিয়া বলেন, "ও নিজের মতো ট্রেনিং করত। চলে যেত। কারও সঙ্গে বেশি কথাবার্তা বলত না। দেখে মনে হত না, ও কিছু করতে পারে। এমন ব্যবহার করত, কারও সন্দেহ হবে না।"

বর্ধমান: শরীরচর্চার জন্য জিমে যেত। বর্ধমান শহরের সেই জিম থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে। যে হামিম পাকিস্তানে গিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে, তার সঙ্গে জঙ্গি-যোগের বিষয়টি ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি জিমের অন্যরা। হামিম গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁদের কেউ কেউ অবাক হলেন। তবে ধৃত ওই সন্দেহভাজন জঙ্গি নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে কী কী করত জিমে, সে সব সামনে এল। তাকে যাতে কারও সন্দেহ না হয়, সেজন্য চুপচাপ থাকত। এমনকি, খুব একটা ট্রেনারেরও সাহায্য নিত না হামিম।
জিমের ট্রেনার কী বলছেন?
বেঙ্গল এসটিএফ সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করার পর হামিমের জিমের ‘আচরণ’ এখন কিছুটা আঁচ করতে পারছেন ট্রেনার অমিত রায়। এই জিমে সবাইকে ব্যায়াম শেখান তিনি। কিন্তু, হামিম বেশিরভাগ সময় নিজেই ট্রেনিং করত। কয়েকবার তাঁর সাহায্য নিয়েছে। অমিত বলেন, “এখানে সবাই আমার কাছে শরীরচর্চা শিখেছে। হামিমও মাঝে মধ্যে শিখেছে।”
তবে অমিতের সবচেয়ে অবাক লাগত হামিমের সবার আগে ট্রেনিং করতে আসার বিষয়টি। তিনি বলেন, “আমি সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে জিমে ঢুকি। তার আগে ও একটা-দুটো ব্যায়াম সেরেই নিত। মোটামুটি ও সাড়ে ৬টার মধ্যে ঢুকে যেত। সবার আগে ও-ই ঢুকত। জিম খোলা হয় মোটামুটি সাড়ে ৬টায়। আর ও সাড়ে ৬টাতেই ঢুকে পড়ত। ও যখন সকালে ব্য়ায়াম করত, তখন হাতে গোনা কয়েকজন হয়তো থাকত।” গোয়েন্দারা মনে করছেন, অনেকের নজরে যাতে না পড়তে হয়, সেজন্যই সাতসকালে সবার লক্ষ্যে জিমে ট্রেনিং করে চলে যেত হামিম।
২১ জুন এই জিমে জয়েন করেছিল হামিম। জিমে ট্রেনিংয়ের জন্য মাসে ২০০০ টাকা দেওয়ার কথা। প্রথম মাসে সেই টাকা দিয়েছিল সে। জিমের মালিক রজনীশ নাসারিয়া বলেন, “ও নিজের মতো ট্রেনিং করত। চলে যেত। কারও সঙ্গে বেশি কথাবার্তা বলত না। দেখে মনে হত না, ও কিছু করতে পারে। এমন ব্যবহার করত, কারও সন্দেহ হবে না।”
কিন্তু, জিমে নিজের পরিচয়পত্র দেয়নি হামিম। রজনীশ বলেন, “জিমে ভর্তির দিন রিসেপশনিস্টকে টাকা দিয়ে চলে যায়। বলে, একদিন পর এসে আইডি কার্ড দেব। তারপর দিন পনেরো আসেনি। রিসেপশনিস্টও ভুলে যায়। পরে আর পরিচয়পত্র দেয়নি হামিম।” আইডি দিতে হবে বলে পরিকল্পনা করেই কি ১৫ দিন পর ফের জিমে যায় হামিম? সব কিছু খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
