AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

NCERT: বাবরি মসজিদ-গুজরাট হিংসা বাদ! অযোধ্যার নতুন ইতিহাস পড়বে শিক্ষার্থীরা

NCERT: এই সংশোধনের মাধ্যমে পাঠ্যক্রমের গৈরিকিকরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে শিক্ষা জগতের একাংশ থেকে। তবে, এই সকল অভিযোগ মানতে নারাজ এনসিইআরটি-র ডিরেক্টর, দীনেশ প্রসাদ সাকলানি। তাঁর দাবি, দাঙ্গা বা হিংসা সম্পর্কে শিক্ষা দিলে একটা 'হিংসাত্মক এবং হতাশাগ্রস্ত সমাজ তৈরি হতে পারে'। সেই কারণেই, গুজরাট দাঙ্গা এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মতো বিষয়গুলি স্কুলের পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

NCERT: বাবরি মসজিদ-গুজরাট হিংসা বাদ! অযোধ্যার নতুন ইতিহাস পড়বে শিক্ষার্থীরা
প্রতীকী ছবিImage Credit: Twitter
| Updated on: Jun 16, 2024 | 5:26 PM
Share

নয়া দিল্লি: চলতি সপ্তাহেই বাজারে এসেছে ‘ন্যাশনাল কারিকুলাম ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ অর্থাৎ, এনসিইআরটি-র নতুন সংশোধিত পাঠ্যপুস্তক। আর এরপরই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বই থেকে মুছে ফেলা হয়েছে বাবরি মসজিদের নাম। অযোধ্যা আন্দোলন নিয়ে যেখানে চার পৃষ্ঠার লেখা ছিল, তা কমিয়ে দুই পৃষ্ঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে। মসজিদ ভাঙার অংশটা পুরোই বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে পাঠ্যক্রমের গৈরিকিকরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে শিক্ষা জগতের একাংশ থেকে। তবে, এই সকল অভিযোগ মানতে নারাজ এনসিইআরটি-র ডিরেক্টর, দীনেশ প্রসাদ সাকলানি। তাঁর দাবি, দাঙ্গা বা হিংসা সম্পর্কে শিক্ষা দিলে একটা ‘হিংসাত্মক এবং হতাশাগ্রস্ত সমাজ তৈরি হতে পারে’। সেই কারণেই, গুজরাট দাঙ্গা এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মতো বিষয়গুলি স্কুলের পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দীনেশ প্রসাদ সাকলানি জানিয়েছেন, পাঠ্যপুস্তকগুলিতে যে পরিবর্তনগুলি করা হয়েছে, তা তাঁদের বার্ষিক সংশোধনের অংশ। এটা রাজনৈতিক হইচইয়ের বিষয় হওয়া উচিত নয়। পাঠ্যক্রমকে গৈরিকিকরণের কোনও চেষ্টা করা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “কেন আমরা ছাত্রদের দাঙ্গা সম্পর্কে শেখাব? হিংসাত্মক, হতাশাগ্রস্ত নাগরিক তৈরি করা আমাদের পাঠ্যপুস্তকের উদ্দেশ্য নয়। ঘৃণা, হিংসা স্কুলে শিক্ষাদানের বিষয় নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কি শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দেওয়া উচিত, যাতে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে? সমাজে ঘৃণা সৃষ্টি করে বা ঘৃণার শিকার হয়? এটাই কি শিক্ষার উদ্দেশ্য? আমাদের কি ছোট বাচ্চাদের দাঙ্গা সম্পর্কে শেখানো উচিত? যখন তারা বড় হবে, তারা এটা নিয়ে শিখতে পারে। তবে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে কেন তা থাকবে? তাদের বড় হতে দিন, কী ঘটেছে এবং কেন ঘটেছে তা বুঝতে দিন। এই পরিবর্তন নিয়ে হইচই করা অপ্রাসঙ্গিক। আমরা ইতিবাচক নাগরিক তৈরি করতে চাই এবং এটাই আমাদের পাঠ্যপুস্তকের উদ্দেশ্য।” তিনি আরও জানিয়েছেন, ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার কথা এনসিইআরটি-র পাঠ্যপুস্তকে নেই। কিন্তু, তা নিয়ে একই ধরনের হইচই হয় না। তাঁর আরও দাবি, গোটা বিশ্বেই ‘শিক্ষার স্বার্থে’ পাঠ্যপুস্তকের সংশোধন করা হয়। তিনি বলেন, “যদি কিছু অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় তবে তা পরিবর্তন করতে হবে।”

কী কী বদল এনেছে এলসিইআরটি? বাবরি মসজিদের নাম উল্লেখ না করে, তাকে ‘তিন গম্বুজের একটি কাঠামো’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অযোধ্যা আন্দোলন নিয়ে চার পৃষ্ঠার লেখা ছিল। তা কমিয়ে দুই পৃষ্ঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে। অযোধ্যার যে অংশগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে – গুজরাটের সোমনাথ মন্দির থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত বিজেপির রথযাত্রা, কর সেবকদের ভূমিকা, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক হিংসা, বিজেপি শাসিত রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি এবং অযোধ্যার ঘটনার জন্য অনুতপ্ত বিজেপির মতো বিষয়গুলি। আগের পাঠ্যপুস্তকে লেখা ছিল, ষোড়শ শতকে মীর বাকি বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। নতুন পাঠ্যপুস্তকে তার বদলে লেখা আছে, তিন গম্বুজ বিশিষ্ট কাঠামোটি শ্রীরামের জন্মস্থানে নির্মিত হয়েছিল এবং কাঠামোটির ভিতরে এবং বাইরে স্পষ্টভাবে হিন্দু প্রতীক ছিল।

Follow Us