
নয়া দিল্লি: আইপ্যাক কাণ্ডে এবার কোমর বেঁধে নামছে বিজেপি। কয়লা পাচার দুর্নীতির সূত্র ধরে ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি এবং সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয়তা সবাই দেখেছে। ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। দাবি করা হয়েছে সিবিআই তদন্তের। এবার আইপ্যাক ইস্যু নিয়ে জোরদার প্রচারে নামছে বিজেপি।
আইপ্যাকের অফিসে ইডি তল্লাশির দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ও ফাইল বের করে আনার ঘটনাকে হাতিয়ার করতে চলেছে বিজেপি। প্রচার করা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে এই নির্দেশ দিয়েছেন দলের পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব। এদিন দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বাড়িতে বৈঠকে বসেছিলেন শমীক। সেখানেই এই প্রসঙ্গে কথা হয়। এই ইস্যুতে মাঠে-ময়দানে, বুথে বুথে প্রচার তুঙ্গে তোলার জন্য অবিলম্বে রাজ্য এবং জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দিতে বলেছেন ভূপেন্দ্র যাদব।
এর আগেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাধা দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। দেশজুড়ে এই নিয়ে তীব্র সমালোচনাও করেছে বিজেপি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্বক অবস্থান কোথাও গিয়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থানকেই আরও মজবুত করেছে। বারবার প্রচার করা হয়েছে যে কেন্দ্রীয় এজেন্সি বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে কাজ করে।
এবার এরই পাল্টা প্রচার করবে বিজেপি। আইপ্যাক ইস্যুতে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বেশ কয়েকটি কথা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। শীর্ষ আদালতের তরফে বলা হয় যে যারা এই ধরনের (তদন্তে বাধা) কাজ করছেন, তারা ‘অফেন্ডার’। এরা পার পেয়ে গেলে দেশে খারাপ উদাহরণ তৈরি হবে। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণকেই হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবে বিজেপি।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “বিজেপি ইস্যু করতেই পারে। মানুষের বিষয়ে কথা বলে না। আইপ্যাক তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা, বিজেপিরও এমন তিন-চারটে সংস্থা রয়েছে। এটা নিয়ে রাজনীতিতে বলার কী আছে? আসলে বিজেপির বাংলা নিয়ে কোনও ন্যারেটিভ নেই। বাংলার মানুষের কাছে বলার কিছু নেই, তাই এইসব অমূলক বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। আসলে ওঁরা বুঝে গিয়েছেন যে ২০২৬-এও শিকে ছিড়বে না।”