India space sector: বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য দরজা খুলে দিতেই বদলেছে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ছবি, ৫ বছর পরের লক্ষ্য জানালেন INSPACe-র চেয়ারম্যান
India Space Sector 50 Launches by 2030: ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী দিনে আরও বেশি রকেট, আরও বেশি উপগ্রহ এবং আরও বেশি উৎক্ষেপণ পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের উপরেও জোর দিতে হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েঙ্কা। তাঁর মতে, সরকারি গবেষণা এবং বেসরকারি শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

নয়াদিল্লি: বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ যত বাড়ছে, স্পেস সেক্টরে ততই বড় লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে ভারত। IN-SPACe (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার)-র চেয়ারম্যান পবন কে গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, পাঁচ বছর আগে দুটি মূল লক্ষ্য সামনে রেখে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্র বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমত, ইসরোকে (ISRO) নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ত, মহাকাশ ক্ষেত্রে বড় পরিসরে কাজ করার জন্য বেসরকারি শিল্পকে সুযোগ করে দেওয়া। গোয়েঙ্কার দাবি, পাঁচ বছর পর দেখা যাচ্ছে, সেই দুই লক্ষ্যই ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পাচ্ছে।
ইসরোর EOS-০৫ মিশনকে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন পবন কে গোয়েঙ্কা। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এটি কেবল শুরু। পাঁচ বছর আগে ভারতে যেখানে হাতে গোনা কয়েকটি মহাকাশ স্টার্টআপ ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৪৫০-এরও বেশি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলিও ইতিমধ্যে রকেট উৎক্ষেপণ করে সেটিকে কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, এবার ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল মহাকাশ ক্ষেত্রের এই অগ্রগতিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৫০টি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একা সম্ভব নয়, বার্তা গোয়েঙ্কার-
তবে এত বড় লক্ষ্য কোনও একটি সংস্থার পক্ষে একা পূরণ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন গোয়েঙ্কা। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের মহাকাশ ক্ষেত্র গড়ে তুলতে সরকার এবং বেসরকারি শিল্পকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। ইসরোর দায়িত্ব থাকবে গবেষণা এবং নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়া। আর সেই প্রযুক্তিকে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন এবং বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে বেসরকারি শিল্পকে।
বাড়বে রকেট, উপগ্রহ ও উৎক্ষেপণ ক্ষমতা-
ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী দিনে আরও বেশি রকেট, আরও বেশি উপগ্রহ এবং আরও বেশি উৎক্ষেপণ পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের উপরেও জোর দিতে হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েঙ্কা।
তাঁর মতে, সরকারি গবেষণা এবং বেসরকারি শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আর সেই ক্ষমতাই ভারতকে আগামী দিনে বিশ্বের মহাকাশ পরিষেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।
‘ভারতে তৈরি, ভারত থেকে উৎক্ষেপণ, বিশ্বকে পরিষেবা’-
ভারতের সামনে যে সুযোগ রয়েছে, তা অত্যন্ত বড়। গোয়েঙ্কার বক্তব্যের মূল সুর, ভারতে মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরি হবে, ভারত থেকেই রকেট ও উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হবে এবং ভারত থেকেই গোটা বিশ্বকে মহাকাশ পরিষেবা দেওয়া হবে।
সরকারি উদ্যোগ এবং বেসরকারি শিল্পের যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারত ইতিমধ্যেই মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতার দিকে এগোচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে সেই গতি আরও বাড়িয়ে ভারতীয় মহাকাশ ক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও শক্তিশালী করে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।
