অবরুদ্ধ হরমুজে ভারতকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ইরানের, জ্বালানি সঙ্কটে আশার আলো ?
সূত্রের খবর, ভারতের দু'টি জাহাজকে হরমুজ পারপারে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে ইরান। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভারতীয় ওয়েল ট্যাঙ্কারকে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারাপারের ক্ষেত্রে যাবতীয় সহযোগিতা করবে ইরান। ভারতের দু'টি ট্যাঙ্কার পুষ্পক ও পরিমল ইতিমধ্যেই নির্বিঘ্নে হরমুজ পারাপার করছে বলে খবর।

নয়াদিল্লি : হরমুজ প্রণালীতে ছাড় ভারতকে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, দু’টি ভারতীয় জাহাজকে ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে এস জয়শঙ্করের কথা বলার পরই হরমুজে জাহাজ চলাচলে ছাড়পত্র পেয়েছে ভারত। সূত্র মারফত এমনই খবর পাওয়া গিয়েছে। এদিকে, ভারতের জাহাজকে ছাড়পত্র দিতেই আমেরিকা-ইজ়রায়েলের উপর চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। একইসঙ্গে ইরানের ছাড়পত্র ভারতের কূটনৈতিক জয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর, ভারতের দু’টি জাহাজকে হরমুজ পারপারে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে ইরান। ভারতের দু’টি ট্যাঙ্কার পুষ্পক ও পরিমল ইতিমধ্যেই নির্বিঘ্নে হরমুজ পারাপার করছে বলে খবর। উল্লেখ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে ইরান। রাশিয়া ও চিনের জাহাজকে শুধুমাত্র ছাড় দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল সংকট তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। আমেরিকার অনুমতির পর ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে। কিন্তু, যা পরিস্থিতি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে। আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। তেলের দাম ক্রমশ বাড়বে। একইসঙ্গে ভারতের তেলের ভান্ডারে টান পড়তেও বাধ্য। মঙ্গলবারই হরমুজ নিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
সূত্রের খবর, বৈঠকের পরই হরমুজে গ্রিন সিগন্যাল পেল ভারত। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভারতীয় ওয়েল ট্যাঙ্কারকে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারাপারের ক্ষেত্রে যাবতীয় সহযোগিতা করবে ইরান। তাদের কোনওরকমভাবে আক্রমণ করা হবে না। এর পাশাপাশি ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ইউরোপ, আমেরিকা, ইজ়রায়েলের কোনও ট্যাঙ্কারকে হরমুজ পার করতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে যদি ওই দেশগুলি থেকে তেল নেওয়া হয়, তাহলে ভারতের তেলের ট্যাঙ্কারকে নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান।
ভারতের কূটনৈতিক জয় ?
কূটনীতি বিশেষজ্ঞ শুভাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, সেখানে বারবার আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে চেয়েছে নয়া দিল্লি। ইরান বা আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকেও একই বার্তা পাঠাতে চেয়েছে ভারত। ইরানও বুঝেছে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখাটা খুব প্রয়োজনীয়। তারপরই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেহরানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত। এটা প্রমাণ করে দিল, কূটনৈতিক স্তরে ভারত জানে কীভাবে কাজ করতে হয়, সেই কাজটাই তারা করেছে। সেক্ষেত্রে ইরানের এই পদক্ষেপকে নয়া দিল্লির কূটনৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন তিনি।
