Kapil Sibal: ‘আমাদের আবেদন খারিজ হয়নি…’, ‘বাধ্য হয়ে’ সাংবাদিক বৈঠক করলেন কপিল সিব্বল
WB Election 2026: গণনাকর্মীর সংক্রান্ত ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায় আর্জি। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার সেই মামলায় শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। আইনজীবী কপিল সিব্বল তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন, গণনায় কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বহাল রাখা হল?

নয়া দিল্লি: সুপ্রিম নির্দেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। শনিবার সকালে গণনাকেন্দ্রের কর্মী নিয়ে মামলায় তৃণমূলের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। রাজ্য সরকারি কর্মী নিযুক্ত করার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা খারিজ করে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন কপিল সিব্বল।
কী বললেন সিব্বল?
সিব্বল বলেন, “আমি সাধারণভাবে কোনও মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকলে কোনও মন্তব্য করি না। আজ আসতে বাধ্য হলাম, কারণ কিছু সংবাদমাধ্যমে চলছে যে আমাদের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। আমাদের কোনও আবেদন খারিজ হয়ে যায়নি।”
সিব্বল জানান, হাইকোর্টে তৃণমূল দাবি করেছিল যে এই সার্কুলার সঠিক নয়। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কমিশনের নিয়ম মেনে মাইক্রো অবজারভার রয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা। হাইকোর্ট সার্কুলারকে সঠিক বলেছিল। তবে আইনজীবীর দাবি, সুপ্রিম কোর্টে কোনও সার্কুলার চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। আবেদন করা হয়েছিল যে সার্কুলারে যে বিষয় উল্লেখ রয়েছে, সেটা যেন মানা হয়।
সিব্বল বলেন, “মোদ্দা কথা হল সার্কুলারে বলা হয়েছে, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের র্যান্ডম সিলেকশন করে গণনার কাজে ব্যবহার করা হবে। আমাদের সুপ্রিম কোর্ট বলল, আপনারা তো ওখানে সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করছিলেন। আমরা তখন জানাই যে আমরা সার্কুলার লাগু করার দাবি জানাচ্ছি। আদালতও নোট করেছে যে সার্কুলারকে “লেটার অ্যান্ড স্পিরিটে” ফলো করবে বলে জানিয়েছে কমিশন।”
কী হল সুপ্রিম কোর্টের মামলায়?
গণনাকর্মীর সংক্রান্ত ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায় আর্জি। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার সেই মামলায় শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। আইনজীবী কপিল সিব্বল তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন, গণনায় কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বহাল রাখা হল?
কপিল সিব্বলের যুক্তি ছিল, নির্বাচন কমিশনের সার্কুলারে বলা হয়েছে একজন রাজ্য সরকারি অফিসার থাকবে। অথচ শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের কেন রাখা হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বক্তব্য ছিল, “সার্কুলারে বলা আছে, কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীও হতে পারেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীও হতে পারেন। অপশন যখন আছে, তখন আমরা কীভাবে বলি যে এই পদক্ষেপ নির্দেশিকা বিরোধী? এমনকী সার্কুলার অনুযায়ী দুজনেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী হতে পারে।” এই সওয়াল জবাবের পরই খারিজ হয়ে যায় তৃণমূলের আবেদন।
‘মনে হচ্ছে ওখানে সিজ হচ্ছে’
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে সিব্বল বলেন, “মনে হচ্ছে বিজেপির নজর আর অন্য কোথাও নেই। তামিলনাড়ুতে নেই, কেরলে নেই। পশ্চিমবঙ্গ তো ভারতেই। অন্য কোথাও তো নয়। দেখে মনে হচ্ছে, ওখানে সিজ হচ্ছে। ওখানে যত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, সেটা মনিপুর আর জম্মু কাশ্মীরেও নেই। কোনও যুদ্ধ চলছে নাকি? নির্বাচনই তো চলছে! কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কমিশনের দায়িত্ব, তারপরও কীসের ভীতি? কী চাইছেন ওঁরা? কী উদ্দেশে এসব করছেন?”
