Mamata Banerjee: ‘দিল্লিতে জমিদারি চলছে, গরিবদের জায়গা নেই’, রাজপথে দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি মমতার
Mamata Banerjee: TV9 বাংলার ক্যামেরায় প্রথম ধরা পড়ে, দিল্লির বঙ্গ ভবনের বাইরে হঠাৎ করেই সাজো সাজো রব। কিছু যে একটা হতে চলেছে, তার আভাস মিলছিল। কেবল বিরাট বাহিনী নয়, বরং উল্টো দিকে, বঙ্গভবনের সামনের রাস্তাও ব্যারিকেড টেনে বন্ধ করে দেওয়া হয়। চারটি বাস আনা হয়। এই বাসগুলোকে মূলত বিক্ষোভের সময়ে আটকদের ধরে থানায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে।

নয়া দিল্লি: দিল্লির সামগ্রিক রাজনীতির নজর কেড়ে নিয়েছেন তিনিই। সকাল থেকে বঙ্গভবনের বাইরে দিল্লি পুলিশের অতি সক্রিয়তা, বাংলা থেকে যাওয়া ‘এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের’ হেনস্থার অভিযোগ, প্রতিবাদে গর্জে উঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাস্তায় নেমে আসা- সকাল থেকেই হেইল রোডে বঙ্গ ভবনে চড়ছে পারদ। সকাল থেকেই বঙ্গভবনের সামনে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর চলে যান হেইলি রোডের পুরনো বঙ্গভবনের সামনেও।
সেখানেও দাঁড়িয়ে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধেই মমতা বলেন, “দালালি করবেন না। দিল্লি পুলিশের আচরণ দেখো!” তবে সঙ্গে এও বলেন, “দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই। এটা ওনাদের দোষ নয়। আমাদের কিছু লোকই এসেছে।”
মোট ১৫০ লোক তিনি নিয়ে এসেছেন দিল্লিতে। তাঁরা কারা, তার পরিচয়ও এদিন সাংবাদিকদের সামনে দেন তিনি। মমতা জানান, বাংলা থেকে আসা ৫০ পরিবার এমন রয়েছে, যাঁরা বেঁচে রয়েছেন, কিন্তু তাঁদের মৃত দেখানো হয়েছে। ৫০ এমন রয়েছেন, যাঁদের পরিবারের কারোর এসআইআর-এর কারণে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু দিল্লি পুলিশ বেছে বেছে তাঁদেরকেই হেনস্থা করছে বলে অভিযোগ। আর সেই প্রসঙ্গে দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে গরিবদের কোনও জায়গা নেই।’
এই কথা বলার সময়েই সাংবাদিকদের বলতে থাকেন, ‘ক্যামেরা ঘোরান’। আসলে ক্যামেরা ঘুরিয়ে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড, আটক করে নিয়ে যাওয়ার বাস, পুলিশের অতি তৎপরতাকে দেখানোর চেষ্টা করেন মমতা। কথা বলতে বলতেই এক প্রান্ত থেকে কার্যত ছুট লাগান অন্যদিকে। সাংবাদিকরাও তাঁর পিছনে। বেশ কিছুটা এগিয়ে তিনি আবারও পুলিশের এই অতি তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। বলতে থাকেন, ‘দিল্লিতে জমিদারি চলছে।’ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ” যখন দিল্লিতে বিস্ফোরণ হয়, তখন দিল্লি পুলিশ কোথায় থাকে? যিনি মাথায় রয়েছেন, তাঁকেই দোষ দিচ্ছি।”
এসআইআর আন্দোলন দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি আগেই দিয়ে রেখেছিলেন মমতা-অভিষেক। এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকেও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কমিশনের বিরুদ্ধে এমনিতেই সরাসরি আইনি যুদ্ধের পথে হেঁটেছেন মমতা। রবিবারই দিল্লিতে পৌঁছেছেন মমতা। এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমন কিছু পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের রাখা হয়েছে বঙ্গভবনে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়েছে।
TV9 বাংলার ক্যামেরায় প্রথম ধরা পড়ে, দিল্লির বঙ্গ ভবনের বাইরে হঠাৎ করেই সাজো সাজো রব। কিছু যে একটা হতে চলেছে, তার আভাস মিলছিল। কেবল বিরাট বাহিনী নয়, বরং উল্টো দিকে, বঙ্গভবনের সামনের রাস্তাও ব্যারিকেড টেনে বন্ধ করে দেওয়া হয়। চারটি বাস আনা হয়। এই বাসগুলোকে মূলত বিক্ষোভের সময়ে আটকদের ধরে থানায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু বঙ্গভবনের বাইরে কেন সেই বাস আনা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তারপরই দেখা যায়, , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ১৮১ সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন। পরনে তাঁর ঘরের শাড়ি। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “আমাদের যে মানুষগুলো বাংলা থেকে এসেছেন, তাঁদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। প্রত্যেক ঘরে ঘরে গিয়ে খুঁজছে, কে এসেছে! কয়েকজনই এসেছেন, কেন আসবেন না!” রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “আমরা এলেই, ওরা ভয় পায়। আমরা কেবল ২০০ লোক এনেছি। বেশি আসিনি। যদি বেশিই আসতাম, তাহলে তো লাখ লাখ লোক নিয়ে আসতাম।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এও বলতে শোনা গিয়েছে, দিল্লি থেকে কোনও নেতা বাংলায় গেলে রেড কার্পেট দেখানো হয়। আর তিনি যখন দিল্লিতে এসেছেন, তাঁকে ব্ল্যাক কার্পেট দেখানো হচ্ছে।মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবন থেকে তৃণমূল একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছে। সেখানে ‘এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত’রাও থাকবেন বলে জানিয়েছেন মমতা।
