Maharashtra Politics: তেইশে ভেঙেছিল দল, ছাব্বিশে নতুন সমীকরণ! দিল্লি-মহারাষ্ট্র মিলেমিশে যাচ্ছে?
NCP Merger: বিজেপি বা এনসিপি দল এক হয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও, সম্প্রতি শরদ পওয়ার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে দেখা করেছেন। এনসিপি-র আরও কয়েকজন নেতা মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের সঙ্গে দেখা করেছেন। শেষ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে শরদ পওয়ার নাকি বিজেপি নিজের 'পাওয়ার গেম' দেখাবে, তা-ই দেখার।

মুম্বই: দলের অন্দরেই দল ভাঙা-গড়ার খেলার সঙ্গে দেশবাসী প্রথম পরিচিত হয়েছিল মহারাষ্ট্রের রাজনীতি দিয়েই। শিবসেনা (Shiv Sena) ভেঙে দুই টুকরো হয়েছিল। তারপর একই পথে হাঁটে শরদ পওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (Nationalist Congress Party)-ও। শরদ পওয়ার (Sharad Pawar) ও অজিত পওয়ারের (Ajit Pawar) দুই শিবির ভেঙে আলাদা হয়। আবার কি মহারাষ্ট্রে বড় পালাবদল দেখতে চলেছে সকলে?
বিগত এক সপ্তাহ ধরেই তুমুল জল্পনা। ২০২৩ সালে যে এনসিপি ভেঙে দুই টুকরো হয়েছিল, তারাই আবার এক হতে চলেছে। অর্থাৎ শরদ পওয়ার ও অজিত পওয়ারের দুই দল ফের একবার এক হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। তবে এখানেই শেষ নয়, চমক আরও আছে। এনডিএ-কে সমর্থন করতে পারে শরদ পওয়ারের এনসিপি।
অজিত পওয়ারের মৃত্যুর পর তাঁর দল সামলাচ্ছেন স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার। অজিতের মৃত্যুর আগে থেকেই জল্পনা শোনা যাচ্ছিল যে দুই এনসিপি এক হয়ে যাবে। তবে তাঁর আকস্মিক মৃত্য়ুতে সেটা পরিকল্পনাই থেকে যায়। এবার ফের একবার নতুন করে দুই দলের এক হয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, আবার দুই এনসিপি এক হয়ে যেতে পারে। তারা সমর্থন জানাতে পারে এনডিএ-কে। এর নেপথ্যেও বিশেষ কারণ রয়েছে। এনডিএ আলাদা করে শরদ পওয়ারের এনসিপি-কে স্বীকৃতি দিতে চায় না। তাই তারা একসঙ্গে এনসিপি হলে, তবেই তাদের নিজেদের শিবিরে সামিল করবে। যদিও শরদ পওয়ারের দল ও বিজেপি- উভয়ই এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপি প্রস্তাব দিয়েছে যে দুই এনসিপি যদি এক হয়ে যায়, তাহলে দুই পক্ষকেই একটি করে কেন্দ্রীয় পদ দেওয়া হবে। রাজ্যস্তরে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারে নয়া সমীকরণে ডামাডোল তৈরি হলেও, দিল্লির রাজনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সংসদে কী লাভ হবে বিজেপির?
দুই দলের এক হয়ে যাওয়ায়, লাভ হবে এনডিএ-র। সংসদে এনসিপি যদি এনডিএ-কে সমর্থন করে, তাহলে আসন্ন বাদল অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস, মহিলা সংরক্ষণ সহ একাধিক বিল পাশ করাতে সুবিধা হবে। আসন পুনর্বিন্যাস বা ডেলিমিটেশন বিলে লোকসভার আসন বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত অধিবেশনে এই বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হলেও, এবারের অধিবেশনে এই বিল সংশোধন করে পেশ করতে পারে এনডিএ। সেই বিলে প্রতি রাজ্যেই আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়ানোর কথা বলা হবে।
গত অধিবেশন থেকে এই অধিবেশনের মধ্যে অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। আরও শক্তিশালী হয়েছে এনডিএ। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই নামক একটি ছোট দলের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। তারা এনডিএ-কেই সমর্থন করছে। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ছয় সাংসদও একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দিয়ে এনডিএ-কেই সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করেছে। সেই হিসাবে এনডিএ-র পক্ষে ৩২৪ জন রয়েছেন।
এদিকে, শরদ পওয়ারের এনসিপির লোকসভায় আটজন সাংসদ রয়েছে। রাজ্যসভায় একজন সাংসদ রয়েছে। এনসিপিও এনডিএ-কে সমর্থন জানালে তাদের বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া খুব একটা কঠিন হবে না। ইন্ডিয়া জোট থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া ডিএমকে-র ২২ জন সাংসদও যদি এনডিএ-র পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে এনডিএ-র পক্ষে ৩৪৬ জন সাংসদ থাকবে। যদি আকালি দল বা এআইএডিএমকে-র মতো অন্যান্য দলও সমর্থন করে, তাহলে বিল পাশ করাতে ৩৫২টি ভোট পাওয়া খুব কঠিন হবে না। রাজ্যসভাতেও যে কোনও বিল পাশ করানোর জন্য যে ১৬৪ জনের সমর্থনের প্রয়োজন।
বিজেপি বা এনসিপি দল এক হয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও, সম্প্রতি শরদ পওয়ার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে দেখা করেছেন। এনসিপি-র আরও কয়েকজন নেতা মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের সঙ্গে দেখা করেছেন। শেষ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে শরদ পওয়ার নাকি বিজেপি নিজের ‘পাওয়ার গেম’ দেখাবে, তা-ই দেখার।
