AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Crime News: ‘তোমার ২টো বিয়ে, আমার বৌ নেই কেন?’, বলেই বাবাকে পিটিয়ে খুন ছেলের

তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার সূত্রপাত একদিনের ঝগড়া নয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবিবাহিত থাকা নিয়ে তীব্র হতাশায় ভুগছিলেন নিনগরাজা। তাঁর বয়স ৩৫ হলেও বিয়ে হয়নি, অথচ গ্রামে তাঁর বন্ধু ও আত্মীয়দের অনেকেই সংসার পেতেছেন। এই তুলনাই ধীরে ধীরে ক্ষোভে পরিণত হয়। যার দায় তিনি বাবার উপর চাপাতে শুরু করেন।

Crime News: 'তোমার ২টো বিয়ে, আমার বৌ নেই কেন?', বলেই বাবাকে পিটিয়ে খুন ছেলের
প্রতীকী ছবি
| Updated on: Jan 10, 2026 | 6:18 AM
Share

কর্নাটক: গ্রামগঞ্জে বিয়ে নিয়ে চাপ, কটাক্ষ আর তুলনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই চাপই যে এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। কর্ণাটকের চিত্রদুর্গা জেলার হোসাদুর্গা এলাকায় বিয়ে না হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের জেরে নিজের বাবাকেই খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক ৩৫ বছরের ছেলের বিরুদ্ধে। পেশায় অভিযুক্ত কৃষক। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম এস নিনগরাজা। বুধবার গভীর রাতে তিনি নিজের বাবা টি সান্নানিঙ্গাপ্পাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত বাড়ি মারেন বলে অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, গুণধর ছেলে যে সময় এই কাজ করছে, সেই সময় বৃদ্ধ বাবা ঘুমিয়ে ছিলেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পান সান্নানিঙ্গাপ্পা। পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?

তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার সূত্রপাত একদিনের ঝগড়া নয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবিবাহিত থাকা নিয়ে তীব্র হতাশায় ভুগছিলেন নিনগরাজা। তাঁর বয়স ৩৫ হলেও বিয়ে হয়নি, অথচ গ্রামে তাঁর বন্ধু ও আত্মীয়দের অনেকেই সংসার পেতেছেন। এই তুলনাই ধীরে ধীরে ক্ষোভে পরিণত হয়। যার দায় তিনি বাবার উপর চাপাতে শুরু করেন।

পুলিশ জানায়, হামলার সময় নিনগরাজা চিৎকার করে বাবাকে দোষারোপ করেন। অভিযোগ, তিনি বলেন, “বাবার দু’টি বিয়ে হলেও আমার কোনও স্ত্রী নেই কেন?” এই বক্তব্যই নিনগরাজার মানসিক অস্থিরতা বুঝিয়ে দিয়েছে বলে মত তদন্তকারী আধিকারিকদের। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার দিন সন্ধ্যাতেও বিয়ের বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। সেই সময় নিনগরাজা নাকি বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। তবে পরিবার ভেবেছিল, এ ধরনের ঝগড়া আগেও হয়েছে, এবারও হয়তো রাগ পড়ে যাবে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেই রাগই রূপ নেয় ভয়ংকর অপরাধে। ঘুমন্ত বাবার মাথায় আঘাত করেন ছোট ছেলে।

ঘটনার খবর পেয়ে নিনগরাজার দাদা এস মারুতি বাড়িতে ছুটে আসেন। এই এস মারুতি স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। বাবাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাতে কোনও লাভ হয়নি। পরে মারুতি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে নিনগরাজাকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন অভিযুক্ত।

পুলিশ সূত্রে গিয়েছে, বাবা ও ছেলের সম্পর্ক আগে থেকেই ভাল ছিল না। সান্নানিঙ্গাপ্পা প্রায়ই ছেলেকে কৃষিকাজে মনোযোগ না দেওয়ার জন্য বকাঝকা করতেন এবং আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলতেন। এর সঙ্গে বিয়ের চাপ মিলিয়ে বাড়ির ভিতরে ক্রমশ বাড়ছিল অসন্তোষ ও মানসিক দ্বন্দ্ব।

এ দিকে, হোসাদুর্গা এলাকার বাসিন্দারা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না, বিয়ে নিয়ে পারিবারিক বিবাদ এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গড়াতে পারে। যাঁরা পরিবারটিকে চিনতেন, তাঁরা বলছেন, সাধারণ কৃষক পরিবার, কখনও কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আজ বাবা আর নেই, এক ছেলে অপরাধের দায়ে জেলে বসে আছে।