PM Modi: উনিশের থেকে এবার ৬১টি সভা বেশি মোদীর! বিশেষ জোর বাংলা-সহ ৪ রাজ্যে
PM Modi: প্রচার শেষে কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালে ধ্যানে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। , ১৬ মার্চ কন্যাকুমারী থেকেই প্রচার পর্ব শুরু করেছিলেন। পরের ৭৬ দিনে তিনি মোট ২০৬টি প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। জোর ছিল বাংলা-সহ চার রাজ্যে।

নয়া দিল্লি: লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শেষ। তারপর, কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালে ধ্যানে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। প্রসঙ্গত, ১৬ মার্চ এই কন্যাকুমারী থেকেই চলতি লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্ব শুরু করেছিলেন তিনি। তারপর ৭৬টা দিন কেটে গিয়েছে। এই ৭৬ দিনে, বলা যেতে পারে, একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন তিনি। আর এই আড়াই মাসে তিনি মোট ২০৬টি প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে জনসভা রয়েছে, রয়েছে রোডশো। ২০১৯-এর নির্বাচনের সময়, প্রধানমন্ত্রী মোট ১৪৫টি সভা করেছিলেন। এবার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সভার সংখ্যা বাড়িয়েছেন তিনি।
৭৬ দিনে, প্রতিদিন গড়ে তিনটিরও বেশি করে প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে তিনটি দিন এমন ছিল, যে দিনগুলিতে তিনি প্রতিদিন পাঁচটি করে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। আর ২২টি দিন, প্রতিদিন চারটি করে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। শুধু মে মাসেই ভারতব্যাপী ৯৬টি প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনী জনসভার পাশাপাশি, টেলিভিশনে তিনি ৮০টির বেশি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
তবে, প্রচারে প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়েছিলেন মূলত চারটি রাজ্যে। প্রচার কর্মসূচিগুলির অর্ধেকেরও বেশি ছিল এই রাজ্যগুলিতেই। অবদান রেখেছিল। সবথেকে বেশি লোকসভা আসন আছে উত্তর প্রদেশে। এই রাজ্যেই সবথেকে বেশি নির্বাচনী ভাষণ দিয়েছেন মোদী, মোট ৩১টি। ২০১৯-এ এই রাজ্যে ৮০টির মধ্যে ৬৪টি আসন জিতেছিল বিজেপি। এবার যোগী রাজ্যে আসন সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি।
উত্তর প্রদেশের পর,মোদীর সবথেকে বেশি নির্বাচনী সভা ছিল বিহারে। এই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০টি নির্বাচনী সভা করেছেন। এরপর রয়েছে মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রে মোদী সভা করেছেন ১৯টি। ২০১৯-এর থেকে মহারাষ্ট্রে তাঁর নির্বাচনী সভার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। মহারাষ্ট্র ও বিহারের পরিস্থিতি অনেকটাই এক রকম। বিহারে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জেডিইউ, নির্বাচনের ঠিক আগে আরও একবার এনডিএ-তে ফিরেছে। আর মহারাষ্ট্রে, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পওয়ারের এনসিপির সঙ্গে নতুন জোট গড়েছে। দুই রাজ্যেই নেতাদের এই শিবির বদল নিয়ে মানুষের মন ক্ষোভ রয়েছে। এই অবস্থায়, দুই রাজ্যেরি বাসিন্দাদের আস্থা অর্জনেই পূর্ব ও পশ্চিমের এই দুই রাজ্যে প্রচারে জোর দিয়েছেন মোদী বলে, মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া, যে রাজ্যে প্রচারে জোর বেশি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, সেটি হল পশ্চিমবঙ্গ। বাংলায় এবার ১৮টি সভা করেছেন তিনি। ২০১৯-এ বাংলায় ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়েছিল বিজেপি। এবার আসন সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছে গেরুয়া শিবির। কলকাতায় একটি বড় রোড শোও করেছেন তিনি। এছাড়া, ওড়িশায় ১০টি সভা করেছেন মোদী। এই রাজ্যে এবার এককভাবে লড়াই করছে বিজেপি। সরাসরি লড়াই নবীন পট্টনায়কের বিজেডির সঙ্গে। পুরিতেও বড় রোড শো করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ওড়িশার মতো মধ্যপ্রদেশেও তিনি ১০টি সভা করেছেন। ঝাড়খণ্ডে ৭টি সভা করেছেন, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড় যথাক্রমে পাঁচটি এবং চারটি করে সভা করেছেন মোদী।
দক্ষিণ ভারতে বিজেপির শক্তি তুলনায় অনেকটাই কম। দক্ষিণের পাঁচটি রাজ্যে মোট ৩৫টি সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ১১টি সভা করেছেন কর্নাটকে। যেখানে এক বছর আগেও সরকারে ছিল বিজেপি। এছাড়া, তেলঙ্গানায় এবং তামিলনাড়ুতে সাতটি করেল সভা করেছেন। নিজ রাজ্য গুজরাটে মোদী সভা করেছেন পাঁচটি। পঞ্জাবে প্রধানমন্ত্রী সভা করেছেন চারটি, হরিয়ানায় তিনটি এবং দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখন্ডে দুটি করে জনসভা করেছেন তিনি।
উত্তর-পূর্ব ভারতে অবশ্য এবার প্রধানমন্ত্রী সভা করেননি বললেই চলে। মাত্র দুটি সমাবেশ করেছেন তিনি। আর জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত এলাকায় মাত্র ১টি সভা করেছেন তিনি।
