PM Modi: ‘জীবনটা শুধু পরীক্ষা নয়’, মাষ্টারমশাই মোদী, পড়ার প্যাটার্ন নিয়ে পডুয়াদের কী বোঝালেন?
Pariksha Pe Charcha: গুজরাটের এক পড়ুয়া বলে যে তাঁর মা-বাবা, শিক্ষকরা সকলে আলাদা আলাদা প্যাটার্নে পড়তে বলেন। এতে তারা কনফিউজ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদী পড়ুয়াদের বোঝান যে প্রত্যেক পডুয়ারই একটা নিজস্ব পড়ার ভঙ্গি রয়েছে, তাল রয়েছে।

নয়া দিল্লি: শুধু পাঠ্য পুস্তক নয়, জীবনের পরীক্ষার পাঠও দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। বলা চলে, প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ শিক্ষকের ভূমিকায় দেখা গেল নরেন্দ্র মোদীকে। পড়ুয়াদের মনোবল বাড়ালেন তিনি, বললেন পরীক্ষাকে উৎসবের মতো নিতে। একইসঙ্গে তিনি পডুয়াদের সোশ্যাল মিডিয়াও সতর্কভাবে ব্যবহার করতে বলেন। অনলাইন বেটিং গেম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।
পরীক্ষা পে চর্চা (Pariksha Pe Charcha)-র নবম সংস্করণ এটি। এবারের পরীক্ষা পে চর্চা সমস্ত রেকর্ড ভেঙেছে। প্রায় সাড়ে চার কোটি পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকরা নিজেদের নাম রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষকের ভূমিকায় দেখতে এবং পড়াশোনা নিয়ে তাঁর কাছ থেকে টিপস নিতে।
এ দিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী পড়ুয়াদের পেপ-টক দিয়ে বলেন, “তোমাদের মা-বাবা, শিক্ষক বা পরিচিতরা, যে যাই বলুক না কেন, নিজের উপরে বিশ্বাস রাখো এবং নিজের প্যাটার্ন অনুসরণ করো। আমাদের লক্ষ্য সবসময় সীমার মধ্যে থাকা উচিত। কিন্তু এমন লক্ষ্য নয় যা সহজেই অর্জন করা যায়…সবসময় শিক্ষকের থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকো।”
গুজরাটের এক পড়ুয়া বলে যে তাঁর মা-বাবা, শিক্ষকরা সকলে আলাদা আলাদা প্যাটার্নে পড়তে বলেন। এতে তারা কনফিউজ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদী পড়ুয়াদের বোঝান যে প্রত্যেক পডুয়ারই একটা নিজস্ব পড়ার ভঙ্গি রয়েছে, তাল রয়েছে। তিনি পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলেন।
তিনি আরও বলেন যে এরকম সকলের সঙ্গেই হয়। এমনকী তাঁর সঙ্গেও হয়। পড়ুয়াদের বুঝিয়ে বলেন যে কেউ সকালে সবথেকে ভাল পড়তে পারে। কারোর আবার রাত জেগে না পড়লে, পড়া মনে থাকে না। তাই নিজের প্যাটার্নেই ভরসা রাখা উচিত এবং সেই অনুযায়ী পড়া উচিত।
শিক্ষকদেরও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন যে পড়ানোর গতি এমনভাবে সামান্য এগিয়ে রাখতে, যাতে পড়ুয়াদের পড়াশোনা আরও সহজ হয়। যেমন ইতিহাস পড়াতে গেলে আগেই যদি শিক্ষক জানিয়ে দেন যে পরবর্তী অধ্যায় বা চ্য়াপ্টার কী হতে চলেছে, তাহলে পড়ুয়ারাও নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারবে।
আরেক পড়ুয়া প্রধানমন্ত্রী মোদীকে প্রশ্ন করেন যে দক্ষতা বেশি জরুরি নাকি পরীক্ষার খাতায় নম্বর? উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রাখাই আসল দক্ষতা। শিক্ষা গ্রহণ করা, নিজের দক্ষতা বাড়ানো এবং নিজের হবি-কে লালন-পালন করা উচিত। এটাই জীবনের উন্নতির পথ।
একইভাবে জীবনের দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা এবং দুয়ের মাঝে ভারসাম্য রাখার কথা বলেন তিনি। মা-বাবা না থাকলে রান্না করা, ট্রেনের টিকিট কাটাও জীবনের স্কিলের মধ্যে পড়ে। পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি এই সমস্ত কিছুর উপরও জোর দিতে বলেন তিনি। জীবনে উন্নতির জন্য সুশৃঙ্খল, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
পরীক্ষার প্যাটার্ন বদলাতেই থাকে, তাই অনেকেই পুরনো প্রশ্নপত্র দেখে অনেক চ্যাপ্টার বাদ দিয়ে চলে যায়। এইরকম না করে, কঠোর পরিশ্রম করতে বলেন তিনি। জীবনের পাঠ দিয়ে বলেন, “জীবনটা শুধুমাত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নয়। জীবনের উন্নতির জন্য শিক্ষাকে মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা উচিত।”
সোশ্যাল মিডিয়া বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করতে এবং অনলাইন বেটিং গেম থেকে দূরে থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, “গেমিং অবশ্যই একটা স্কিল। ভারতে এখন ইন্টারনেট ও টেকনোলজি সস্তা। এগুলো সস্তা বলে এর উপরে সময় নষ্ট করো না। নিজের লাভ বা প্রয়োজনের জন্য ব্যবহার করো।”
