Mohan Bhagwat: ‘এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় আমাদের সমাজের অংশ’, বললেন মোহন ভাগবত, সমকামী বিয়ে নিয়ে মন্তব্য RSS প্রধানের?
Mohan Bhagwat on LGBTQ: এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়, সমকামী বিয়ে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, "এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ও আমাদের সমাজের অংশ এবং সমাজে তাঁদের যথাযথ স্থান থাকা উচিত। ভারতীয় সমাজে বিয়ের উদ্দেশ্য কেবল দু'জন মানুষের একসঙ্গে বসবাস নয়। বিয়ের লক্ষ্য উত্তম প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং একটি সুস্থ সমাজ নির্মাণ করা।"

মুম্বই: জ়েন-জ়িদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর জ়েন-জ়ি (Gen-Z) সম্পর্কে তাঁর মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, “তাঁর মতে, জেন-জিরা অনেক বেশি সৎ। তাঁদের রোল মডেল হিসেবে অনুসরণ করা উচিত।” এই অনুষ্ঠানে জ়েন-জ়ি (Gen-Z Protest), তাঁদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা, সোশ্যাল মিডিয়া, সমাজে সমকামী বিবাহ নিয়েও বেশ কিছু মন্তব্য করেন তিনি।
জ়েন-জ়ি
মোহন ভাগবতের কথায়, “জেন-জি যদি আন্দোলন করে, তার অর্থ এই নয় যে তাঁরা দেশ বিরোধী। নতুন প্রজন্ম আমাদের সমাজ ও দেশেরই অংশ। তাই তাঁদের আপনজন হিসেবে বুঝতে হবে।” তাঁর কথায়, “আন্তরিকতার সঙ্গে কথাবার্তা হলে, তবেই একে অপরের বক্তব্য সঠিকভাবে বোঝা যায়। আজকের জেন-জি ও জেন-আলফা আমাদের প্রজন্মের তুলনায় আরও বেশি সৎ।”
শিক্ষা ও নতুন প্রজন্ম
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে মোহন ভাগবতের মন্তব্য, “শিক্ষা কোনও ব্যবসা নয়, এটি জীবনের অপরিহার্য অংশ বা প্রয়োজন। শিক্ষা সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত এবং প্রত্যেকের কাছে তার পৌঁছনো নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা কেবল সরকারের নয়, সমগ্র সমাজের যৌথ দায়িত্ব। শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু অর্থ উপার্জন বা বিদ্যালয় পরিচালনা নয়। যাঁরা শিক্ষা দেন, তাঁদেরও যথাযথ প্রশিক্ষণ থাকা প্রয়োজন। শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ ব্যয়ের দাবি দীর্ঘদিনের। আমি সেই দাবিকে সমর্থন করি। আমাদের সংগঠনও বৃহৎ পরিসরে বহু বিদ্যালয় পরিচালনা করে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য সব সময় আন্দোলনের প্রয়োজন হয় না। আন্দোলন ছাড়াও পরিবর্তন সম্ভব।
সোশ্যাল মিডিয়া
সোশ্যাল মিডিয়া নিয়েও নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন মোহন ভাগবত। তাঁর কথায়, “সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার কারণে যদি ১০ জন ভুল সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার দায়িত্ব আমারও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিবাচক, সমাজকল্যাণমূলক বিষয়বস্তু ভাগ করে নেওয়া উচিত। জেন-জির মধ্যেও কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল, তা বিচার করার ক্ষমতা গড়ে ওঠা দরকার। প্রবীণ প্রজন্মেরও দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বোঝানো।
জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশ্বিক সম্পর্ক
মোহন ভাগবত বলেন, “দুই দেশের মধ্যে সংঘাত হলে নাগরিকদের নিজেদের সরকারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ভারতের নীতি কোনও দেশকে পরাজিত করা নয়। সংলাপের মাধ্যমে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা। যে কোনও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব। সব পাকিস্তানি ভারতের শত্রু নন। মানুষ ও পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। সংঘাতের সময় সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাকে সমর্থন করা উচিত।”
এলজিবিটিকিউ ও বিয়ে
এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়, সমকামী বিয়ে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, “এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ও আমাদের সমাজের অংশ এবং সমাজে তাঁদের যথাযথ স্থান থাকা উচিত। ভারতীয় সমাজে বিয়ের উদ্দেশ্য কেবল দু’জন মানুষের একসঙ্গে বসবাস নয়। বিয়ের লক্ষ্য ভালো প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং একটি সুস্থ সমাজ নির্মাণ করা। বিয়ের মূল কাঠামো পরিবর্তিত হলে তার সামাজিক বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সমলিঙ্গের বিয়েকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়।
নারীর ভূমিকা
সমাজে নারীর ভূমিকা নিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, “সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা সমান। একে অপরের পরিপূরক। সংঘে নারীদের কোনও স্থান নেই, এই ধারণা সঠিক নয়। অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় নারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও তাঁদের ভূমিকা থাকে।
কর্মসংস্থান
মোহন ভাগবতের কথায়, কর্মসংস্থান মানেই শুধু চাকরি নয়। উদ্যোক্তা হওয়া এবং দক্ষতা অর্জনও কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ দিক। বেকারত্ব কমাতে সব ধরনের কাজকে সমান মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন। সমাজে শ্রমের মর্যাদাবোধ গড়ে তুলতে হবে।
রিজার্ভেশন
সংরক্ষণ নিয়ে আরএসএস প্রধান মনে করেন, “সামাজিক বৈষম্যের কারণেই সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়েছে। যতদিন সামাজিক বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণের প্রয়োজনও থাকবে। এই বিষয়ে আম্বেদকর তাঁর মতামত প্রকাশ করেছিলেন।” তাঁর কথায়, “সংরক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করা উচিত নয়। সব ধরনের উদ্যোগ যদি সৎ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সংরক্ষণের প্রয়োজন শেষ হতে পারে।”
নেতৃত্ব
মোহন ভাগবতের মতে, “নেতৃত্বের প্রথম গুণ হল, একজন মানুষকে আগে নিজেকে নেতৃত্ব দিতে শিখতে হবে। প্রকৃত নেতৃত্ব নিজের ভেতর থেকেই শুরু হয়। নিজের ভেতর থেকেই নেতৃত্ব দিতে শিখতে হবে। একজন নেতার মধ্যে শাস্ত্রে বর্ণিত পাঁচটি গুণ থাকা উচিত। নেতৃত্বের উদ্দেশ্য নতুন নেতা গড়ে তোলা।”
