AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Sikkim Earthquake Reason: জাপান হয়ে যাচ্ছে সিকিম? ক্রমাগত ভূমিকম্পের পিছনে ভয়ঙ্কর কোনও বিপদ ঘাপটি মেরে বসে নেই তো?

Earthquake: তিস্তায় জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যে জলাধার নির্মাণ, যত্রতত্র নির্মাণ , পাহাড়ের অন্দরে রেলপথ তৈরি করতে ডিনামাইট ফাটিয়ে গুহাপথ তৈরি ইত্যাদির ফলে দুর্বল শিলাস্তর কোথাও কোথাও আরও দুর্বল হচ্ছে। তাছাড়া এলাকাটি ভূকম্প মানচিত্রে ৫ থেকে ৬ সিসমিক জোনে চলে গিয়েছে।

Sikkim Earthquake Reason: জাপান হয়ে যাচ্ছে সিকিম? ক্রমাগত ভূমিকম্পের পিছনে ভয়ঙ্কর কোনও বিপদ ঘাপটি মেরে বসে নেই তো?
কেন বারবার ভূমিকম্প হচ্ছে সিকিমে?Image Credit: TV9 বাংলা
| Edited By: | Updated on: Feb 08, 2026 | 3:01 PM
Share

শিলিগুড়ি: সিকিম যেন জাপান! একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে সিকিম। শনিবার রাতেও আবার ভূমিকম্প হল সিকিমে। গত ৬০ ঘণ্টায় ২৬টি ভূমিকম্প হয়েছে সিকিমে। আর সিকিমের ভূমিকম্পের জেরে বারবার কেঁপেছে উত্তরবঙ্গও। এত ঘনঘন ভূমিকম্প কি কোনও অশনী সঙ্কেত দিচ্ছে?

শান্ত পাহাড়ি রাজ্য সিকিম। তবে বিগত কয়েকদিনে ঘনঘন ভূমিকম্পের পর সিকিমকে এখন কেউ কেউ জাপানের সঙ্গে তুলনা করছেন। গতকাল সন্ধে ৬টা ৩৪ মিনিটে প্রথম নামচিতে ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৯। এরপরে সন্ধে ৬টা ৩৫ মিনিটে গেলসিংয়ে ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এরপরও নামচি-মঙ্গনে ছোট ছোট পাঁচটি ভূমিকম্প হয়।

উত্তর সিকিমের মঙ্গনই ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ২.৩। তৃতীয় কম্পনটাও হয় আরও দু’মিনিট পর, ৭টার দিকে। কম্পনের মাত্রা ছিল ২.৩। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শনিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ভূমিকম্পে কাঁপছে সিকিম।

জাপান যেমন ঘনঘন ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে, তার মতোই বারবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে সিকিমও। গত ৬০ ঘন্টায় ২৬টি এমন ধারাবাহিক ভূমিকম্প বিরল, বলছেন বিশেষজ্ঞরাও। এই ছোট ছোট ভূমিকম্প কি বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত? বাড়ছে জল্পনা। নাকি ক্রমাগত শক্তি বেরিয়ে শান্ত হবে ভূগর্ভ?

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান রঞ্জন রায়ের বক্তব্য, সিকিম এখন যেন জাপান বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মতোই হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার নতুন তালিকায় সমগ্র হিমালয়, দার্জিলিং, সিকিম অতি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। এত ভূমিকম্পে শক্তি বেরোচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাতে বিপদ কমছে বলা যাবে না। বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকছেই। গত ৬০ ঘণ্টায় সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ও মাঝারি ভূমিকম্প হয়েছে। যার প্রভাব এদিকেও পড়েছে।”

কিন্তু কেন হঠাৎ এত ভূমিকম্প? রঞ্জন রায়ের বক্তব্য, তিস্তায় জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যে জলাধার নির্মাণ, যত্রতত্র নির্মাণ , পাহাড়ের অন্দরে রেলপথ তৈরি করতে ডিনামাইট ফাটিয়ে গুহাপথ তৈরি ইত্যাদির ফলে দুর্বল শিলাস্তর কোথাও কোথাও আরও দুর্বল হচ্ছে। তাছাড়া এলাকাটি ভূকম্প মানচিত্রে ৫ থেকে ৬ সিসমিক জোনে চলে গিয়েছে। ফলে এলাকাটি এখন অতি ভূমিকম্প প্রবণ হয়ে উঠেছে। চ্যুতিপ্রবণ এলাকা হওয়ায় ফলে বিপদের আশঙ্কা থাকছেই। বড় ভূমিকম্প হলে তার প্রভাবে বাংলার উত্তরের জেলাগুলিতেও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

কেন এত ভূমিকম্প? তিনি বলেন, “যদি ভাল করে দেখেন তিস্তায় যেভাবে লো ড্যাম প্রজেক্ট তৈরি হয়েছে, সেগুলির পর ভূমিকম্প হচ্ছে। একটা কারণ হতে পারে, তিস্তার প্রজেক্টে প্রচুর জল ধরে রাখা হচ্ছে, সেই জলের চাপ থেকে ভূমিকম্প হতে পারে। দ্বিতীয়ত, এখানকার মাটি ভঙ্গুর। আর তাছাড়া এখানে অনেক নির্মাণ কাজ হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অবৈজ্ঞানিক। তিনতলার উপরে বাড়ি তৈরি করা যায় না। সেখানে বড় বড় বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। অনুমতি নেই যেখানে, সেখানেও কাজ হচ্ছে। এগুলো তো চিন্তার। যে কোনও দিন বড় বিপদ ঘটতে পারে। ছোট ভূমিকম্পে চাপ কিছুটা মুক্ত হলেও, পাতের সংঘর্ষে ভূমিকম্প হলে, তা থেকে ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।”

অন্যদিকে, শিলিগুড়ি কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ ভূগোল অধ্যাপক রঞ্জন সরকার এই ঘনঘন ভূমিকম্প নিয়ে বলেন, “ভূমিকম্প প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এটা আগে থেকে বলা যায় না। কিন্তু যেভাবে ঘনঘন ভূমিকম্প হচ্ছে, এটা এলার্ট এবং এলার্ম। শুধরে যেতে হবে। যদি ট্র্যাক রেকর্ড দেখেন, গড়ে অনেক ছোট-বড়, মাঝারি মাপের ভূমিকম্প হয়েছে। এটা খুব দু:শ্চিন্তার বিষয়। হঠাৎ করেই বারবার ছোট ও মাঝারি ভূমিকম্প হচ্ছে। পাহাড়ে তাকিয়ে দেখুন কি অবস্থা সেখানে। তিস্তা খাতে প্রচুর জল মজুত করে রাখা, শিলাস্তর ভঙ্গুর। চাপ সামাল দিতে গিয়েই প্লেটগুলি স্থিতু হতে চাইছে। অতীতেও ভূমিকম্প হয়েছে। কিন্তু এত ঘনঘন ভূমিকম্প হয়নি। যদি ভূমিকম্পের মাত্রা কম থাকে, কিন্তু ঘনঘন হয়, তাহলে যেমন ক্ষতি হয়, তেমনই ভূমিকম্পের মাত্রা যদি বেড়ে যায়, তাহলে সেটা অ্যালার্ট। প্রচুর নির্মাণকাজ, পরিকাঠামোর কাজ হচ্ছে। তবে সতর্ক হতে হবে। একটু ভেবে কাজ করা উচিত। বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিপদ এলে উত্তরেও তার প্রভাব পড়বে।”