AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Supreme Court: ‘হারের ব্যবধান ৩২ লক্ষ, নাম বিবেচনাধীন ৩৫ লক্ষ’, সুপ্রিম কোর্টে বড় আবেদন কল্যাণের

SIR Case Impact on Bengal Election: সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন কল্যাণ বলেন, "যে নামের বিচার এখনও হয়নি তা দ্রুত শেষ না হলে সামনের বছর পৌরসভা নির্বাচন আছে, এরপর পঞ্চায়েত আছে, সেখানে প্রভাব পড়বে।" তৃণমূলের আর এক আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এদিন শীর্ষ আদালতে বলেন, "এখন মনে হচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে চার বছর সময় লাগবে।"

Supreme Court: 'হারের ব্যবধান ৩২ লক্ষ, নাম বিবেচনাধীন ৩৫ লক্ষ', সুপ্রিম কোর্টে বড় আবেদন কল্যাণের
সুুপ্রিম কোর্টে কী বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: May 11, 2026 | 4:12 PM
Share

কলকাতা: এসআইআর-এ প্রায় ৩৫ লক্ষ ভোটারের আবেদন ঝুলে রয়েছে ট্রাইব্যুনালে। বাংলায় ভোটের ফলে এর প্রভাব কতটা পড়েছে, এবার সেই প্রশ্ন উঠল সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতে এসআইআর মামলায় তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, হারের ব্যবধান ৩২ লক্ষ। আর ৩৫ লক্ষ নামের বিচার বাকি রয়েছে। ইলেকশন পিটিশন ফাইল করার জন্য অনুমতি চেয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কাছে আবেদন জানান কল্যাণ। এই আবেদনের পরিপেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানাল, এর জন্য ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন (IA) করতে হবে।

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে এবার বিজেপি ভোট পেয়েছে ২ কোটি ৯২ লক্ষ ২৪ হাজার ৮০৪টি। আর তৃণমূল ভোট পেয়েছে ২ কোটি ৬০ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৪টি। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৩২ লক্ষ। তবে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। আর তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। এদিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে কল্যাণ বলেন, “৩১টা এমন আসন রয়েছে, যেখানে যত নাম ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীন রয়েছে, তার থেকে কম ব্যবধানে ভোটের ফল হয়েছে।” একটি আসনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “৮৬২ ভোটে আমাদের প্রার্থী হেরেছেন। সেখানে ৫ হাজার নাম বাদ গিয়েছে।”

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু তখন বলেন, এ ব্যাপারে তাঁরা ইলেকশন পিটিশন ফাইল করতে পারেন। তখন শীর্ষ আদালতের কাছে কল্যাণ আবেদন করেন, “এই গ্রাউন্ডে ইলেকশন পিটিশন ফাইল করার অনুমতি দিন।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কল্যাণের উদ্দেশে বলেন, “আপনি আলাদা করে IA (ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন। একটি মামলা চলাকালীন কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়ার জন্য আবেদন করা) ফাইল করুন। কমিশনের তরফে মিস্টার নাইডু তাঁদের যা বলার বলবেন। আমরা খতিয়ে দেখে নির্দেশ দেব।”

এদিকে, এসআইআরের ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। এদিন সুপ্রিম কোর্টে সেই প্রসঙ্গও উঠে। তা নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “কেউ যদি ব্যক্তিগত গ্রাউন্ডে পদত্যাগ করেন, সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।” সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন কল্যাণ বলেন, “যে নামের বিচার এখনও হয়নি তা দ্রুত শেষ না হলে সামনের বছর পৌরসভা নির্বাচন আছে, এরপর পঞ্চায়েত আছে, সেখানে প্রভাব পড়বে।” তৃণমূলের আর এক আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এদিন শীর্ষ আদালতে বলেন, “এখন মনে হচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে চার বছর সময় লাগবে।” তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, “কতদিনের মধ্যে শুনানি শেষ করা সম্ভব, তা বোঝার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্ট দরকার।”

বাংলায় যেভাবে এগিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া-

বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রথম থেকে চাপানউতোর রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও প্রায় ৬০ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। এরপর সেই সব নাম খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হয়। জুডিশিয়াল অফিসাররা সেইসব নামের নিষ্পত্তি করেন। বিবেচনাধীনের তালিকায় থাকা যে ভোটারদের নাম বিচারকদের নির্দেশে ভোটার তালিকায় ওঠেনি, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। কিন্তু, ভোটের সময়ও ৩৫ লক্ষ ভোটারের আবেদন ট্রাইব্যুনালের বিবেচনার জন্য পড়ে ছিল।  সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্দেশ দিয়েছিল, ট্রাইব্যুনাল ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের নামের নিষ্পত্তি করবে, তার মধ্যে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, তাঁরা প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। আর ২৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল যাঁদের নামের নিষ্পত্তি করবে, তার মধ্যে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, তাঁরা ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট দিতে পারবেন। তবে ২ দফায় যে নামের নিষ্পত্তি হয়েছিল, তা খুবই কম। প্রথম দফার ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৩৬ জনের নাম উঠেছিল। দ্বিতীয় দফার আগে ১৪৬৮ জনের নাম যুক্ত হয়েছিল।

Follow Us