Maharshtra CM Power: মুখ্যমন্ত্রীর সুপার-পাওয়ার! মন্ত্রীর সিদ্ধান্তও চাইলে বদল বা খারিজ করতে পারবেন এই মুখ্যমন্ত্রী
Maharashtra Rules of Business: রাজ্যের মন্ত্রীর কাঁধেই ওই বিভাগের দায়িত্ব থাকলেও, এবার থেকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা থাকবে কোনও মন্ত্রীর বিতর্কিত বা বড় কোনও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার বা সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়ার। সেই সিদ্ধান্ত মানতেই হবে।

মুম্বই: মুখ্যমন্ত্রীই সর্বেসর্বা? মুখ্যমন্ত্রীকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে যে তিনি কোনও মন্ত্রীর সিদ্ধান্তকেও বদলে বা খারিজ করে দিতে পারেন। মহারাষ্ট্র সরকারের নতুন নিয়মে এমনই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসকে। সরকারের যুক্তি, জনগণের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্র সরকার জারি করেছে “মহারাষ্ট্র গভর্মেন্ট রুলস অব বিজনেস, ২০২৬”। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এই পদক্ষোপ করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের হাতে অপরিসীম ক্ষমতা থাকবে কোনও মন্ত্রীর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে বা সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর।
রাজ্যের মন্ত্রীর কাঁধেই ওই বিভাগের দায়িত্ব থাকলেও, এবার থেকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা থাকবে কোনও মন্ত্রীর বিতর্কিত বা বড় কোনও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার বা সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়ার। তবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে, অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী কোনও মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদল করলে, সেই সিদ্ধান্তের কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
২০২৩ সালে চন্দ্রপুর জেলা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক নিয়ে কো-অপারেটিভ মন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। এরপর বম্বে হাই কোর্টের নাগপুর বেঞ্চ মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, তৎকালীন ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর স্বাধীন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা মুখ্যমন্ত্রীর ছিল না। ওই রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে মুখ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে।
এখন ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে সরকার স্পষ্টভাবেই এই হস্তক্ষেপের ক্ষমতাকে বিধির অন্তর্ভুক্ত করল। ২০২৩ সালে হাইকোর্ট যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর স্বাধীনভাবে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, সেখানে ২০২৬ সালে প্রণীত নতুন রুলস অব বিজনেসে মুখ্যমন্ত্রীর এমন হস্তক্ষেপের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই ক্ষমতার জোরে মুখ্যমন্ত্রী যে কোনও দফতর থেকে ফাইল তলব করতে পারেন এবং সেই দফতরের মন্ত্রী বাধ্য থাকবেন সেই সমস্ত তথ্য বা ফাইল জমা দিতে।
ফড়ণবীস বনাম শিন্ডে?
তবে এই নতুন নিয়ম শুধু প্রশাসনিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই, এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও। নতুন রুলস অব বিজনেসে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী যদি কোনও মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদল বা খারিজ করেন, তাহলে তা আর বদলানো যাবে না। ২০২৩ সালে একনাথ শিন্ডে যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর সিদ্ধান্ত খারিজ করা হয়েছিল। এখন তিনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী। এখানে স্পষ্টত যে ক্ষমতার লড়াই হতে পারে, তার আন্দাজ এখন থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।
