AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Mithu Mukherjee: উত্তমের প্রিয় হয়ে ‘হোটেল স্নো ফক্স’, প্রযোজকের সঙ্গে প্রেম! মুম্বই যাওয়াই কি কাল হল মিঠুর?

Mithu Mukherjee Career: মৌচাকে রঞ্জিত মল্লিকের বিপরীতে সুন্দরী মিঠুকে দেখে নাকি উত্তম কিছুটা ঈর্ষানীত হয়েছিলেন। আর সেই কারণেই চট জলদি মিঠুকে নিয়ে অভিনয় করেন হোটেল স্নো ফক্স হোটেল ছবিতে। সেই সময় এই ছবি বক্স অফিসে ফ্লপ হলেও, উত্তম-মিঠুর রসায়ন ছবি ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি করেছিল। তবে শুধুই 'হোটেল স্নো ফক্স' কিংবা 'চাঁদের কাছাকাছি'নয়।

Mithu Mukherjee: উত্তমের প্রিয় হয়ে 'হোটেল স্নো ফক্স', প্রযোজকের সঙ্গে প্রেম! মুম্বই যাওয়াই কি কাল হল মিঠুর?
| Updated on: Sep 21, 2026 | 4:54 PM
Share

সত্তরের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের রুপোলি পর্দায় মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন যেন এক জলন্ত অগ্নিশিখা। তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল রঙিন গ্ল্যামার আর স্বাবলম্বী আবেদনের অদ্ভুত এক মিশেল। স্বয়ং মহানায়ক উত্তম কুমারও চেয়েছিলেন মিঠুকে তাঁর নায়িকা করতে। শোনা যায়, মৌচাকে রঞ্জিত মল্লিকের বিপরীতে সুন্দরী মিঠুকে দেখে নাকি উত্তম কিছুটা ঈর্ষানীত হয়েছিলেন। আর সেই কারণেই চট জলদি মিঠুকে নিয়ে অভিনয় করেন ‘হোটেল স্নো ফক্স’ ছবিতে। সেই সময় এই ছবি বক্স অফিসে ফ্লপ হলেও, উত্তম-মিঠুর রসায়ন ছবি ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি করেছিল। তবে শুধুই ‘হোটেল স্নো ফক্স’ কিংবা ‘চাঁদের কাছাকাছি’নয়। উত্তম কুমারের বিপরীতে মিঠুর কাজ যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনই মহানায়ক ও রঞ্জিত মল্লিকের উপস্থিতিতে সর্বকালীন সুপারহিট ‘মৌচাক’ ছবিতে তাঁর চঞ্চল অভিনয় বাঙালি দর্শকের হৃদয়ে আজও চিরস্থায়ী। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘অন্তরমহল’-এর বহু আগে একই প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবি ‘প্রতিমা’-তেও মূল নায়িকা সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল মিঠুকে। এ ছাড়া ‘নিশিকন্যা’, ‘সন্ধি’, ‘প্রার্থনা’-র মতো একের পর এক ছবিতে তাঁর কাজের সিগনেচার রেখেছিলেন তিনি।

টলিউডে যখন সাফল্যের তুঙ্গে মিঠু, তখন ইন্ডাস্ট্রির এক প্রভাবশালী প্রযোজকের বাগদত্তা ছিলেন তিনি। সেই প্রযোজকের বহু ছবিতেই নায়িকা হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হতেন মিঠু। গুঞ্জনে রয়েছে প্রয়োজক চন্দ্র বারোটের সঙ্গে নাকি তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যদিও সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পরিণতির মুখ দেখেনি। তবে একের পর এক চমৎকার ছবিতে তিনি কাজ করে গিয়েছেন।

জয় সেনগুপ্তের বিপরীতে মিঠুর ‘দুজনে’ ছবিটি ছিল তুমুল রঙিন। বাপ্পি লাহিড়ীর সুরে ‘প্রেম কীসে হয় কেউ কি জানে!’ গানটি আজও সমান জনপ্রিয়। আবার তৎকালীন টলিউডে একঝাঁক সুন্দরী নায়িকাদের নিয়ে তৈরি ‘ভাগ্যচক্র’ ছবিতে একদিকে চটুল রূপসী মিঠু, অন্যদিকে আল্পনা গোস্বামী ও নন্দিনী মালিয়া—তিনজনের এক প্রেমিক (জয় সেনগুপ্ত) কেন্দ্রিক টানাপড়েনের গল্প ফুটে উঠেছিল। যদিও সেই ছবিতে সুলতা চৌধুরী ও সমর কুমারের নাচে-গানে ‘ভাগ্যের চাকাটা তো ঘুরছে’ গানটি উৎপলা-সতীনাথ জুটির অমর সৃষ্টি হয়ে রয়ে গিয়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্যিক ও সুরবোধও ছিল মিঠুর। তাঁর নিজের প্রযোজিত ছবিতে লতা মঙ্গেশকর ও পঙ্কজ মিত্রের গাওয়া বিখ্যাত গান—‘আজা নয় রাজা, আনি নয় রানি, জানি জানি আমি জানি’—এই গানটির কথা মিঠু নিজেই লিখেছিলেন।

মুম্বই পাড়িই কি কাল হল মিঠুর?

কেরিয়ারের সুবর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ ছবির অফার পেয়ে সানন্দে মুম্বই পাড়ি দেন মিঠু। উল্লেখ্য, এই দুলাল গুহই ‘দো আনজানে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে বিখ্যাত অমিতাভ-রেখা জুটি তৈরি করেছিলেন। ‘খান দোস্ত’-এর পর হেমা মালিনী ও ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে ‘দিল লাগি’, ‘সফেদ ঝুট’, বিনোদ মেহেরার সঙ্গে ‘ছুটির ফাঁদে’-র হিন্দি রিমেক কিংবা ‘মায়া মালহোত্রা’-র মতো বেশ কিছু হিন্দি ছবিতে তিনি কাজ করেন।

কিন্তু মুম্বইয়ে গিয়ে দেখা গেল, প্রথম সারির নায়িকা হওয়ার বদলে তাঁকে মূলত ‘সেকেন্ড লিড’চরিত্রে আটকে ফেলা হচ্ছে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে যখন তিনি কলকাতায় ফিরে এলেন, ততদিনে গড়াপেটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে।

কলকাতায় ফিরে মিঠু দেখলেন, তাঁর জায়গা দখল করে নিয়েছেন তৎকালীন প্রতিভাবান অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী। প্রযোজকদের প্রথম পছন্দ তখন মহুয়া। অন্যদিকে ‘ত্রয়ী’, ‘থার্টিসিক্স চৌরঙ্গী লেন’ বা ‘বিষবৃক্ষ’ করে টলিউডের নতুন নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন দেবশ্রী রায়। অসিত সেনের ‘প্রার্থনা’ ছবিতেও দেখা গেল, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় ও দেবশ্রী রায়ের পাশাপাশি মিঠুকে নামতে হয়েছে এক বাইজির চরিত্রে। রঞ্জিত মল্লিকের সাথে তাঁর কালজয়ী জুটি (যা ‘স্বয়ংসিদ্ধা’-র মতো সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছিল এবং যে গল্প অনুকরণ করে পরে হিন্দিতেও ছবি হয়) ভেঙে যাওয়ার পেছনেও মিঠুর মুম্বই যাওয়াকেই দায়ী করেন অনেকে। পরবর্তীতে জয় সেনগুপ্ত বা দীপঙ্কর দে-র সঙ্গেও সেই পুরনো রসায়ন তৈরি হয়নি।

তবে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রস্থান কোনও ফ্লপ ছবির কারণে হয়নি। নয়ের দশকের শুরুতে কনওয়ালজিৎ সিংয়ের বিপরীতে তাঁর শেষ ছবি ‘আশ্রিতা’ সুপার-ডুপার হিট হয়েছিল (যে ছবিতে কনওয়ালজিতের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিঠুর নিজের বড়দিদি)।

সাফল্যের চূড়ায় থাকা অবস্থাতেই সংযমের পরিচয় দিয়ে, খ্যাতির আলো মেখে সসম্মানে অন্তরালে চলে যান মিঠু। পরবর্তীকালে মুম্বইয়ের বাসিন্দা হয়ে যান, কলকাতায় এসে প্রিয় মানুষদের নিজ হাতে রেঁধে খাওয়ালেও মিডিয়ার জন্য চিরতরে বন্ধ করে দেন তাঁর ঘরের দরজা। ফ্লপ করে নয়, বরং নিজের জনপ্রিয়তার মধ্যগগনেই তারকা দ্যুতি নিয়ে সরোবরের মতো শান্তভাবে বিদায় নিয়েছিলেন এই রূপসী ম্যাটিনি আইডল।

Follow Us