Viswa Bangla Name Change: বদলে যাচ্ছে বিশ্ব বাংলার সরণির নাম? ‘মহাপ্রভু চৈতন্য’র নামে নতুন রাস্তার নাম কী?
Viswa Bangla Name Change: প্রফুল্ল চাকি, ক্ষুদিরাম বসুর মতো বীর বিপ্লবী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট সাধু-সন্ন্যাসী ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নাম স্থান পেতে চলেছে কলকাতা ও রাজ্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং দেশপ্রেমের ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরা।

কলকাতা: বদলে যাচ্ছে ‘বিশ্ব বাংলা’র নাম। সূত্রের খবর, ‘বিশ্ব বাংলা’র নাম পরিবর্তন করে ভক্তি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নামে নামকরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এতদিন ধরে শহর কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার নাম যে সমস্ত বিদেশি বা বামপন্থী নেতার নামে ছিল, তা সরিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি ও দেশীয় ঐতিহ্যের ধারক-বাহকদের নামে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে, লেনিন কিংবা কার্ল মার্ক্সের নামে থাকা রাস্তাগুলির নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, বাংলা তথা ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে এই সমস্ত বিদেশি ব্যক্তিত্বদের কোনও প্রত্যক্ষ সংযোগ নেই। তার পরিবর্তে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অমর শহীদ ও বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নতুন নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
প্রফুল্ল চাকি, ক্ষুদিরাম বসুর মতো বীর বিপ্লবী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট সাধু-সন্ন্যাসী ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নাম স্থান পেতে চলেছে কলকাতা ও রাজ্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং দেশপ্রেমের ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরা। ঐতিহ্য পুনর্গঠনের এই পদক্ষেপকে রাজ্যের বহু সচেতন নাগরিক ইতিবাচক চোখে দেখছেন।
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তশিল্প ও বস্ত্রশিল্পের প্রচার ও প্রসারের জন্য এই লোগো তৈরি করেছিলেন। সরকারি দফতর, বিভিন্ন প্রকল্প, ওয়েবসাইট এবং পরিকাঠামোয় এই লোগোটি ব্যবহার করা হত। ২০২৬ সালের মে মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা নতুন সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারি দফতর ও পরিকাঠামো যেমন দিঘা বা আসানসোল থেকে ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো সরিয়ে তার জায়গায় জাতীয় প্রতীক ‘অশোকস্তম্ভ’ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
TV9 বাংলাকে রাস্তার নাম বদল কমিটির চেয়ারম্যান কার্তিক মহারাজ বলেন, “কোন আমলে কী করা হয়েছে, সেটা আর দেখার দরকার নেই। ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত যা কিছ, তাকে প্রাধান্য দেওয়া। আমরা শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর নাম চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। কয়েকজন নাম প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখনও গৃহীত হয়নি, হবে।”
মমতা তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি নিজেও চৈতন্যের ভক্ত। আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে পদ্ধতি যেটা ছিল, সেটা মান্যতা দেওয়া উচিত। সেটাকে মান্যতা না দিয়ে নিজে থেকে বললে তো চলবে না। হাউজ়ে পাশ করতে হবে।”
