Supreme Court: চাপ বাড়ছে কাকলি-সুদীপদের? স্পিকারের পদক্ষেপের উপর চলবে নজরদারি, স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট
Supreme Court of India: তৃণমূল ছেড়ে ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনসিপিআই-এ যোগদান করেন। নিজেদের আলাদা দল হিসেবে স্বীকৃতি চান। এই ২০ জন 'বিদ্রোহী' সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে (দশম তফসিল) দ্রুত পদ খারিজের আবেদন জানানো হয়। তবে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তা ঝুলিয়ে রেখেছেন।

নয়া দিল্লি: এনসিপিআই (NCPI) ইস্যুতে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দায়ের করেছিলেন মামলা। বুধবার ছিল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সেই মামলার শুনানি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ অফিশিয়ালি এখনই জানতে চায়নি স্পিকার কত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে, সওয়াল-জবাব পর্ব চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে আর্জি জানান, অধ্যক্ষের পদ যেহেতু স্বতন্ত্র সাংবিধানিক। সেই কারণে সুপ্রিম কোর্ট একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাকে নির্দেশ দিতে পারে না। তবে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, গোটা বিষয়টিতে স্পিকারের পদক্ষেপ নজরদারিতে রাখবে কোর্ট।
শুনানি পর্বে প্রধান বিচারপতি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বলেন, “অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে সময় সীমা জানুন, কতদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” সলিসিটর জেনারেল জানান, স্পিকার স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তার কাজে সুপ্রিম কোর্টের মত আরেকটি সাংবিধানিক সংস্থার নজরদারি কাম্য নয়।
এই আবেদন মেনে আদালত স্পিকারকে নির্দেশ না দিলেও, এই কেসে সুপ্রিম কোর্ট যে মনিটরিং করবে তা বুঝিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি। NCPI-কে চার সপ্তাহের মধ্যেই জবাব দেওয়ার নির্দেশ। তিন মাস পার হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কেন কার্যকরী পদক্ষেপ করা হয়নি। সেই কারণেই স্পিকারের পদক্ষেপ মনিটর করবে সুপ্রিম কোর্ট। পর্যবেক্ষণে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী।
অপরদিকে, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, NCPI-কে বারবার সময় দেওয়া নিয়ে আপত্তি তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, আগের দিনও কোর্ট বলেছিল, স্পিকার এই বিষয়ে তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিক। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সম্মান দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আদালতের ইচ্ছাকে সম্মান করা স্পিকারেরও উচিত। সেইটাই প্রধান বিচারপতি বলেছেন আমাদের পর্যবেক্ষণকেও সম্মান দেওয়া উচিত। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আমরা এখনই নির্দেশ দেব না। তবে দেখতে চাইছি স্পিকার কী কী পদক্ষেপ করছেন এই বিষয়ে। এরপর কোর্ট বলেছে কত দিনের মধ্যে তোমরা উত্তর দেবে? ওরা চার সপ্তাহ সময় চেয়েছে।”
সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, “আমরাই তো অরিজিনাল তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা ২০ জন একজায়গায় আছি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাটক করছেন। তবে আমরা সুপ্রিম কোর্টকে সম্মান করি। এখন তো দিদির কাছে কেউ নেই।”
তৃণমূল ছেড়ে ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনসিপিআই-এ যোগদান করেন। নিজেদের আলাদা দল হিসেবে স্বীকৃতি চান। এই ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে (দশম তফসিল) দ্রুত পদ খারিজের আবেদন জানানো হয়। তবে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তা ঝুলিয়ে রেখেছেন। এরপর গত ২৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা ওঠে। বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করা হয়। আদালতে সলিসিটর জেনারেল জানান যে স্পিকার ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত সাংসদদের নোটিস পাঠিয়েছেন। কোর্ট জানতে চায়, কেন তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ করা হবে না? এর উত্তর এখনও দেননি এই ২০ জন NCPI সাংসদ। আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন তাঁরা।
