Supreme Court on CS: ‘দয়া করে নিজেকে একটু নিচে নামিয়ে আনুন’, কমিশনের বদলি করা মুখ্যসচিবকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
Kaliachak Judges Attack: গত বুধবার কালিয়াচকে সাত বিচারককে ঘেরাও করে রাখার অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যেই সেই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সেদিন রাতে পুলিশ ও প্রশাসনের কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শীর্ষ আদালতে।

নয়া দিল্লি: কালিয়াচকের ঘটনার দিন মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। আগেই এমন অভিযোগ উঠেছিল সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে, সোমবার ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা। মুখ্যসচিবকে এদিন কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে ওইদিনের ঘটনার জন্য তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ভোট ঘোষণার দিন রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে সরানো হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে, বদলে নয়া মুখ্যসচিব হন দুষ্যন্ত নারিয়ালা।
বন্ধ খামে জমা পড়েছে এনআইএ-র রিপোর্ট
বুধবারের কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করে এনআইএ। গত কয়েকদিন ধরে এনআইএ-র টিম যে তদন্ত করেছে, তার উপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট জমা করা হয়েছে। বন্ধ খামে সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। সেখানে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে বলে জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, যদি আরও অন্য কোনও ব্যক্তির যোগ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, অথবা অন্য কোনও দিক উন্মোচিত হয়, তাহলে এনআইএ প্রয়োজনে আরও এফআইআর দায়ের করতে পারে। কলকাতায় এনআইএ কোর্টে তদন্তের বিষয় জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টে।
স্থানীয় পুলিশকে তদন্তের সমস্ত কাগজ এবং এফআইআর অবিলম্বে এনআইএ-কে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, স্থানীয় পুলিশকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার বিষয় আলাদা হলফনামা জমা দিয়েছে কমিশন।
‘কেন প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি?’
মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কাছে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। এদিন মুখ্যসচিবকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কেন প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি?’ উত্তরে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, তিনি দিল্লিতে কাজে গিয়েছিলেন। দুপুরে বিমানে ছিলেন তিনি। তাঁর ফোনে কোনও কল যায়নি।
এ কথা শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনি মোবাইল নম্বর কেন শেয়ার করেননি? আপনার কাছে রাতে ফোন এসেছে, যখন আপনি প্লেন থেকে নেমে গিয়েছেন। আপনাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।”
‘নিষ্ক্রিয়তার একটা লিমিট থাকা উচিত’
মুখ্যসচিবকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনাকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কড়া ভর্ৎসনার ভাষায় বলেন, “নিষ্ক্রিয়তার একটা লিমিট থাকা উচিত।”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “শুধুমাত্র এই ক্ষেত্র নয়, অন্য জায়গাতেও তাদের যেভাবে প্যাম্পার করা হচ্ছে তাতে সবকিছু ঠিক নেই। এই ঘটনা আপনি এবং আপনার প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। আপনার নিষ্ক্রিয়তার কারণেই নির্বাচন কমিশনকে ওই অবস্থায় পড়তে হয়েছে। আপনারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। কমিশনকে এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে আপনাদের নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই যোগাযোগের ঘাটতিই রাজ্যে এত সমস্যা ও অশান্তির সৃষ্টি করেছে। এটা আপনাদের কি ধরনের ক্রেডিবিলিটি?”
আইনজীবী লুথরা বলার চেষ্টা করেন যে ওই দিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেই একটি বৈঠকে ছিলেন। এ কথা শুনেই প্রধান বিচারপতি বলে ওঠেন, “দয়া করে এদের ডিফেন্ড করবেন না।” তারপর বলেন, “এধরনের অত্যন্ত একগুঁয়ে আমলাতান্ত্রিক মনোভাব আমরা অন্যান্য রাজ্যেও দেখছি।”
প্রধান বিচারপতি এরপর মুখ্যসচিবকে বলেন, “আপনার পদমর্যাদা এতটাই বেশি যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো ছোট মানুষরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। দয়া করে নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন, যাতে প্রধান বিচারপতির মতো সাধারন নগণ্য মানুষেরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।”
ভার্চুয়ালি উপস্থিত অফিসারদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “মুখ্যসচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা অনলাইনে উপস্থিত রয়েছেন। আমরা আশা করি, অফিসাররা এখন তাঁদের দায়িত্ব ভালোভাবে বুঝেছেন। যে পরিস্থিতিতে তাঁদের সাড়া দেওয়া এবং উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতিকে সহায়তা করা প্রত্যাশিত ছিল, তা তাঁরা করেননি।” আগামী ১৩ এপ্রিল এনআইএ-কে পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
