Supreme Court: সুপ্রিম কোর্ট এমন কী বলল, সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার হয়ে গেল অভিষেকের PA
Sumit Roy Case: সুমিত রায়কে রক্ষাকবচ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। সেই মতো ৮৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। আর এদিন সুপ্রিম নির্দেশের পরই তাঁর খোঁজে বেরিয়ে পড়ে সিআইডি। পৌঁছে যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে।

নয়া দিল্লি: আর কোনও যুক্তিই ধোপে টিকল না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের (Sumit Roy) সব আর্জি খারিজ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। আর তার এক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হল তাঁকে। বৃহস্পতিবার জমি কেলেঙ্কারির মামলায় সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ। সেই নির্দেশের এক ঘণ্টার মধ্য়েই সুমিতকে গ্রেফতার করল সিআইডি।
এদিন সুমিত রায়ের তরফে আইনজীবী বারবার সওয়াল করার চেষ্টা করেন যে এটা একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সুমিত রায়ের লেনদেন গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “এতদিন যথেষ্ট ছাড় দিয়েছি।”
আমাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়: সুপ্রিম কোর্ট
শালবনীতে সরকারি জমি ব্যক্তিগত মালিকানার জমি দেখিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। সেই মামলাতেই নাম জড়ায় সুমিত রায়ের। জমি বিক্রির টাকা তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ৮৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। সেই ট্রানস্ক্রিপ্ট জমা দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টে। এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুমিত রায় যেভাবে উত্তর দিয়েছে তা থেকে স্পষ্ট, যে এই তদন্তে আমাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।’
আমরা এতদিন যথেষ্ট ছাড় দিয়েছি: বিচারপতি
সুমিত রায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ এদিন সওয়াল করেন, ‘যদি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলকে জেরা করা উচিত।’ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, ‘আমরা এতদিন যথেষ্ট ছাড় দিয়েছি’ (We have given longest possible rope)। এরপরই সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি।
অ্যাকাউন্টের ১৫ কোটি কার?
সুমিতের অ্য়াকাউন্টে ১৫ কোটি টাকা জমা করার হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে উল্লেখ করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। সুমিত রায়ের আইনজীবী দাবি করেন, এফআইআরে সুমিত রায়ের নাম নেই। তিনি আরও দাবি করেন, অ্যাকাউন্টে জমা করার টাকার মধ্যে সুমিতের ব্যক্তিগত টাকা মাত্র ৬০,০০০। বাকি টাকা আদতে তৃণমূলের। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উল্লেখ করেন, ওই টাকার লেনদেনের সঙ্গে আবেদনকারী অর্থাৎ সুমিত রায়ের প্যান কার্ডের যোগ আছে। অবৈধ টাকা যে সুমিত রায়ের কাছে এসেছে, সেই প্রশ্নও ওঠে শীর্ষ আদালতে।
একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম বলানোর চেষ্টা চলছে সুমিতের: আইনজীবী
আইনজীবী শঙ্করনারায়ণন উল্লেখ করেন, সুমিত রায় গোটা সিস্টেমের একটা ক্ষুদ্র অংশ। তাঁর দাবি, পুরো মামলাটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আর তদন্তে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম বলানোর চেষ্টা চলছে।
