Telangana phone-tapping: কংগ্রেস নেতাদের ফোনে আড়ি পাতছিলেন প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্তা! জারি লুকআউট নোটিস
Telangana phone-tapping: রবিবার (২৫ মার্চ), এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে উঠে এল তেলঙ্গানা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রাক্তন প্রধান টি প্রভাকর রাওয়ের নাম। তদন্তকারীদের দাবি, কে চন্দ্রশেখর রাও সরকারের আমলে, টি প্রভাকর রাও-এর নির্দেশে বেআইনিভাবে বিরোধী নেতাদের ফোনে আড়ি পাতা হত। সেখান থেকে ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ করা হত।

হায়দরাবাদ: লোকসভা নির্বাচনের আগে, ফোন-ট্যাপিং অর্থাৎ ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ নিয়ে উত্তাল তেলঙ্গানা। রবিবার (২৫ মার্চ), এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে উঠে এল তেলঙ্গানা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রাক্তন প্রধান টি প্রভাকর রাওয়ের নাম। তদন্তকারীদের দাবি, কে চন্দ্রশেখর রাও সরকারের আমলে, টি প্রভাকর রাও-এর নির্দেশে বেআইনিভাবে বিরোধী নেতাদের ফোনে আড়ি পাতা হত। সেখান থেকে ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ করা হত। বর্তমানে, এই পুলিশ কর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তার নামে লুক আউট নোটিস জারি করেছে তেলঙ্গানা পুলিশ।
হায়দরাবাদে, টি প্রভাকর রাওয়ের রাওয়ের বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। আই নিউজ নামে এক তেলুগু টিভি চ্যানেলের মালিক শ্রবণ রাও-এর বাসভবন সহ আরও প্রায় খান বারো জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। শ্রবন রাও-ও দেশের বাইরে আছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি এক স্থানীয় স্কুলে, ইজরায়েল থেকে আনা ফোন-ট্যাপিং যন্ত্র এবং সার্ভার বসাতে সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ। অভিযুক্তর তালিকায় নাম রয়েছে রাধা কিশান রাও নামে আরেক পুলিশ কর্তারও। তিনি হায়দরাবাদ সিটি টাস্কফোর্সে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর তার জন্যও একটি লুক-আউট নোটিস জারি করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, এই মামলায় তেলঙ্গানার আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত এসপি ভুজঙ্গ রাও এবং তিরুপাথান্না এবং ডেপুটি এসপি প্রণিত রাও, ইতিমধ্যেই এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। তেলুগু পুলিশ জানিয়েছে, ভুজঙ্গ রাও এবং থিরুপাথান্না বেআইনিভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিদের উপর নজরদারি করতেন। তাঁরা তাঁদের অপরাধ স্বীকারও করেছেন। এই সংক্রান্ত প্রমাণ নষ্ট করেছেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। প্রণিত রাওকে চলতি মাসের শুরুতে গ্রেফতার করা হয়েছিল, বাকি দুজনকে গত সপ্তাহে। অভিযোগ, অজানা ব্যক্তিদের প্রোফাইল তৈরি, অননুমোদিত নজরদারি, ইলেকট্রনিক যন্ত্রে সংরক্ষিত কম্পিউটার সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক তথ্য ধ্বংস করেছেন তাঁরা। প্রভাকর রাওয়ের নির্দেশেই এই সকল প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিআরএস পর্যুদস্ত হওয়ার একদিন পরই এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
যে ব্যক্তিদের যন্ত্রে নজরদারি করা হয়েছিল, সেই তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির পর্যন্ত নাম রয়েছে। এছাড়া, বিজেপি এবং কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা, এমনকি, কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের বিআরএস দলের নেতাদের নামও আছে। কয়েকজন তেলুগু অভিনেতা এবং ব্যবসায়ীরও উপরও নজরদারি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁদের অনেককে ব্ল্যাকমেইলও করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এক লক্ষের বেশি ফোন কলে আড়ি পাতা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশের এক সূত্র। কমপক্ষে ৩০ জন পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত হতে পারে। বিআরএস-এর একজন নেতার নামও জড়াতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, তেলেঙ্গানার রাজ্য গোয়েন্দা ব্যুরোর প্রধান লক্ষ্য মাওবাদী কর্মকাণ্ডের উপর নজর রাখা। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এই ব্যুরো বিরোধী দলের নেতাদের কাজকর্মের উপরই নজর রেখেছে বলে জানা গিয়েছে।
