
নয়া দিল্লি: রবিবার পেশ হয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেট। ভোটমুখী বাংলায় কেন্দ্রের এই বাজেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার এই বাজেট নিয়েই বড় মন্তব্য করলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বাঙালিকে বঞ্চনা করা হয়েছে, পাশাপাশি এই বাজেটের কোনও অর্থই নেই বলে মন্তব্য অভিষেকের। এখানেও বাঙালি অস্মিতার ইস্যুকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার জন্য কিছু নেই ৮৫ মিনিটের বাজেটে।” এই বাজেটকে, ‘মিশনলেস-ভিশনলেস-বেসলেস’ বাজেট বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেছেন?
এই বাজেটে বাংলাকে কিছু দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “বাংলার জন্য কিছু নেই ৮৫ মিনিটের বাজেটে। নিমহ্যান্সের কথা বলা হল। একটা অসম আর একটা ঝাড়খণ্ডে তৈরি হবে। দু’টি রাজ্যেই বাংলার এদিক আর ওদিকে। অর্থাৎ, বাংলার মানুষের কিছু হলে হয় অসম নয়ত ঝাড়খণ্ডে যেতে হবে। বাংলায় কিছু করব না। এখানকার দশ কোটি মানুষকে যাঁরা বাংলাদেশি মনে করেন তাঁরা হলেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলার জন্য কোনও বরাদ্দ-আর্থিক সমাধান কিছুই আনেননি বাজেটে। বাংলার কৃষক-মৎস্যজীবী-যুবক কারও জন্য কিছু হয়নি। ৮৫ মিনিট ভাট বকে কাটালেন।”
তৃণমূল সাংসদ এ দিন আরও বলেছেন, “মিশনলেস-ভিশনলেস বাজেট। চূড়ান্ত হতাশা থেকে অর্থমন্ত্রী এই বাজেট পেশ করেছেন। কিছুই নেই । বাংলার মানুষ উপকৃত হবেন এমন কিছুই নেই। শুধু বাংলা নয়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ যেমন কৃষক-যুবকরা কীসে উপকৃত হবেন? চাকরির কোনও কথা নেই, কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নতি কীভাবে হবে? তা নিয়ে কোনও রোড ম্যাপ এখানে করা নেই। এরাই আবার যাঁরা স্কিল ইন্ডিয়া, AI নিয়ে কথা বলেন। তাই বলছি মিশন লেস-ভিশন লেস-বেসলেস বাজেট।”
তবে, বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেন, “এটা ভাতার বাজেট নয়। সাময়িক বাজেট নয়। ভোটের বাজেট নয়। ভারতবর্ষের থেকে যারা বাংলাকে আলাদা ভাবে তারা খুশি হবে না। উন্নয়নমুখী বাজেট। বাংলার ১০ কোটি মানুষ ভারতের সবকটি মানুষের সঙ্গে একই সুবিধা পাবে। ১৫ বছরে এসব দেখার পরও কী এসব উৎকর্ষতা ভাবেন, এই সরকারের কি থাকার প্রয়োজন আছে? কেন্দ্রের সঙ্গে এখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার হলে সমস্ত ধার দেনা মকুব হবে।”