TMC Parliamentary Split: ভাঙনের পথে তৃণমূলের সংসদীয় দল, কী কী সুবিধা হতে পারে মোদী সরকারের?
TMC split could benefit Modi government: সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভাঙন কার্যত নিশ্চিত। ইতিমধ্যে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। নজর দেওয়া হয়েছে দু'টি দিকে। চর্চায় রয়েছে দু'টি বিল। সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভাঙন হলে তা মোদী সরকারের জন্য কী কী সুবিধা এনে দিতে পারে, দেখে নেওয়া যাক

নয়া দিল্লি: ছত্রাকার তৃণমূল। ভেঙে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাধের দল। বিধানসভায় ঋতব্রত-র নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে নতুন ব্লক। এবার সেই একই ছবি দেখা দিতে পারে লোকসভাতেও (Loksabha)। সূত্রের খবর, তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের (Kakali Ghosh Dastidar) নেতৃত্বে তৈরি হতে পারে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের নতুন ব্লক। এই ব্লকে থাকছে একাধিক জনপ্রিয় নাম। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবারই তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় ফাটল ধরতে পারে বলে সূত্রের খবর। বিধানসভার মতো লোকসভাতেও যদি নতুন ব্লক তৈরি হয়, তাহলে লাভবান হতে পারে মোদী সরকার (Narendra Modi Government)। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চর্চায় রয়েছে দু’টি বিল। সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভাঙন হলে তা মোদী সরকারের জন্য কী কী সুবিধা এনে দিতে পারে, দেখে নেওয়া যাক
ডিলিমিটেশন বিল
সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভাঙন কার্যত নিশ্চিত। ইতিমধ্যে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। নজর দেওয়া হয়েছে দু’টি দিকে।
ডিলিমিটেশন বিল (Delimitation Bill) লোকসভায় পাশ করাতে সক্ষম হয়নি বিজেপি সরকার। ইন্ডিয়া জোটের ২৩০ জনের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের কারণে এই বিল পাশ হয়নি। এই প্রথম কোনও বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে সেই বিলের খোলনলচে বদলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্র মারফত খবর, আগামী বাদল অধিবেশনে আবারও ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আসতে পারে বিজেপি সরকার। আর সংসদে যদি তৃণমূলের ভাঙন হয়, তাহলে এই ডিলিমিটেশন বিল পাশের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এক দেশ এক ভোট বিল
চর্চায় রয়েছে এক দেশ এক ভোট বিল। এই বিলে একসঙ্গে লোকসভা এবং রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে। আপাতত এই বিল জেপিসি-র বিবেচনাধীন রয়েছে। আর এই বিল আনার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার।
লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ রয়েছেন ২৮ জন। দলত্যাগ বিরোধী আইনে যাতে ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদরা না পড়েন, সেজন্য দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদকে একজোট করার চেষ্টা চলছে। সূত্রের খবর, বিক্ষুব্ধ সাংসদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে ক্রমশ। রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ও সরব হয়েছেন। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ১৮ জন হতে পারে। সেক্ষেত্রে, বিজেপি সরকার যদি বিল আনে, তাতে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা বিলকে সমর্থন করতে পারে। তাতে লাভ হবে বিজেপিরই।
তৃণমূলের ভাঙনে কীভাবে লাভ হবে বিজেপির?
শুধু তৃণমূল নয়, সূত্রের খবর ইন্ডিয়া জোটের ডিএমকেও এই বিলকে সমর্থন করতে পারে। কারণ, ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে সংঘাতের জেরে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠককে বয়কট করেছেন স্ট্যালিন। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস যে বৈঠকে থাকবে, সেই বৈঠকে তাঁরা থাকবেন না। লোকসভায় ডিএমকে-র সাংসদ সংখ্যা মোট ২২। সেক্ষেত্রে তাঁরাও ডিলিমিটেশন বিলকে সমর্থন করতে পারে। উল্লেখ্য, ৮ জুন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক রয়েছে। দিল্লি যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই বৈঠকের আগেই জোটে ভাঙন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
