
নয়া দিল্লি: নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ফের একবার বাঙালি অস্মিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর, রবিবার রাতেই নোটিস দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। সেই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবকেও সরানো হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ তৃণমূল। সোমবার এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াক আউট করে তৃণমূল।
রাতের অন্ধকারে কেন এভাবে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদলি করে দেওয়া হল, তার প্রতিবাদ করে বিষয়টি রাজ্যসভায় তোলেন ডেরেক ও ব্রায়েন।
প্রতিবাদে সারাদিনের জন্য ওয়াকআউট করল তৃণমূল। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপিই ষড়যন্ত্র করে সরিয়ে দিয়েছে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “মালিক অর্ডার করছে, কর্মীরা কাজ করছে।”
এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “বাংলার প্রথম মহিলা সচিবকে সরিয়ে দিল! যাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে খুশি করার জন্য সেই অফিসার বদল করল।” কুণালের কথায়, “এসব করে কোনও লাভ নেই। মানুষের মন আর মুখ্যমন্ত্রীকে আপনারা বদলাতে পারবেন না।”
তবে বিজেপির দাবি, সুষ্ঠভাবে ভোট করাতে স্তাবক আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্তাবক আধিকারিকদের দিয়ে ভোট করা যায় না। মমতা যাঁদের সাইডলাইন করে রেখেছিলেন, তাঁদের কাজে লাগানো হচ্ছে।” বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়। মুখ্যসচিব বদলের বিষয়টা আগে কখনও হয়নি। তবে প্রশাসনের যা হাল, তাতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এদিন তৃণমূল সংসদে ওয়াকআউট করার পর সমর্থন জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। এদিকে, সংসদে বিজেপি সাংসদ কিরণ রিজিজু বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে, সরাতেই পারে। এই বিষয়টা সংসদে তুলে কোনও লাভ নেই।”