‘প্রতিরক্ষা খাতেও দালালি করেছে কংগ্রেস’, অগ্নিবীরে ১০০ শতাংশ চাকরির গ্যারান্টি, দাবি অনুরাগ ঠাকুরের
Anurag Thakur: অনুরাগ ঠাকুর বলেন, "কংগ্রেসের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কেন মানুষ তাদের বিশ্বাস করবে। নিজের দেশের সেনাদের বীরত্বের উপরে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। বালাকোটে সার্জিকাল স্ট্রাইকে ও চিনের ডোকলামে ভারতীয় সেনার বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছে। ঘরে ঢুকে কড়া জবাব দিয়ে এসেছে। তখন রাহুল গান্ধী কোথায় ছিল?"

নয়া দিল্লি: আবকি বার, ৪০০ পার-এটাই লক্ষ্যমাত্রা বিজেপি তথা এনডিএ শিবিরের। বিজেপির প্রধানমন্ত্রীর মুখ নরেন্দ্র মোদী। চলতি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি কতটা সফল হবে, প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসই বা কতটা অস্বস্তি বাড়াতে পারে, তা নিয়েই এবার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। হিমাচল প্রদেশের উন্নয়ন থেকে কেন্দ্রের উন্নয়ন প্রকল্প, কার্গিল যুদ্ধ থেকে কংগ্রেসের অগ্নিবীর প্রকল্প প্রত্য়াহার, সমস্ত বিষয় নিয়েই কথা বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর প্রথমেই বলেন যে তিনি হিমাচল প্রদেশের ছেলে। রাজ্যের জন্য তিনি যে কাজগুলি করেছেন, তা-ই গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকার হিমাচল প্রদেশের জন্য় কী কী উন্নয়ন কাজ করেছে, তাও তুলে ধরেন অনুরাগ ঠাকুর। তিনি জানান যে কোভিডকালে হিমাচল প্রদেশে রেকর্ড টিকাকরণ হয়েছিল। ২০ হাজার বাড়ি তৈরি হয়েছে। এইমস থেকে শুরু করে ৪টে মেডিক্যাল কলেজ, সুড়ঙ্গ, রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে বিপর্যয় মোকাবিলায় ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি দেওয়া হয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে অগ্নিপথ প্রকল্প। কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ক্ষমতায় এলে তারা এই প্রকল্প প্রত্যাহার করবে। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “কংগ্রেস এমন দল, যা প্রতিরক্ষা খাতেও দালালি করে, বোফর্স, সাবমেরিন দুর্নীতি করেছে। ১০ বছরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট কিনে দেয়নি,ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট কেনেনি। ওয়ান র্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশনে বাধা দিয়েছে।”
অগ্নিবীর প্রকল্পের ব্যাখ্যা দিতে অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “ধরলাম অগ্নিবীর ১০০ জন ভর্তি হয়েছে। ৪ বছর সেনায় পরিষেবা দিতে হবে। তারপর ২৫ জন সেনায় রয়ে গেল। বাকিরা বেতন ছাড়াও ২০ লক্ষ টাকা পেল। এদের এবার সেন্ট্রাল রিজার্ভ ফোর্স, আইটিবিপি, সিআরপিএফ-এ ১০ থেকে ২০ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে, যাতে চাকরি পান। রাজ্যের পুলিশ ফোর্সেও চাকরি পেতে পারেন। ১০০ শতাংশ চাকরির গ্যারান্টি অগ্নিবীরে।”
অগ্নিবীর কি প্রত্যাহার করা সম্ভব, এই প্রশ্নের জবাবে অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “সরকার ভাল পদক্ষেপ করেছে। এতে সেনার বয়সসীমা কমবে, কারণ কম বয়সীদেরই পাহাড়ে চড়তে সুবিধা। কার্গিলের সময়ও হিমাচল থেকে সবথেকে বেশি সেনা ছিল। ৪ ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা, সুবেদার সঞ্জয় কুমার পরমবীর চক্র পেয়েছিলেন। কংগ্রেসের চিন্তাধারা বদলানোর প্রয়োজন। আইন নয়। রাহুল গান্ধী তো নিজের দলের অর্ডিন্যান্স ছিড়ে ফেলেছিলেন। তাঁর বাবা, রাজীব গান্ধী শাহ বানু মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। এরা বারবার সংবিধানের অপমান করেছে। ক্ষমতায় এলে তবে তো বদলাবে আইন।”
তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেসের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কেন মানুষ তাদের বিশ্বাস করবে। নিজের দেশের সেনাদের বীরত্বের উপরে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। বালাকোটে সার্জিকাল স্ট্রাইকে ও চিনের ডোকলামে ভারতীয় সেনার বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছে। ঘরে ঢুকে কড়া জবাব দিয়ে এসেছে। তখন রাহুল গান্ধী কোথায় ছিল? আজ পর্যন্ত কংগ্রেস সাফাই দেয়নি কেন নেহরু-রাজীব গান্ধীকে চিন থেকে টাকা নিতে হয়েছিল।”
মোদী জমানায় দেশের আত্মনির্ভরতার উদাহরণ দিতে চেনাব সেতু, অটল সেতু, সিঙকু লা সুড়ঙ্গের কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশীয় প্রযুক্তিতে তেজস যুদ্ধবিমান তৈরির কথাও বলেন। কংগ্রেস এই উন্নয়নের কথা ভাবতেও পারত না বলেই দাবি অনুরাগ ঠাকুরের।
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি কত আসন পাবে, এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি সাংসদ বলেন, “আমি আসন সংখ্যা নিয়ে কী বলব, রাহুল গান্ধীজি তো রয়েছেন। উনি বলছেন বিজেপি ২৫০ আসন পাবে। যদি বিরোধীরাই এই কথা বলে, তবে ভোটের ফল কী হবে, তা আন্দাজ করতেই পারছেন। লিখে নিন, যে দিন ভোটের ফল প্রকাশ হবে, সেদিন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হবে, তারা কান্নাকাটি করবে। তারপর ইভিএম-কে দোষারোপ করবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেবে যে আর কোনওদিন জোট বাঁধবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইন্ডিয়া জোটের নামকরণ এবং পরে বাইরে থেকে জোটকে সমর্থন করার প্রসঙ্গে অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “মমতাজির নামও তো কেউ ভেবে-চিন্তেই রেখেছিলেন। তাঁর মধ্যে তো মায়া-মমতা নেই। ওখানে সন্দেশখালির মতো ঘটনা ঘটেছে। মহিলাদের উপরে অত্যাচার হয়। শেখ শাহজাহানের মতো অপরাধীকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হয়। কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলছেন বিজেপিকে ভোট দিন, কংগ্রেসকে দেবেন না। ইন্ডি জোটে আসন ভাগাভাগি, প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়েন। কেজরীবাল আদালতের উপরে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। যখন রাজনীতি করতেন না, তখন বলতেন, ইডি-সিবিআই যেন সনিয়া গান্ধীকে তুলে নিয়ে গিয়ে জেরা করে। আর এখন ইডি নয়বার তলব করলেও, হাজিরা দেন না। এই তো বিরোধীদের অবস্থা।”
