
নয়াদিল্লি: বাংলায় এসআইআর শুরুর পর থেকেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নানা ইস্যুতে নিশানা করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালই নয়াদিল্লিতে নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন তিনি। এবার দেশের বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন মমতা। মঙ্গলবার বঙ্গ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকের সময় তিনি বললেন, তাঁরা চান জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট হোক।
এদিন বঙ্গ ভবনে এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। তাঁর পাশে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সেইসময়ই তিনি জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টের কথা বলেন।
কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বারবার বলছেন, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে রেট্রোস্পেকটিভ আইন আনা হবে। সেকথা জানিয়ে সাংবাদিকরা মমতার কাছে জানতে চান, আপনি কি তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন? বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কি ভবিষ্যতে কোনও আইন আনা হতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোনও কিছু যদি জেনুইন হয়, প্র্যাকটিক্যাল হয় এবং জনতার ভালোর জন্য হয়। আমরাও চাইব তাঁর ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের নম্বর নেই। কিন্তু, ইমপিচমেন্ট তো হতে পারে। ধারা তো রয়েছে। রেকর্ড তো হয়ে যাবে। উনি যদি এমন করেন, তবে আমরা আমাদের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থে এককাট্টা হয়ে কাজ করি। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”
গতকাল নির্বাচন সদনে জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে ঘণ্টা খানেকের বেশি বৈঠক করেন মমতা ও তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। এরপর নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে মমতা বলেছিলেন, “এমন আচরণ করছেন যে উনি জমিদার আর আমরা চাকর। আমাদের অপমান, অসম্মান করা হয়েছে। তাই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছি।” আর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মমতা।