
নয়াদিল্লি: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর সরব হয়েছিলেন অভিষেক। বলেছিলেন, জ্ঞানেশ কুমার আঙুল তুলে কথা বলছিলেন। তার প্রতিবাদ করেন তিনি। আর সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতাও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হলেন। বললেন, তাঁদের অপমান, অসম্মান করা হয়েছে। তাই বৈঠক বয়কট করে চলে এসেছেন তাঁরা।
এদিন অভিষেক, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের নিয়ে নির্বাচন সদনে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করতে আসেন মমতা। আর সঙ্গে ছিলেন মৃত ৩ বিএলও-র পরিবার ও এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবার। ঘণ্টাখানেকের বেশি বৈঠকের পর বেরিয়ে এসে কমিশনকে নিশানা করেন মমতা। তৃণমূল সুপ্রিমো মূলত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তোপ দাগেন।
সাংবাদিকদের মমতা বলেন, বৈঠকে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বলে এসেছেন, ‘আপনার অবস্থা ধনখড়ের(বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল ও প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি) মতো হবে। বিজেপির ভয়ে কাজ করছেন।’ জ্ঞানেশ কুমারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ করে মমতা বলেন, “আমাদের অপমান করা হয়েছে। অসম্মান করা হয়েছে। আমরা বৈঠক বয়কট করে চলে এসেছি। জেনে বুঝে আমাদের সঙ্গে এমন খারাপ ব্যবহার করেছেন।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন মানসিকতা নিয়ে কথা বলছেন, যেন উনি জমিদার আর আমরা চাকর।”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, তিনি অনেক নির্বাচন কমিশনার দেখেছেন। কিন্তু, এমন কমিশনার দেখেননি। জ্ঞানেশকে বিজেপির তোতাপাখি বলে আক্রমণ করেন। এর আগে একাধিকবার তৃণমূল সীমা খান্নার প্রসঙ্গ তুলেছে। এই সীমা খান্না ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এদিন মমতার মুখেও সীমা খান্নার নাম শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, “সীমা খান্না কে? কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছেন।”
কমিশনকে নিশানা করলেও এদিন মমতা স্পষ্ট করে দেন, তাঁর দল নির্বাচন বয়কট করবে না। বলেন, “এই ভুল কখনই করব না আমরা। আমরা লড়ে নেব।”