AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কি আদৌ সরানো সম্ভব? কী সেই প্রক্রিয়া

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি মুখ্য় নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট চান। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। এর আগে কখনও দেশের কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো সম্ভব? সরাতে গেলে তার প্রক্রিয়া কী?

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কি আদৌ সরানো সম্ভব? কী সেই প্রক্রিয়া
Image Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Feb 04, 2026 | 6:17 PM
Share

নয়া দিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরিয়ে দিতে যে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার কথা বলেছেন মমতা, তা নজিরবিহীন। এর আগে কখনও দেশের কোনও মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো সম্ভব? সরাতে গেলে তার প্রক্রিয়া কী?

কী বলা আছে সংবিধানে?

ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪(৫) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতিকে যে কারণে ও যে প্রক্রিয়ায় সরানো যায়, সেই একই প্রক্রিয়ায় কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে হয়।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের প্রক্রিয়া কী?

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের প্রক্রিয়ার কথা বলা আছে সংবিধানের ১২৪(৪) নম্বর আর্টিকলে। সেখানে বলা আছে, প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতির অর্ডার ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে সরানো যায় না। এছাড়াও বলা আছে যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে সরাতে হলে সংসদের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে ভোটাভুটি করতে হবে। তারপর সেই ভোটের ফলাফল রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দিতে হবে। অর্থাৎ এই পুরো প্রক্রিয়াই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

কোন কোন কারণে সরানো যায়?

সংবিধানে বলা আছে, অযোগ্যতা ও অক্ষমতা- এই দুই কারণ দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে সরানো সম্ভব। অর্থাৎ চিফ ইলেকশন কমিশনারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম থাকে।

১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন

মোশন আনার পর ভোটাভুটি হয়, কিন্তু মোশন আনার জন্য লোকসভার অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর লাগে, রাজ্যসভার ন্যুনতম ৫০ জন সদস্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব আনতে গেলে সংসদে অনুমোদন করাতে হয়। সেখানে কমপক্ষে ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর লাগে।

‘জাজেস এনকোয়ারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, লোকসভার ১০০ জন ও রাজ্যসভার ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত নোটিস স্পিকার ও চেয়ারম্যানকে দিতে হবে। যদি স্পিকার ও চেয়ারম্যান মনে করেন তিনি এই মোশনে এগোবেন, তাহলে তদন্ত কমিটি তৈরি করা হবে। সেই কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচরপতি, একজন জুরিস্ট ও একটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। যদি তাঁরা অভিযুক্ত বলে মনে করেন, তখন সংসদে প্রস্তাব পেশ করা হবে, এরপর ভোটাভুটি হয়ে পাশ হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে ফলাফল যাবে। তিনি অপসারণ করার নোটিস দেবেন।