Nazia Elahi Khan: পাকিস্তান থেকে শুভেন্দু-যোগীকে খুনের হুমকি! বিজেপি নেত্রীর দাবিতে শোরগোল, কে এই নাজিয়া খান?
Who is Nazia Elahi Khan: ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে উত্তরপ্রদেশে নাজিয়ার একাধিক বক্তৃতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিন্দু রাষ্ট্র দলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিন্দু ধর্ম’ সফরে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। গাজিয়াবাদ ও কানপুরে তাঁর কয়েকটি বক্তৃতার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বক্তৃতাগুলিতে মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়।

নয়া দিল্লি: পাকিস্তানের নম্বর থেকে আসছে প্রাণনাশের হুমকি! টার্গেট আবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিজেপি নেত্রী নাজিয়া খান। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের একটি নম্বর থেকে তাঁকে লাগাতার ফোন ও মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। এই হুমকির পিছনে পাকিস্তানের গ্যাংস্টার শেহজাদ ভাট্টি ও তাঁর সহযোগীদের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। নাজিয়া খানের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, নাজিয়াকে নিরাপত্তা দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু কে এই নাজিয়া খান?
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি পেশায় আইনজীবী নাজিয়া খান। একসময় তিন তালাকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সূত্রে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর ‘হিন্দু ধর্ম’ সফর এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে চর্চা হয়েছে। একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন।
কে এই নাজিয়া ইলাহি খান?
নাজিয়া ইলাহি খান, যিনি ‘নাজিয়া সনাতনী’ নামেও পরিচিত। পেশায় আইনজীবী। তিন তালাক মামলায় আবেদনকারী ইশরাত জাহানের হয়ে আইনি লড়াইয়ের সূত্রে প্রায় এক দশক আগে জাতীয় স্তরে পরিচিতি পান তিনি। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাকের প্রথা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। সেই সময় তিন তালাকের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণে নাজিয়া ও ইশরাত জাহানকে নিজেদের সম্প্রদায়ের একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল।
২০১৮ সালে বিজেপিতে যোগ দেন নাজিয়া ও ইশরাত জাহান। পরে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সঙ্গে যুক্ত হন নাজিয়া। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুসলিম সমাজের বিভিন্ন প্রথা, মাদ্রাসা, ওয়াকফ এবং তিন তালাকের মতো বিষয় নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ‘লাভ জিহাদ’-সহ একাধিক প্রসঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশানা করে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। তাঁর কিছু বক্তব্যকে বিদ্বেষমূলক বলে সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরা।
‘হিন্দু ধর্ম’ সফর ঘিরে বিতর্ক
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে উত্তরপ্রদেশে নাজিয়ার একাধিক বক্তৃতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিন্দু রাষ্ট্র দলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিন্দু ধর্ম’ সফরে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। গাজিয়াবাদ ও কানপুরে তাঁর কয়েকটি বক্তৃতার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বক্তৃতাগুলিতে মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভে যাওয়ার পথে মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন তাঁর গাড়ি অনুসরণ করে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন নাজিয়া। তবে কানপুর দেহাত পুলিশ জানিয়েছিল, তাঁর অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফের লাইমলাইটে নাজিয়া
বিজেপি নেত্রী নাজিয়া দাবি করেছেন, পাকিস্তানের নম্বর থেকে তাঁকে লাগাতার ফোন ও হুমকি মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, শেহজাদ ভাট্টির সহযোগীদের একটি নম্বর থেকে তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে। শুধু তাঁকেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
ভিডিয়ো বার্তায় নাজিয়া দাবি করেছেন, তাঁর কাছে হুমকি ফোন ও মেসেজ আসতে শুরু করে ক্রমাগত। এমনকী, ভয়াবহ ভিডিয়োও পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। লাগাতার ফোন আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, হুমকির ভিডিয়ো ও মেসেজ পশ্চিমবঙ্গের STF এবং উত্তরপ্রদেশের ATS-কে পাঠানো হয়েছে। গাজিয়াবাদ পুলিশের আধিকারিকদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
